গাজা শহর ঘিরে আগ্রাসন জোরদার ইসরায়েলের

গাজাকে উত্তর আর দক্ষিণে ভাগ করে উপত্যকার মূল শহরকে ঘেরাও করেছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি আগ্রাসনে নিহতের সংখ্যা ১০ হাজার পার করার দিন গতকাল সোমবার পুরো উপত্যকায় টেলিফোন ও ইন্টারনেট পরিষেবা অচল ছিল। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে, ফোন সংযোগ না থাকায় আহতদের বহন করতে অ্যাম্বুলেন্সও ডাকতে পারছিল না ফিলিস্তিনিরা, যার কারণে গাধায় টানা গাড়িতে করে রোগীদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে। 

গত রবিবার সন্ধ্যা থেকে ব্যাপক বিমান হামলা শুরু করার পাশাপাশি ইসরায়েলের স্থলবাহিনী গাজা শহরকে সম্পূর্ণভাবে ঘিরে ফেলে। অঞ্চলটির টেলিকমিউনিকেশন পরিষেবা বন্ধ করে দেয়। ফিলিস্তিনের টেলিকমিউনিকেশন কর্র্তৃপক্ষ ‘পালটেল’ জানায়, রবিবার সন্ধ্যায় ব্যাপক আকারে অভিযান শুরুর পরই ইন্টারনেট ও মোবাইল ফোন সংযোগ অচল হয়ে পড়ে।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) মুখপাত্র ড্যানিয়েল হাগারি গতকাল সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘এখন গাজা উত্তর আর দক্ষিণে বিভক্ত।’ তিনি জানান, আগের রাতে গাজা শহরকে কেন্দ্র করে হামাসের বিদ্যমান অবকাঠামো, ঘাঁটি ও সুড়ঙ্গে আঘাত হেনেছে ইসরায়েল।  

ইসরায়েলি বিমান হামলায় দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস এবং উত্তর গাজার তাল আজ-জাতার এলাকায় আলাদা হামলায় ১৫ জন নিহত হয়। হামলায় গাজার একমাত্র বিশেষায়িত মানসিক হাসপাতাল আক্রান্ত হয়। গাজা শহরের পেডিয়াট্রিক হাসপাতাল আক্রান্ত হয়। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, রাতভর বিমান হামলায় কমপক্ষে ২০০ জন নিহত হয়। অন্যদিকে, ইসরায়েল বলছে, আগের রাতে তারা ৪৫০টির মতো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করেছে।

নিহত ছাড়াল ১০ হাজার

গাজায় হামাসনিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গতকাল জানায়, গত ৭ অক্টোবরের পর গতকাল পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা ১০ হাজার ২২ জন। এর মধ্যে শিশুই রয়েছে ৪ হাজার ১০৪ জনের মতো। সংঘাতে আহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা ২৫ হাজারের ওপরে। এ ছাড়া ইসরায়েল মাসব্যাপী সংঘাতে ১৯২ চিকিৎসা-সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিকে হত্যা করেছে এবং ৩২টি অ্যাম্বুলেন্সে আক্রমণ চালিয়েছে।

তুরস্কে বিক্ষোভের মুখে ব্লিঙ্কেন, মার্কিন বিমানঘাঁটি আক্রমণের চেষ্টা ইসরায়েল, পশ্চিমতীরসহ পুরো মধ্যপ্রাচ্যে সফর শেষ করে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন তুরস্কে যান। রাজধানী আঙ্কারায় তিনি তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে হামাসের হাতে বন্দি থাকা জিম্মিদের মুক্তির প্রসঙ্গ তোলেন। বৈঠকের পর কোনো যৌথ বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনার কথা জানিয়েছে তুর্কি কর্র্তৃপক্ষ। তবে ব্লিঙ্ককেনের সফরের প্রতিবাদে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়েছে আঙ্কারায়। বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দিতে থাকে, ‘খুনি ব্লিঙ্ককেন, তুরস্ক থেকে চলে যাও।’ এদিকে কয়েক হাজার ফিলিস্তিনপন্থি দক্ষিণ তুরস্কে একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে প্রবেশ করতে চাইলে পুলিশ টিয়ার শেল ও জলকামান ব্যবহার করে বিক্ষোভ রুখে দেয়। আবার কয়েকশ বিক্ষোভকারী আঙ্কারায় মার্কিন দূতাবাসের দিকে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে যায়।

ব্লিঙ্ককেনের সঙ্গে সাক্ষাতের পর তুরস্ক জানায়, তারা গাজায় শর্তহীন যুদ্ধবিরতি চায়। এ ছাড়া জিম্মিদের ছাড়ার ব্যাপারে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে পারস্পরিক আলাপ হতে হবে।

মানবিক যুদ্ধবিরতি চায় জাতিসংঘভুক্ত সংস্থা ও আন্তর্জাতিক দাতব্য সংগঠনগুলো জাতিসংঘভুক্ত সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক দাতব্য সংগঠনগুলো গাজায় অবিলম্বে মানবিক যুদ্ধবিরতির দাবি জানিয়েছে। গত রবিবার ইস্যু করা এই বিবৃতিতে বলা হয়, ‘গাজায় বেসামরিক মানুষের বেদনাদায়ক প্রাণহানির পাশাপাশি ২২ লাখ মানুষকে খাদ্য, পানি, ওষুধ , বিদ্যুৎ, জ্বালানিসহ অত্যাবশ্যকীয় সুবিধার বাইরে রাখা হচ্ছে। যথেষ্ট হয়েছে। এবার এটি বন্ধ করতে হবে।’

 ডব্লিউএইচও, ইউনিসেফ, ডব্লিউএফপি, কেয়ার ইন্টারন্যাশনাল, সেভ দ্য চিলড্রেন, মার্সি কোরসহ অনেক সংগঠন এই বিবৃতিতে অংশ নেয়।

এদিকে জাতিসংঘ জানিয়েছে, গাজায় চলতি সংঘাতে এখন পর্যন্ত সংস্থাভুক্ত ৮৮ কর্মী নিহত হয়েছে। কোনো একক সংঘাতে এর আগে এত বিপুলসংখ্যক কর্মী মারা যায়নি।