১০ ঘণ্টায় ১১৬১ গাড়ি পার

নদীর তলদেশের টানেল নিয়ে কৌতূহল মেটাতে দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসছে মানুষ। টোল দিয়েই টানেল পার হয়ে ইতিহাসের সাক্ষী হতে চাইছেন অনেকে। টানেল উন্মুক্ত করে দেওয়ার প্রথম ১০ ঘণ্টায় পারাপার হয়েছে ১ হাজার ১৬১ গাড়ি। এই গাড়ির সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়বে বলেই আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গতকাল রবিবার ভোর ৬টা থেকে গাড়ি চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয় কর্ণফুলী নদীর নিচে নির্মিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সড়ক টানেল। কিন্তু প্রথম যাত্রী হয়ে ইতিহাসের খাতায় নাম লেখাতে রাত থেকেই কেউ কেউ গাড়ি নিয়ে অপেক্ষা করতে থাকেন টানেলের দুই প্রান্তে। ভোর ৬টায় আনোয়ারা প্রান্ত থেকে প্রথম যাত্রী হিসেবে টোল দিয়ে টানেলে প্রবেশ করেন মুন্সীগঞ্জের ব্যবসায়ী জুয়েল রানা। অন্যদিকে পতেঙ্গা থেকে টানেল পার হয়ে প্রথম টোল দেন দুলাল সিকদার নামে এক যাত্রী। এরপর দুই প্রান্তে অপেক্ষারত অন্য গাড়িগুলো একে একে টানেল পাড়ি দেয়।

বঙ্গবন্ধু টানেল প্রকল্পের সহকারী প্রকৌশলী মো. তানভির গতকাল বিকেলে দেশ রূপান্তরকে বলেন, সকাল ৬টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত প্রথম ১০ ঘণ্টায় বিভিন্ন ধরনের ১ হাজার ১৬১টি গাড়ি উভয় দিক থেকে টানেল পার হয়েছে। এসব গাড়ি থেকে ২ লাখ ৪৫ হাজার ৩৫০ টাকা টোল আদায় হয়েছে। টানেল প্রকল্পের উপপরিচালক আবুল কালাম আজাদ এই প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, প্রথম দিকে অনেকেই কৌতূহল থেকে টানেল দেখার জন্য আসছে। টানেলের কারণে কক্সবাজারসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামের সঙ্গে চট্টগ্রাম শহরসহ চট্টগ্রামের বাইরের সঙ্গে যোগাযোগব্যবস্থায় যে পরিবর্তন এসেছে, সেই সুবিধা এখন অনেকে নেবে। তাই আশা করছি, ক্রমশ টানেল দিয়ে বিভিন্ন ধরনের গাড়ি চলাচল বাড়বে।

টানেল নিয়ে ২০১৩ সালের এক সমীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টানেল চালুর প্রথম বছরে ৬৩ লাখ গাড়ি চলাচল করতে পারে। সে অনুযায়ী হিসাব করে দেখা যায়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল দিয়ে প্রতিদিন ১৭ হাজার ২৬০টি গাড়ি চলাচল করার কথা। এ ছাড়া ২০৩০ সালের মধ্যে এই গাড়ির সংখ্যা ১ কোটি ৩৯ লাখে গিয়ে দাঁড়াবে বলে সমীক্ষায় উল্লেখ করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত শনিবার সকালে বঙ্গবন্ধু টানেল উদ্বোধন করেন। এরপর গাড়ির বহর নিয়ে টানেল পার হয়ে নিজেই টোলবক্সে গাড়ির টোল পরিশোধ করেন।