মামলা শুরু হয়েছে মামলা অনেকেই দেবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন, বিএনপির মহাসমাবেশ ঘিরে সংঘর্ষ, আগুন, ভাঙচুর, পুলিশ সদস্য নিহত এবং অনেকে আহত হওয়ার ঘটনায় মামলা শুরু হয়েছে। অনেকেই মামলা দেবে। যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তারা মামলা দেবে। ইসরায়েলি বাহিনী গাজায় যেভাবে হামলা করেছে, বিএনপিও সেভাবে হামলা করেছে। গতকাল রবিবার দুপুরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

আসাদুজ্জামান খান বলেন, পুরো ঘটনাটি বর্বরোচিত ও জঘন্য। রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মামলা দেবে। পুলিশ মামলা দেবে। প্রধান বিচারপতির বাড়িতে হামলা হয়েছে, এই মামলা তো হবে। সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করে মামলা দেওয়া হবে। বিএনপি নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ অন্যদের কোনো সুনির্দিষ্ট মামলায় গ্রেপ্তারে বিষয়ে তিনি বলেন, ‘দেখুন, তারা মিটিং করেছেন, তারা মিটিংয়ের জন্য বসেছিলেন, তখনই ঘটনাগুলো (শনিবারের ঘটনা) ঘটেছে। তাহলে এর দায় কি তারা এড়াতে পারেন?’  এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শনিবারের হামলা, ভাঙচুর, আগুন এবং পিটিয়ে পুলিশ সদস্যকে মেরে ফেলার ঘটনার বর্ণনা দেন। এখনো একজন পুলিশ ও দুজন আনসার সদস্যে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন।

বিএনপি নাশকতা করতে পারে বলে গোয়েন্দা রিপোর্ট ছিল জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘তারা গাড়ি পোড়াবে, মানুষ মারবে এ ধরনের বিশ্বাস করতে পারি না। আমরা কি বিশ্বাস করতে পারি একজন সভ্য মানুষ একজন পুলিশকে হত্যা করবে? আমাদের বিশ্বাস ভেঙে দিল, তারা কতখানি নৃশংস, কতখানি বর্বর।’ ঘটনার বিষয় তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তারাই (বিএনপি) এসব নাশকতা করে, সহিংসতার বিস্তার করার জন্য ঘটনাগুলো ঘটিয়েছে। ২০১৪ সালে আমরা দেখেছি কীভাবে মানুষ পুড়িয়েছে। এ ঘটনাগুলো ঘটাচ্ছে। জনসাধারণকে রক্ষার জন্য পুলিশ বাহিনী ধৈর্যের সঙ্গে মোকাবিলা করছে। আবার তারা হরতালের ডাক দিয়েছে। আহত হলো পুলিশ, ক্ষতিগ্রস্ত হলো মানুষের গাড়িঘোড়া আর হরতাল ডাকে বিএনপি! যারা নিজেরাই এ ঘটনাটা ঘটাল, তারাই আবার হরতাল ডাকে!’

বিএনপি কার্যালয়ে বাইডেনের উপদেষ্টা পরিচয়ে এক ব্যক্তির সংবাদ সম্মেলন প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আবার বিদেশি একজন নাকি এসে তাদের সমর্থন করছে, আমরা এ বিদেশির পরিচয় জানি না। তিনি একজন আমেরিকান, তার সঙ্গে নাকি জো বাইডেনের সরাসরি কথা হয়, তিনি এগুলো বলেছেন। বিএনপির প্রথম সারির নেতাদের সঙ্গে তিনি গোপন বৈঠক করেছেন। তাকেও জিজ্ঞাসা করি তিনি কীভাবে বিএনপির নেতাদের সঙ্গে গোপন বৈঠকে অংশগ্রহণ করলেন? তিনি কে, তিনি যদি উপদেষ্টা হয়ে থাকেন তাহলে আমার প্রশ্ন রয়েছে। পররাষ্ট্র যে নীতিনৈতিকতা তা কতখানি লঙ্ঘন করেছেন, সেখানেও আমাদের প্রশ্ন রয়েছে।’

যার আঘাতে পুলিশ মারা গেছে, তাকে গ্রেপ্তার করা যায়নি কেন এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘অ্যারেস্ট আমরা চালিয়ে যাচ্ছি। সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে নিশ্চিতভাবে আমরা যাদের চিহ্নিত করব, তাদের অবশ্যই আইনের হাতে সোপর্দ করব। যিনি এটা ঘটিয়েছেন (পুলিশকে মেরে আহত করেছেন) তিনি অসুস্থ হয়ে গেছেন, পেটালেন পুলিশকে আবার তিনিই অসুস্থ হয়ে গেলেন! আমরা এতগুলো ভিডিও দেখে জানলাম, মহাসমাবেশ শেষ হওয়ার আগে কোনো পুলিশ সেখানে যায়নি, কোনো আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীও সেখানে বাধা দেওয়ার জন্য যায়নি।’

আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘গাজার হাসপাতালে ইসরায়েল যেভাবে হামলা চালিয়েছে, বিএনপির হামলার ঘটনা সেটাই মনে করিয়ে দিচ্ছে। বিএনপি নেতাকর্মীরা হাসপাতালেও হামলা চালিয়েছে। হাসপাতালের গাড়িতেও অগ্নিসংযোগ করেছে। এভাবে এক ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে, যাতে সেবিকা ও হাসপাতালকর্মীরা আহত হয়েছেন। এখন গাজার হাসপাতালে ইসরায়েল যেভাবে হামলা চালাচ্ছে, বিএনপির বর্বরোচিত হামলা সে ঘটনাই মনে করিয়ে দেয়।’ তিনি বলেন, ‘সংবাদকর্মী ও পুলিশ সদস্যরা আহত হয়েছেন। আমরা দেখলাম তাদের ইটপাটকেলে এক পুলিশ সদস্য মাটিতে পড়ে যাওয়ার পর ছাত্রদলের এক নেতা এসে পুলিশকে পেটাচ্ছেন। এমনভাবে পিটিয়েছেন, তারপর চাপাতি দিয়ে তার মাথা খণ্ডিত করা হয়েছে। এভাবে নৃশংস বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড আপনারা খুব কম দেখেছেন।’

জামায়াতে ইসলামীর বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তাদের শনিবারের সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। শুধু জামায়াত নয়, নিবন্ধিত দল ছাড়া অনেকেই কিন্তু নানান ধরনের কথা বলছে। জামায়াতকে সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। তারা সেখানে অবস্থান নিয়েছিল, আমরা তাদের কিছু বলিনি। তারা অনুমতি চেয়েছিল, কিন্তু তাদের আমরা অনুমতি দিইনি। আমরা সবই ধৈর্য সহকারে মোকাবিলা করেছি।’

বিএনপি নেতাকর্মীরা ব্যাগে করে ঢিল ও ককটেল নিয়ে এসেছিল : ‘পৃথিবীর কোথাও প্রধান বিচারপতির বাড়িতে হামলার নজির নেই। আমাদের ১০০ পুলিশ আহত হয়েছে। বৃষ্টির মতো ঢিল ছুড়েছে বিএনপি নেতাকর্মীরা। ব্যাগে করে ঢিল ও ককটেল নিয়ে এসেছিল। সেখানে ঢিলে আহত এক পুলিশ সদস্যকে ওদের এক ছাত্রদল নেতা পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করেছে। আমাদের আরেকজন পুলিশ সদস্য মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে।’

গতকাল নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের দুপ্তারার একটি বিদ্যালয় মাঠে আওয়ামী লীগের শান্তির সমাবেশে অংশ নিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, ‘শনিবার তারা শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছিল। সারা দেশ থেকে বিএনপি নেতাকর্মীদের তারা নিয়ে আসল। আমরা বলেছিলাম মাঠে যান, যায়নি। ভেবেছিলাম ওরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি করবে। কিন্তু কী দেখলাম।’