বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে কথা বলতে মিয়ানমার সরকারের একটি প্রতিনিধিদল কক্সবাজারের টেকনাফে এসেছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মিয়ানমার সরকারের ইমিগ্রেশন বিভাগের ৩৪ সদস্যের দলটি রাখাইন স্টেটের মংদু টাউনশিপ থেকে স্পিড বোটে করে টেকনাফের ট্রানজিট ঘাটে এসে পৌঁছায়। নিজ দেশের সেনাবাহিনীর কারণে বাস্তুচ্যুত হয়ে রোহিঙ্গারা এ দেশে আসে। এ বছর তৃতীয়বারের মতো প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে এল।
শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন বিষয়ক কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, মিয়ানমারের এ প্রতিনিধিদলে সে দেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা রয়েছেন।
তিনি জানান, ‘মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের জন্য পাইলট প্রকল্পে ২০৮০ জন রোহিঙ্গার তালিকা করা হয়েছে। তাদের মধ্য থেকে একশ পরিবারপ্রধানের সঙ্গে মিয়ানমারের এ প্রতিনিধিদল কথা বলেছে। প্রতিনিধিদল টেকনাফে সড়ক ও জনপথ বিভাগের রেস্ট হাউজ মিলনায়তনে রোহিঙ্গা পরিবারপ্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় করে।’
তিনি জানান, রাখাইন স্টেটে মিয়ানমার সরকার প্রত্যাবাসনের জন্য যে কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে এবং মডেল ভিলেজ নির্মাণসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি করেছে তার একটি ভিডিও রোহিঙ্গাদের দেখিয়েছে প্রতিনিধিদল।
এ বছর মিয়ানমার সরকারের প্রতিনিধিদলের টেকনাফে এটি তৃতীয় সফর। আগেও মিয়ানমারের ইমিগ্রেশন বিভাগের প্রতিনিধিদল দুই দফায় টেকনাফে এসে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে মতবিনিময় করে গেছে। আর এর মধ্যেই ২০ সদস্যের রোহিঙ্গা প্রতিনিধিদল রাখাইন স্টেট ঘুরে এসেছে।
উল্লেখ্য, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নিপীড়নের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় পাওয়া রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে প্রথম তালিকার ১৬৮ পরিবারের ৪৮০ জনের তথ্য যাচাই ও সাক্ষাৎকার শেষে মিয়ানমারের ১৭ সদস্যের টেকনিক্যাল টিম গত ২২ মার্চ ফিরে যায়। যাদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে বাংলাদেশের আশ্রয়শিবিরে জন্ম নেওয়া ওই পরিবারগুলোর শিশুদেরও নথিভুক্ত করেছে টেকনিক্যাল টিম। তার ধারাবাহিকতায় আবারও বাংলাদেশে আসে মিয়ানমারের প্রতিনিধিদল।