রাজধানীতে বিএনপির ডাকা অবরোধে যাত্রীবেশে বাসে উঠে আগুনের ঘটনায় নির্দেশনায় জড়িত অভিযোগে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সূত্রাপুর থানা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আমির হোসেন রকি (২৫) ও তার এক সহযোগী সাকিব ওরফে আরোহানকে (২১) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট গত রবিবার রাতে বাবুবাজার ব্রিজের ওপর অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
সিটিটিসির প্রধান ও অতিরিক্ত কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান গতকাল সোমবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘এই বিএনপি নেতা তার সহযোগীদের পদ পাইয়ে দেওয়া ও অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে আগুন দেওয়ার কাজ করাত। এই নেতার নেতৃত্বে রাজধানীতে প্রতিটি বাসে আগুন দিলে পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হতো বিকাশে টাকা। প্রথম দফায় অবরোধে সহযোগীরা আগুন দিলে যে টাকা দেওয়া হতো তা দ্বিতীয় দফায় দ্বিগুণ দেওয়া হতো। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, রকি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির এক শীর্ষ নেতার প্রত্যক্ষ নির্দেশনা ও আর্থিক সহযোগিতায় কাজ করত। এ ছাড়া রকির নির্দেশে কারা কাজ করেছে সব তথ্য আমরা পেয়েছি। তদন্তের স্বার্থে আমরা তাদের নাম বলছি না। তবে তাদের গ্রেপ্তারে আমরা কাজ করছি।’
গ্রেপ্তার ও ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে এ কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘গত ১ নভেম্বর অবরোধে রাজধানীর মুগদাপাড়া এলাকায় মিডলাইন বাসে আগুন দিয়ে পালানোর সময় আল আমিন নামে একজনকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশ। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে মিজানুর রহমান নামে এক বিএনপির সক্রিয় কর্মীর নাম আসে, যে কি না পরে মিজানকে গাজীপুর থেকে গ্রেপ্তার হয়।’
সিটিটিসির প্রধান আসাদুজ্জামান বলেন, ‘রবিবার রাতে গ্রেপ্তার রকি, সাকিব, আল আমিন ও মিজান দলগতভাবে বিভিন্ন বাসে আগুন দেওয়ার কাজ করছিল। আগুন দেওয়ার সময় তাদের সহযোগীরা মোটরসাইকেল নিয়ে আশপাশে অবস্থান করত। তথ্যের ভিত্তিতে রকির নির্দেশে যাত্রাবাড়ীর দয়াগঞ্জে আগুন দেওয়ার সময় হাতেনাতে দুজনকে গ্রেপ্তার করে যাত্রাবাড়ী থানা-পুলিশ। দ্বিতীয় দফা অবরোধে রবিবার রাজধানীতে ১০টি গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনায় রকির নির্দেশনায় দুটি বাসে আগুন দেওয়া হয়। তার নির্দেশে আরও কয়েকটি টিম সক্রিয় আছে, তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’