‘রাষ্ট্রদূতদের ডেকে পাঠানো হলে তা হবে দুঃখজনক’

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম বলেছেন, রাষ্ট্রদূতদের কর্মকান্ডের জন্য তাদের ডেকে পাঠানোর প্রয়োজন পড়বে না। যদি প্রয়োজন হয় সেটা হবে দুঃখজনক। তখন আমাদের হাতে কোনো অপশন থাকবে না আর তখন কী করতে হবে, তা আমাদের জানা আছে। তবে বিদেশি কূটনীতিকদের তৎপরতা নিয়ে সরকার চাপ মনে করে না।

গতকাল বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পিটার হাসের বিরুদ্ধে আপত্তিপত্রের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এ মন্তব্য করেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এ ধরনের কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। কোনো রাষ্ট্রদূত যতই সীমালঙ্ঘন করুক না কেন, আমি জানি এটি রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য কঠিন। কিন্তু সবারই আচরণ,

কথাবার্তা, অভিব্যক্তি, এমনকি লেখালেখিও সহনীয় হওয়ার প্রয়োজন আছে।’

শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘বিষয়টা (কূটনীতিকদের তৎপরতা) আমরা পছন্দ করি না। কিন্তু তারপরও তাদের আমরা কালচারাল একটা স্পেস দিয়েছি। এ কালচারটা বাংলাদেশে অনেক দিন থেকে আছে। কিন্তু আমরা চাই, সামনের দিনে তারা এসব কালচার থেকে সরে আসবেন। বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশই নেবে।’

তৎপর এসব রাষ্ট্রদূতের তফসিল ঘোষণার আগে ডেকে পাঠাবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘আমরা অতীতে কিছু রাষ্ট্রদূতকে একা ডেকে কার্যপরিধির বিষয়টা স্মরণ করিয়ে দিয়েছি। চলতি মাসে তাদের সঙ্গে যে যোগাযোগ, আমার মনে হয় নির্বাচনের আগে তারা সতর্ক থাকবেন। কারণ ছয় মাস আগে যে কথাটা বলেছেন, আজকে যদি তারা সেটি পুনরাবৃত্তি করেন তার প্রভাব কিন্তু আরও বেশি হবে। কারণ এখন সবাই নির্বাচন মুডে গেছে। যারা আন্দোলন (বিএনপি) করছেন, তাদের ভাষায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছেন।’

বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেবে বলে মনে করেন প্রতিমন্ত্রী। বিদেশি দূতদের নিয়ে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মন্তব্যের ব্যাপারে সতর্কতার বার্তা দিয়ে শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘আমি অনুরোধ করব সব রাজনৈতিক দলের কর্মীদের, তারা যেন আমাদের কাজে সহায়তা করেন। এমন কোনো কমেন্ট যেন তারা না করেন। আমাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তাদের (দূতদের) ব্যত্যয়গুলো ধরিয়ে দেওয়ার। তাদের (দূতদের) সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন করার বা কোনো কিছু সমস্যা হলে আলোচনা করার। আমরা প্রক্রিয়াগুলো জানি।’

নির্বাচনের তফসিল বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘তফসিল ঘোষণা যেকোনো সময় হয়ে যাবে। এক-দুই সপ্তাহের মধ্যে। এ সময়টা একটা ধৈর্য ধরার প্রয়োজন আছে। রাষ্ট্রদূত যারা আছেন, তারা আমাদের অতিথি। তারা (বিদেশি দূতরা) যদি ভিয়েনা কনভেনশন নাও মানেন, আমাদের রাষ্ট্রের দায়িত্ব আছে।’