অবসরের পর নির্বাচন নিয়ে রুলের চূড়ান্ত শুনানি শুরু

সরকারি চাকরি বা প্রতিরক্ষা বাহিনী থেকে অবসর-পদত্যাগের পর তিন বছর সময় অতিবাহিত না হলে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া যাবে না গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) এমন বিধানের বৈধতা প্রশ্নে হাইকোর্টের দেওয়া রুলের ওপর শুনানি শুরু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের হাইকোর্ট বেঞ্চে এ শুনানি শুরু হয়। পরবর্তী শুনানি বৃহস্পতিবার ধার্য করেছে হাইকোর্ট।

রিট আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী তানিয়া আমীর ও সাঈদ আহমেদ রাজা। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাসগুপ্ত। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খান মোহাম্মদ শামীম আজিজ।

এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৯ জানুয়ারি গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ১২ (১) ধারার (চ) শর্ত সংবিধানের ১১, ১৯, ২৬, ২৭  ও ৬৬ (২) অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে কেন তা অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না এবং সংবিধানের ৭ (২) অনুচ্ছেদের পরিপন্থী হওয়ায় কেন তা বাতিল ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল দেয় হাইকোর্ট। আরপিওর ১২(১) (চ) ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি প্রজাতন্ত্রের বা সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষের বা প্রতিরক্ষা কর্ম বিভাগের কোনো চাকরি হতে পদত্যাগ করেছেন বা অবসরে গিয়েছেন এবং তার পদত্যাগ বা অবসরে যাওয়ার পর তিন বছর অতিবাহিত না হলে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়া বা থাকার যোগ্য হবেন না। এই বিধান চ্যালেঞ্জ করে অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মকর্তা ও লালমনিরহাটের আদিতমারীর বাসিন্দা মো. শামীম কামাল গত ১৫ জানুয়ারি হাইকোর্টে এ রিট আবেদন করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অমিত দাসগুপ্ত দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘রুলের ওপর শুনানি শুরু হয়েছে। রিটকারীর আইনজীবীদের মূল কথা হলো, সংবিধানে শুধু কর্মরত সরকারি কর্মকর্তাদের নির্বাচনের বিষয়ে বিধিনিষেধ রয়েছে। তাই আরপিওর ওই বিধান অসাংবিধানিক। তাদের শুনানি শেষ হলে আমরাও যুক্তি তুলে ধরব।’