গাড়িতে অগ্নিসংযোগকারীদের ধরিয়ে দিলে ২০ হাজার টাকা অর্থ পুরস্কার ঘোষণা করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার হাবিবুর রহমান। গতকাল সোমবার সকালে পেট্রোলপাম্প মালিকদের সঙ্গে বৈঠকে ডিএমপির কমিশনার এমন ঘোষণা দেন।
ডিএমপির কমিশনার বলেন, ‘এই অবরোধে ঢাকায় দিবারাত্রি পুলিশ পোশাকে ও সাদাপেশাকে দায়িত্ব পালন করছে। এটি অনেক বড় শহর, অনেক বেশি মানুষের বসবাস। কিছু কিছু ঘটনা কোথাও কোথাও ঘটে যাচ্ছে। পুলিশ সেগুলো শনাক্ত করছে। তাদের গ্রেপ্তার করছে এবং আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। অনেকে হাতে-নাতে ধরা পড়ার ঘটনাও আছে আমাদের কাছে। এ ক্ষেত্রে যারা ধরিয়ে দিচ্ছে এবং সহায়তা করছে তাদের আমরা পুরস্কারের ব্যবস্থা করেছি।’
থানার কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যেসব থানা এলাকায় পেট্রোলপাম্প রয়েছে, ওই থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দিনে একবার পেট্রোলপাম্প পরিদর্শন করবেন। পেট্রোলপাম্পগুলোর সঙ্গে পুলিশের সম্পর্ক বাড়াতে হবে। যোগাযোগটা সব সময় রাখতে হবে। এ সময় নিকটস্থ ওসি ও ডিউটি অফিসারের নম্বর, পেট্রোলপাম্পে রাখার অনুরোধ করেন।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘আমরা গাড়িতে পেট্রোল বিক্রি করি। অনেকে জেনারেটরের জন্য তেল কেনেন। সেটি বিভিন্ন জায়গা থেকে নেয়। আজকে সিদ্ধান্ত হলো, শুধু গাড়ি ছাড়া আর অন্য কোথাও পেট্রোল বিক্রি করা হবে না। যদি বিক্রি করা হয় কোনো প্রতিষ্ঠানে সেটি জানা থাকতে হবে যে কোন প্রতিষ্ঠানে পেট্রোল লাগে। সেটি জানতে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিচয় দেখে-শুনে তার কাছে বিক্রি করা হবে। অন্যথায় খোলা পেট্রোল বিক্রি করা হবে না। থানার ক্লিয়ারেন্স নিতে হবে। হ্যাঁ, যারা সন্ত্রাসী তারা তো গাড়ির ভেতর থেকে পাইপ লাগিয়ে পেট্রোল বের করতে পারে। তবে সেটি আমি মনে করি দুষ্প্রাপ্য হবে। এতে কিছুটা কমবে বলে আমি মনে করি। একটা পথ বন্ধ করতে পারছি এবং সহজলভ্যতা বন্ধ হবে।’
হাবিবুর রহমান বলেন, ‘কীভাবে আমরা নিরাপদে সামনের দিনগুলো চলতে পারি, এটাই এখন আমাদের মূল উদ্দেশ্য। একটি রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি চলছে। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের রাজনৈতিক কর্মসূচি থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। এটা সবাইকে মেনে নিতে হবে। কারণ আমরা একেক জন একেক দল পছন্দ করি। কিন্তু রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে জ্বালাও-পোড়াও হচ্ছে, পেট্রোলবোমা নিক্ষেপ হচ্ছে। সচেতন নাগরিক হিসেবে পরিবার ও সেক্টরের দায়িত্ব¡শীল হিসেবে প্রতিরোধ গড়তে হবে। এ ধরনের দুর্ঘটনা যাতে না ঘটাতে পারে।’
ডিএমপি কমিশনার পেট্রোলপাম্প মালিকদের অনুরোধ করে বলেন, ‘এর আগে কিন্তু হরতাল-অবরোধের সময় পেট্রোলপাম্পে আগুন দেওয়া হয়েছিল। সে জন্য আমাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। পুলিশের পক্ষ থেকে নিয়ম রয়েছে প্রতি মাসে অন্তত একবার পেট্রোলপাম্প ভিজিট করা। আমাদের অফিসাররা অনেক সময় হয়তো ব্যস্ত থাকায় যেতে পারেন না। এখন যদি আমাদের অফিসাররা যায় তাহলে সহযোগিতা করবেন এবং তথ্য দেবেন। এ ছাড়া পেট্রোলপাম্পের সিসি ক্যামেরা স্থাপন করুন। পুরো পেট্রোলপাম্প এলাকা সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় থাকে সেটি নিশ্চিত করুন।’