সূর্য বা বাতাস না থাকলে সৌর বা বায়ুচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদন বন্ধ রাখতেই হয়। কিন্তু ভূ-পৃষ্ঠের গভীরের উত্তাপ কাজে লাগাতে পারলে বিঘেœর আশঙ্কা থাকে না। মিউনিখ শহরের কাছে ঠিক তেমনই এক উদ্যোগ চলছে। শহর থেকে ৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে একটি জায়গায় ভূগর্ভে খননের কাজ চলছে। আপাতত ১ হাজার ৮০০ মিটার গভীরে পৌঁছানো গেছে। কিন্তু এর দ্বিগুণই হলো লক্ষ্য। কারণে আরও গভীরে খনন করলে যে ভূ-গর্ভস্থ উত্তাপ পাওয়া যাবে তা থেকেই হবে বিদ্যুৎ উৎপাদন! পুরো কাজটি করছে পেট্রোলিয়াম ও গ্যাসের সন্ধান করে এমন বিশেষজ্ঞদের নিয়ে তৈরি নতুন কোম্পানি ইয়াভর।
জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খনন করতে করতে তাদের গরম পাথরের স্তর পর্যন্ত পৌঁছাতে হবে। জিওথার্মাল এনার্জির উপদেষ্টা হিসেবে রায়ান ক্রস বলেন, ‘আমাদের ১০০ থেকে ৮,০০০ মিটার পর্যন্ত খননের অভিজ্ঞতা রয়েছে। কাজের গতি বাড়ছে। জিওথার্মাল খননের জন্য যে প্রযুক্তি ব্যবহার করছি, সেটা অনেকটা শেল গ্যাস সন্ধানের প্রযুক্তির মতো।’ তিনি জানান, শেল গ্যাসের সন্ধানে খননের ব্যয় কমে গেছে। সে কারণেই ইয়াভর কোম্পানির জন্য জিওথার্মাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের লক্ষ্যে মাটির গভীরে খনন করা অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক হয়ে উঠেছে। কোম্পানির কর্ণধার ডানিয়েল ম্যোল্ক জানালেন, বিশ্বে এটাই প্রথম এ ধরনের প্ল্যান্ট। তিনি বলেন, ‘প্রথম ধাপে আমরা সাড়ে চার হাজার মিটার গভীরে পৌঁছাচ্ছি। তাপমাত্রা ও সঠিক পাথরের স্তরের জন্য এতটা গভীরে যেতে হচ্ছে। সেই স্তরে পৌঁছানোর পর আমরা একাধিক গর্ত খুঁড়ে মাটির নিচে এক ধরনের রেডিয়েটর তৈরি করব। সেই গভীরতায় পৌঁছানোর পর ‘ইনক্লাইন্ড পজিশন’ থেকে আরও ৪০০০ মিটার গভীরে খনন শুরু করা হবে। সেখানে পাথরের স্তরের তাপমাত্রা ১৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। খননের যন্ত্রগুলো চৌম্বক সংকেতের মাধ্যমে পরস্পরকে খুঁজে পায় এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী কাজ করে। এভাবে পাতাল জগতে এক পানি-ভরা ‘হিট এক্সচেঞ্জার’ সৃষ্টি হয়। প্রায় বিনামূল্যে উত্তাপের অনন্ত চক্র চলতে থাকে।
ডয়চে ভেলেকে তিনি জানান, খননের সময় বর্জ্য হিসেবে গরম বেলে পাথরের কাটিং ওপরে উঠে আসে। লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছালে ফুটন্ত গরম পরিবেশ সামলাতে হবে। পরে বিশেষ ধরনের পাইপের মাধ্যমে গর্তগুলো ইনসুলেট করা হয়। মাটির নিচে ‘হিট এক্সচেঞ্জার’র কাজ সম্পূর্ণ করতে তিন বছর খননের কাজ চালিয়ে যেতে হবে। সাইটে ২০০ পর্যন্ত শ্রমিক-কর্মী কাজে ব্যস্ত। দুটি গর্তের জন্য দুটি টাওয়ার তৈরি করা হয়েছে। ইঞ্জিনিয়াররা কাছের এক খামারে বাস করছেন। একই সঙ্গে তারা বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট নির্মাণের পরিকল্পনাও করছেন। এক বছরে সেটি গড়ার কাজ শেষ হওয়ার কথা।
প্রকল্পের ম্যানেজার ফাব্রিসিও সেজারিও জানান, কাজ শেষে বিদ্যুতের এক জেনারেটর ১০ হাজার বাসার জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে। সেই প্ল্যান্ট ৮০,০০০ পর্যন্ত বাসার জন্য হিটিংয়েরও ব্যবস্থা করবে।