তিন ইঞ্জিনে আজ কালুরঘাট সেতুর পরীক্ষা

‘দইজ্জার তল’ দিয়ে কক্সবাজার যাত্রার পর এবার ট্রেনে চড়ে কক্সবাজার যাত্রা শুরু হতে যাচ্ছে। আর এই যাত্রায় সবচেয়ে বড় বাধা কর্ণফুলী নদীর ওপর ৯৩ বছরের পুরনো ২৩৯ মিটার দীর্ঘ কালুরঘাট সেতু। তিন মাস ধরে সংস্কার কার্যক্রম চালুর পর আজ শনিবার তিন ইঞ্জিন দিয়ে ট্রায়াল হবে কালুরঘাট ব্রিজের। এই ট্রায়ালে উপস্থিত থাকবে বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) বিশেষজ্ঞ টিম এবং রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। ট্রায়াল সফল হলেই রেলে চড়ে কক্সবাজার যাত্রাও সফল হয়ে যাবে।

কালুরঘাট সেতুর ওপর দিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে রেলওয়ে ইঞ্জিন চালানোর কথা স্বীকার করে পূর্বাঞ্চলীয় রেলওয়ের প্রধান প্রকৌশলী আবু জাফর মিঞা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘অবশেষে আমরা কালুরঘাট ব্রিজের ওপর ইঞ্জিন (লোকো) ওঠাতে যাচ্ছি।’

কত ওজনের ইঞ্জিন প্রথমে ট্রায়ালে ওঠাবেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ইঞ্জিন ওঠাতে পারছি, এটাই বড় বিষয়। তবে দিনভর আমরা ট্রায়াল দেব। বুয়েটের বিশেষজ্ঞ টিমও থাকবে। কোথাও কোনো সমস্যা হচ্ছে কি না, তা যাচাই করা হবে।’

তবে প্রকল্পের অন্যা কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তিনটি ইঞ্জিন দিয়ে কালুরঘাট ব্রিজের ট্রায়াল সম্পন্ন করা হবে। ব্রিজের ওপর প্রথমেই উঠবে ২২০০ সিরিজের ১০.৫ টন এক্সেল লোডের ইঞ্জিন। এই ইঞ্জিন সফল হলে ওঠানো হবে ২৯০০ সিরিজের ১১ দশমিক ৯৬ টন এক্সেল লোডের ইঞ্জিন। আর সর্বশেষ ওঠানো হবে ৩১০০ সিরিজের ১৫ টন এক্সেল লোডের ইঞ্জিন। সেই হিসাবে এই তিনটি ইঞ্জিন দিয়ে সকাল ১০টায় পরীক্ষামূলকভাবে কার্যক্রম শুরু হলেও তা দিনভর চলবে। এই ৩১০০ মডেলের ইঞ্জিন দিয়েই কক্সবাজার রুটে ট্রেন পরিচালনা করা হবে।

কালুরঘাট সেতু দিয়ে ট্রেন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যাওয়ার পর গত ১ আগস্ট থেকে ব্রিজটি সংস্কার কার্যক্রম শুরু হয়। তিন মাসের মধ্যে সেপ্টেম্বরের মধ্যে সংস্কার শেষ হওয়ার কথা থাকলেও গতকাল বৃহস্পতিবার কাজ শেষ হওয়ার পর আজ শনিবার তা ট্রায়াল শুরু হচ্ছে। এর আগে ১৯৮৬-৮৭ এবং ২০০৪-০৫ সালে দুই দফায় সেতুর ব্যাপক সংস্কারকাজ শুরু হয়েছিল। উভয় সংস্কারে সেতুর ওপরের পাটাতন পরিবর্তন করে নতুন করে রেললাইন বসানো হয়েছিল। যেহেতু এই সেতু দিয়ে সাধারণ যানবাহনও পরিবাহিত হয়ে থাকে তাই এখানে পিচঢালাই পথ করা হয়। এবারও একইভাবে ব্রিজের সব পাটাতন খুলে নতুন করে লাগানো হয়। শুধু পিলার ও গার্ডার ছাড়া প্রায় সব ধরনের লোহাই নতুন করে লাগানো হয়েছে। এতে এর মজবুত অনেক বেড়েছে বলে প্রকৌশলীরা জানান। প্রাথমিকভাবে ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন পরিচালনা করা যাবে বলে জানা যায়।

এদিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে রেলমন্ত্রীর পূর্বনির্ধারিত ট্রায়াল ট্রেন যাত্রা হচ্ছে না। ৭ নভেম্বর তা হওয়ার কথা ছিল। এ বিষয়ে দোহাজারি-কক্সবাজার রেললাইন প্রকল্পের পরিচালক মোহাম্মদ সবুক্তগীন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আগামীকাল রবি ও সোমবার রেলওয়ের পরিদর্শক রুহুল কাদের আটটি বগি নিয়ে দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত পরিদর্শন করবেন। যেহেতু প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠান এক দিন এগিয়ে আনা হয়েছে, তাই রেলমন্ত্রীর ট্রায়াল রান আর হচ্ছে না। ১১ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজার রুটের ট্রেন পরিচালনা উদ্বোধন করবেন।’

এদিকে ১১ নভেম্বর উদ্বোধন হলেও রেললাইনের সব কাজ সম্পন্ন হয়েছে কি না জানতে চাইলে মোহাম্মদ সবুক্তগীন বলেন, ‘ট্রেন পরিচালনার জন্য সব কাজ শেষ হয়েছে। তবে আরও কিছু কাজ বাকি রয়েছে। আমাদের সিগন্যালিং কাজ এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি।’

উল্লেখ্য, কালুরঘাট ব্রিজ সচল হলে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত ট্রেন পরিচালনায় আর কোনো বাধা থাকবে না। ইতিমধ্যে চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটার ডুয়েল গেজ রেললাইন বসানোর কাজ শেষ। চট্টগ্রাম থেকে দোহাজারী পর্যন্ত ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ এলাকায় মিটার গেজের রেললাইন রয়েছে। এই ৪০ কিলোমিটারের মধ্যে কর্ণফুলী নদীর ওপর ২৩৯ মিটার কালুরঘাট সেতু রয়েছে।