ছয় বছর পর আজ সোমবার রাজধানীর পূর্বাচলে বাণিজ্যমেলা মাঠে লাখো ইমামের সম্মেলন ঘটাতে যাচ্ছে সরকার। এ সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় এ সম্মেলনের আয়োজন করেছে। সম্মেলন থেকে ষষ্ঠ দফায় আরও ৫০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। ইতিমধ্যে সম্মেলনের যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় ইমাম সম্মেলনে সারা দেশ থেকে প্রায় এক লাখ ইমামকে আনা হচ্ছে। সম্মেলনে বিশেষ অতিথি থাকবেন মসজিদে নববির ইমাম ও খতিব শায়খ ড. আবদুল্লাহ বিন আবদুর রহমান আল বুয়াইজান। ইতিমধ্যে তিনি বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছেন। সম্মেলনে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ইমামদের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কৃত করা হবে। অনুষ্ঠানে দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম-উলামা, ইমাম-খতিব ও বিভিন্ন মুসলিম দেশের রাষ্ট্রদূতরা উপস্থিত থাকবেন। সংসদ নির্বাচনের আগে এ সম্মেলনকে বিশেষভাবে দেখছেন অনেকে। তারা বলছেন, সম্মেলনে ভোটের বিষয়ে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের দিকনির্দেশনা দেওয়া হতে পারে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা গেছে, দেশে ফাউন্ডেশনের মসজিদভিত্তিক গণশিক্ষা কেন্দ্রে শিক্ষকতার সঙ্গে জড়িত প্রায় ৮০ হাজার আলেম-ওলামা। সরকার তাদের প্রতি মাসে সাড়ে ৫ হাজার থেকে ১১ হাজার টাকা পর্যন্ত সম্মানী ভাতা দিয়ে থাকে। এ শিক্ষকরা ফাউন্ডেশনের ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমির প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। এর বাইরেও কয়েক হাজার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ইমাম আছেন। সেই ইমামদের সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
অনুষ্ঠানে ৫০টি মডেল মসজিদ উদ্বোধন করা হবে। এ সময় দুটি মডেল মসজিদকে ভার্চুয়ালি যুক্ত করা হবে। একটি পাবনার ও আরেকটি কুড়িগ্রামের। এরই মধ্যে ২০২১ সালের ৭ ডিসেম্বর প্রথম পর্যায়ে, ২০২৩ সালের ১৬ জানুয়ারি দ্বিতীয় পর্যায়ে, ২০২৩ সালের ১৬ মার্চ তৃতীয় পর্যায়ে, ১৭ এপ্রিল চতুর্থ পর্যায়ে এবং ৩০ জুলাই পঞ্চম পর্যায়ে ৫০টি করে ২৫০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এ নিয়ে ৩০০টি মডেল মসজিদ চালু হলো।
ঢাকায় মসজিদে নববির খতিব শায়খ বুয়াইজান
ইমাম সম্মেলনে যোগ দিতে মসজিদে নববির ইমাম ও খতিব শায়খ ড. আবদুল্লাহ বিন আবদুর রহমান আল বুয়াইজান ঢাকায় এসে পৌঁছেছেন। গতকাল ভোর ৫টায় তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান, ধর্ম সচিব মুহাম্মদ আবদুল হামিদ জমাদ্দার, বাংলাদশে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ইসা ইউসুফ ইসা আল দোহাইলান, হাব সভাপতি শাহাদাত হোসাইন তসলিম, হজ অফিসের পরিচালক সাইফুল ইসলাম।
২০১৭ সালে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ৪২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ৬ এপ্রিল সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত আলেম-উলামা সম্মেলনে মসজিদে নববির খতিব শায়খ ড. আবদুল মহসিন বিন মুহাম্মদ আল কাসিম এবং মক্কার মসজিদে হারাম পরিচালনা পরিষদের ভাইস প্রেসিডেন্ট শায়খ ড. মুহাম্মদ বিন নাসির আল খুজাইম বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নেন। এর ছয় বছর পর আবার বাংলাদেশ সফরে এলেন মসজিদে নববির কোনো খতিব।
ইমাম ও বিশ্বজয়ী হাফেজদের পুরস্কার দেবেন প্রধানমন্ত্রী
ইমাম সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপস্থিত থেকে বিশ্বজয়ী বাংলাদেশি হাফেজ এবং জাতীয় পর্যায়ের কৃতী ইমামদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করবেন। ইসলামিক ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা গেছে, এ প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার ইমাম প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। তাদের নিয়ে উপজেলা, জেলা ও জাতীয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতা হয়। সেখানে যারা প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় হন তাদের প্রত্যেক বছর জাতীয় সম্মেলনের মাধ্যমে পুরস্কার দেওয়া হয়। প্রত্যেক বছর প্রধানমন্ত্রীর হাত দিয়ে তারা পুরস্কার নেন। কিন্তু নানা কারণে গত কয়েক বছর অনুষ্ঠান করা যায়নি, তাই এবার একটু বড় আকারে অনুষ্ঠান করা হচ্ছে। সম্মেলনে যারা আসবেন তাদের প্রায় সবাই ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ইমাম। প্রশিক্ষণ পাননি এমন ইমামরাও থাকবেন। তবে তা শতকরা ২০ শতাংশের বেশি নয়।
ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমির পরিচালক মো. আনিসুজ্জামান সিকদার দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন, প্রতিবছরই প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ইমামদের নিয়ে সম্মেলন করা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় এবারও সম্মেলন করা হচ্ছে। তবে এবারের আয়োজন একটু বড়। এর উদ্দেশ্য ইসলামের মহান আদর্শ সবার কাছে পৌঁছে দেওয়া।
তিনি আরও বলেন, অনুষ্ঠানে জাতীয়, বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ ইমাম ও খামারিদের নানা ক্যাটাগরিতে পুরস্কার দেওয়া হবে। ২ কোটি ৮ লাখ টাকার পুরস্কার দেওয়া হবে। সঙ্গে থাকবে ক্রেস্ট, সনদ ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বই। জাতীয় পর্যায়ের পুরস্কারপ্রাপ্তরা ৪০ হাজার, বিভাগীয় পর্যায়ে ২০ হাজার ও জেলা পর্যায়ে ৬ হাজার এবং ৬৪ জন শ্রেষ্ঠ খামারি পাবেন ২০ হাজার টাকা। মোটা পুরস্কারপ্রাপ্তদের সংখ্যা ১ হাজার ৬৯৫। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পুরস্কার নেবেন ছয়জন ইমাম ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অনুষ্ঠিত কোরআন প্রতিযোগিতার তিন বিজয়ী। ইমামদের মধ্যে যারা খামারি, এমন ৬৪ জনকে পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে।
ইমাম সম্মেলনে ২৬তম দুবাই আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় (২০২৩) প্রথম স্থান অর্জন করায় হাফেজ সালেহ আহমাদ তাকরিম, ১১তম কুয়েত আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় (২০২২) তৃতীয় স্থান অর্জন করায় হাফেজ মো. আবু রাহাত ও ৪৩তম কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় (২০২৩) তৃতীয় স্থান অর্জন করায় হাফেজ ফয়সাল আহমদকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।