হরতালের নামে বিশৃঙ্খলা করলে তা কঠোরভাবে দমন করা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার হাবিবুর রহমান। তিনি বলেন, ‘হরতাল ডাকা ও পালন যেমন গণতান্ত্রিক অধিকার তেমনি জনগণের হরতাল না মানাও গণতান্ত্রিক অধিকার। কেউ যদি হরতালের নামে বিশৃঙ্খলা তৈরি করে পুলিশ সেটা কঠোরভাবে দমন করবে।’ গতকাল শনিবার রাতে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ডিএমপি কমিশনার।
তিনি আরও বলেন, ‘আগামীকাল একটি দল হরতাল আহ্বান করেছে, এই হরতালে কেউ যদি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নষ্ট করে জনগণের জানমালের নিরাপত্তার হুমকি তৈরি করে তাহলে পুলিশ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’
গতকাল শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অনুমতি নিয়েও পুলিশের ওপর বিএনপি নেতাকর্মীদের হামলা ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে এই সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়।
কাকরাইল মসজিদ এলাকায় পুলিশের সদস্যরা থাকলে এই হট্টগোল হতো কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘সেখানে আমাদের পর্যাপ্তসংখ্যক ফোর্স উপস্থিত ছিলেন। তবে বিএনপি শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অনুমতি নিয়ে সহিংসতা করেছে।’
আগামীতে বিএনপিকে এমন কর্মসূচির আর অনুমতি দেওয়া হবে কি না জানতে চাইলে তিনি উত্তর দেননি।
ডিএমপি প্রধান বলেন, ‘বিএনপি লিখিত প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তাদের সমাবেশে ১ লাখ ২০ হাজার মানুষ জমায়েত করবে। কিন্তু ১০টা নাগাদ অসংখ্য নেতাকর্মী কাকরাইলে হামলা করে। প্রধান বিচারপতির বাসভবন, জাজেজ কমপ্লেক্সে হামলা করে। সিসিটিভি ভেঙে ফেলে। রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্সসহ ২৬ গাড়ি আগুনে পুড়িয়ে দেয়। রমনা ডিসি ট্রাফিক অফিসে ভাঙচুর, রাজারবাগ পুলিশ লাইনে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ও পুলিশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ভাঙচুর করে। বক্স কালভার্ট রোডের মোড়ে চাপাতি দিয়ে পুলিশের একজন সদস্যকে হত্যা করে। নির্বিচার প্রাইভেট কার ভাঙচুর করে।’
পুলিশ অত্যন্ত ধৈর্য ও সাহসিকতার সঙ্গে কাজ করেছে উল্লেখ করে হাবিবুর রহমান বলেন, ‘হামলাকারীদের আক্রমণে কয়েকজন পুলিশকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শান্তিপূর্ণ সভা-সমাবেশের প্রতিশ্রুতি দিয়ে যারা সহিংসতা করেছে তাদেরকে যথাযথ আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করানো হবে।’
এদিকে আজকের হরতাল চলাকালে জনগণের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ। গতকাল রাতে পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) বিভাগ থেকে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্বাভাবিক চলাফেরা করা জনগণের মৌলিক অধিকার। জনগণের চলাচলে বাধা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। দেশের জনগণের জানমাল এবং সরকারি সম্পত্তির নিরাপত্তা বিধান বাংলাদেশ পুলিশের আইনি দায়িত্ব। পুলিশ জনগণকে সকল ধরনের নিরাপত্তা প্রদানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নাগরিকরা চলাফেরার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বাধার সম্মুখীন হলে বা আইনি সহায়তার প্রয়োজন হলে নিকটস্থ পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।