গাজায় হামাস ও ইসরায়েলের চলতি যুদ্ধের মধ্যে গতকাল রবিবার পশ্চিম তীর সফর করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন। রামাল্লা শহরে ফিলিস্তিন কর্র্তৃপক্ষের (পিএ) প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে দেখা করে গাজায় রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেন ব্লিঙ্কেন। এর জবাবে আব্বাস জানান, তার নেতৃত্বাধীন প্রশাসন কোনো ‘বিস্তৃত রাজনৈতিক সমাধান’ ছাড়া উপত্যকায় ফিরবে না।
গাজায় হামাস-নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, ইসরায়েলের হামলায় এখন পর্যন্ত গাজায় ৯ হাজার ৭৭০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। এর মধ্যে ৪ হাজার ৮০০ জনের মতো শিশু।
গতকাল রামাল্লায় ফিলিস্তিন কর্র্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট ফাতাহ পার্টির নেতা মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে দেখা করেন ব্লিঙ্কেন । এ সময় শীর্ষ মার্কিন কূটনীতিক প্রস্তাব দেন, গাজার ভবিষ্যৎ ঘটনাপ্রবাহের ওপর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে পিএর দিক থেকে কেন্দ্রীয় ভূমিকা নেওয়া উচিত।
ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা জানায়, ব্লিঙ্কেনের ওই মন্তব্যের জবাবে আব্বাস বলেন, ‘আমরা একটি বিস্তৃত রাজনৈতিক কাঠামোর মধ্যে দায়িত্ব গ্রহণ করতে প্রস্তুত থাকব যেখানে পশ্চিম তীর, পূর্ব জেরুজালেম ও গাজা উপত্যকা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।’ এ সময় আব্বাস অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানান।
ফিলিস্তিনের দুই অংশ পশ্চিম তীর এবং গাজায় যথাক্রমে ফাতাহ ও হামাসের শাসন চলছে। ২০০৭ সালে গাজা থেকে বিদায় নেয় ফাতাহ। তখন থেকে চলছে হামাসের শাসন। ইসরায়েলি দখলদারি অবসানের লক্ষ্যে ধর্মনিরপেক্ষ ফাতাহ আলোচনার পথ বেছে নিয়ে থাকে। আর ইসলামপন্থি হামাস আগ্রাসী নীতির পক্ষে। রাজনৈতিকভাবে বিভক্ত ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের প্রশ্নে কার্যকর অগ্রগতি না হওয়ার জন্য এই দুই দলের বিভক্তিকে অনেকে দায়ী করে থাকেন।
২৪ ঘণ্টায় তিন শরণার্থীশিবিরে হামলা : গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েল গাজার তিনটি শরণার্থীশিবিরে হামলা চালিয়েছে। সর্বশেষ গাজার মধ্যাঞ্চলের বুরেজি আশ্রয়কেন্দ্রে চালানো হামলায় কমপক্ষে ২০ জন নিহত হয়। এর আগেও এ জায়গায় বেশ কয়েকবার হামলা হয়েছে। এ ছাড়া গতকাল ইসরায়েলি বাহিনী গাজার জাবালিয়া আশ্রয়শিবিরের পাশাপাশি আল-মাঘাজিতেও হামলা করে।
পশ্চিম তীরে অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেনের সফরের দিনে গাজা উপত্যকার আল-মাঘাজি আশ্রয়শিবিরে ইসরায়েলের গোলাবর্ষণে কমপক্ষে ৫০ জন নিহত হয়। ইসরায়েলি প্রশাসন গাজার মানুষেকে উত্তর থেকে দক্ষিণে যাওয়ার জন্য চাপ দিয়ে আসছে। অথচ এ শরণার্থীশিবিরটি অবস্থিত দক্ষিণেই।
গাজার ১৫ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত-জাতিসঘ : জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয়কারী দপ্তর (ওসিএইচএ) জানায়, গাজার চলতি যুদ্ধের কারণে ১৫ লক্ষাধিক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এর মধ্যে জাতিসংঘ কর্র্তৃক স্থাপিত আশ্রয়শিবিরগুলোতে ৭ লাখ ১০ হাজার ২৭৫ জন, ১ লাখ ২২ হাজার হাসপাতাল, গির্জা কিংবা সরকারি ভবনে, ১ লাখ ৯ হাজার ৭৫৫ জন জাতিসংঘ-বহির্ভূত স্কুলে এবং বাকিরা গাজার বিভিন্ন জায়গায় আশ্রয় নিয়েছে।
জাতিসংঘ আরও জানায়, গাজায় স্যানিটেশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে, পানির তীব্র সংকট ক্রমেই ভয়াবহ হচ্ছে। মোটাদাগে, জনস্বাস্থ্যে এক চূড়ান্ত নাজুক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা যাচ্ছে।
ইসরায়েলি মন্ত্রীর পরমাণু হুমকি : গাজার চলতি যুদ্ধের মধ্যে ইসরায়েলের হেরিটেজ মন্ত্রী আমিহাই এলিয়াহু বলেন, পরমাণু অস্ত্রে ফেলে গাজাকে উড়িয়ে দেওয়া উচিত। তবে কট্টর ইহুদিবাদী এ নেতার এমন মন্তব্যের পরই সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়। পরিস্থিতি সামলাতে তাকে মন্ত্রিসভা থেকে সাময়িক সময়ের জন্য সরিয়ে দেওয়া হয়। এ নিয়ে মুখ খুলেছেন স্বয়ং বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, ওই মন্ত্রীর কথার কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। ইসরায়েল আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে গাজায় অভিযান পরিচালনা করছে। বিজয় অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েল তার কাজ অব্যাহত রাখবে।