চলতি অর্থবছরের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) ষষ্ঠ এবং বর্তমান সরকারের ৯৯তম সভা হবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার। আর এটিই হতে যাচ্ছে বর্তমান সরকারের শেষ একনেক সভা। আগামী সপ্তাহে দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করার কথা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। আর তফসিলের পর আইনি বাধা না থাকলেও রেওয়াজ হিসেবে সাধারণত একনেক সভা করা হয় না। এ হিসেবে এটা সরকারের শেষ একনেক সভা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন। শেষ সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এবং সংস্থার ৩৬টি প্রকল্প অনুমোদন দিতে যাচ্ছে সরকার। এর বাইরেও একনেক সভাপতির অবগতির জন্য যাচ্ছে ছয়টি প্রকল্প।
এদিকে সাধারণত গতকাল মঙ্গলবার হলেও প্রথা ভেঙে এবার একনেক সভা হচ্ছে কাল বৃহস্পতিবার। এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, নিয়মিত একনেক সভা না হওয়া এবং অনেকগুলো প্রকল্প প্রস্তাব জমা হয়ে গেছে। এ ছাড়া আগামী সপ্তাহে যেহেতু তফসিল ঘোষণার কথা রয়েছে, তাই একনেক হওয়ার সুযোগ থাকছে না। এ কারণে প্রথা ভেঙে গতকালের পরিবর্তে কাল বৃহস্পতিবার একনেক সভা হবে।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে , আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের ষষ্ঠ একনেক সভা হবে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই সভায় উপস্থাপনের জন্য নতুন ও সংশোধিত মিলিয়ে ৩৬টি প্রকল্প চূড়ান্ত করা হয়েছে। এরে আগে গত একনেক সভায় ৩২টি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়।
জানা গেছে, একনেক সভার জন্য যে প্রকল্পগুলো তোলা হচ্ছে এর অধিকাংশেরই পিইসি সভা তাড়াহুড়ো করে হয়েছে। দ্রুত সময়ে ডিপিপি যাচাই-বাছাই করে কার্যপত্র তৈরি করে পিইসি সভা করতে হিমশিম খাচ্ছেন পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা। এ কারণে বেশিরভাগ প্রকল্পেই থেকে যাচ্ছে গলদ। কিছু প্রকল্পে বেশি ব্যয়ের প্রস্তাব অনুমোদন পেয়ে যাচ্ছে। ফলে তাড়াহুড়ো করে প্রকল্প নিতে গিয়ে সরকারের অর্থের অপচয় হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশনের একাধিক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, গত একনেক যে প্রকল্পগুলো অনুমোদন হয়েছে, তার মধ্যে কয়েকটির সঠিকভাবে পিইসি সভাই হয়নি। কয়েকটি প্রকল্পে যে পর্যবেক্ষণ দেওয়া হয়েছিল, সেগুলো মানা হয়নি, তারপরও অনুমোদন পেয়েছে। কয়েকটি প্রকল্পে নতুন করে অঙ্গ যুক্ত করা হয়েছে, কিন্তু সেগুলো আর যাচাই-বাছাই করা হয়নি।
একনেক সভার উপস্থাপনের জন্য ৩৬টি প্রকল্পের মধ্যে ২৩টি নতুন এবং ১৩টি সংশোধিত। এর বাইরে একটি প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধির প্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে। এ ছাড়া পরিকল্পনামন্ত্রী কর্তৃক অনুমোদিত ৫টি প্রকল্প একনেক সভাকে অবহিত করা হবে। যেসব প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে, তার মধ্যে ভৌত অবকাঠামো বিভাগের ১৬টি, আর্থসামাজিক অবকাঠামো বিভাগের ৯টি, কৃষি ও পানিসম্পদ ও পল্লী বিভাগের ৯টি এবং বাকি দুটি শিল্প ও শক্তি বিভাগের।
অনুমোদন পেতে যাওয়া প্রকল্পগুলোর মধ্যে স্থানীয় সরকার ও সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের। স্থানীয় সরকার বিভাগের ৮টি, সরকার ও সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের ৬টি। এই দুই বিভাগের রয়েছে ১৩টি প্রকল্প। এ ছাড়া গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ৪টি, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগের দুটি, কৃষি মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দুটি প্রকল্প রয়েছে।
এ ছাড়া একটি করে প্রকল্প রয়েছে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, ভূমি মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয়, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগ, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, সুরক্ষা সেবা বিভাগ, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের।
পরিকল্পনামন্ত্রীর অনুমোদিত প্রকল্প একনেক সভাকে অবহিত করা হবে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের তিনটি এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের একটি করে প্রকল্প প্রস্তাব। এ ছাড়া জননিরাপত্তা বিভাগের একটি প্রকল্প মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য উপস্থাপন করা হবে।