জাতিসংঘের বিবৃতি

উত্তর গাজায় ফাঁদে পড়েছেন ফিলিস্তিনিরা

উত্তর গাজায় ফিলিস্তিনিরা ফাঁদে বন্দি হয়ে পড়েছেন। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তর (ওএইচসিএইচআর) গতকাল মঙ্গলবার এই সতর্কবার্তা উচ্চারণ করে বলে, উপত্যকার উত্তরাংশে ক্ষুধা, তৃষ্ণা, রোগের মধ্যে ইসরায়েলি আক্রমণের কারণে ফিলিস্তিনিরা বন্দি হয়েছেন। এমন অনেকে রয়েছেন ইসরায়েলি আগ্রাসনের কারণে আহত হয়েও বাড়িতে পরিবারের সঙ্গে রয়েছেন। তারা কোথাও যেতে পারছে না।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স হ্যান্ডেলে (সাবেক টুইটার) ওএইচসিএইচআর বলছে, ‘আমরা শুনতে পেরেছি, অক্ষম মানুষরা আশ্রয়কেন্দ্রে বন্দি হয়ে পড়েছেন। তাদের কাছে উদ্ধারকারী কিংবা মানবিক সহায়তা সরবরাহকারীদের কারওরই সহায়তা পৌঁছাচ্ছে না।’

এদিকে গাজায় প্রধান স্বাস্থ্যকেন্দ্র আল-শিফা হাসপাতালকে কেন্দ্র করে গত কয়েক দিন ধরে ইসরায়েলি বাহিনীর সঙ্গে হামাসের লড়াই চলছিল। ইসরায়েলি সেনারা বারবার হাসপাতালটি লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। গতকাল হামাস নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা আশরাফ আল-কুদরা বলেন, গতকাল হাসপাতালটিতে কমপক্ষে ৪০ জন নিহত হয়েছে।

ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, আল-শিফাকে প্রধান কমান্ড সেন্টারে পরিণত করেছে হামাস। তবে এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে হামাস বলেছে, ইসরায়েলের এই দাবি ভিত্তিহীন।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) বলছে, গাজায় ইসরায়েল যেভাবে হাসপাতালে আক্রমণ চালাচ্ছে তা যুদ্ধাপরাধের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত হওয়া উচিত।

জো বাইডেনের বিরুদ্ধে মামলা

গাজায় গণহত্যা ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ তুলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে নিউ ইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন দ্য সেন্টার ফর কনস্টিটিউশনাল রাইটস (সিসিআর)। ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের আদালতে দায়ের হওয়া এই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ইসরায়েলের গণহত্যা ঠেকাতে আন্তর্জাতিক ও মার্কিন আইন অনুযায়ী নিজের দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হয়েছেন বাইডেন। মামলার আর্জিতে বলা হয়, ইসরায়েলকে সমরাস্ত্র, অর্থ ও কূটনৈতিক সহায়তা দেওয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে যেন বিরত রাখা হয়। এ ছাড়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিনকে গাজার গণহত্যা রুখতে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।

যুদ্ধবিরতির বিনিময়ে জিম্মি ছাড়তে চায় হামাস

হামাস জানিয়েছে, পাঁচ দিনের যুদ্ধবিরতির বিনিময়ে তারা ৭০ জন নারী ও শিশুকে মুক্তি দিতে পারে। গত সোমবার সংগঠনটির সামরিক শাখা আল-কাসাম ব্রিগেডস এই কথা জানায়। তারা বলছে, এ বিষয়ে কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের কাছে তারা প্রস্তাব পাঠিয়েছে। এ নিয়ে ইসরায়েলের অবস্থান এখনো জানা যায়নি

আল-কাসাম ব্রিগেডসের মুখপাত্র আবু উবাইদা অডিওবার্তায় বলেন, গত সপ্তাহে কাতারের ভাইয়েরা শত্রুপক্ষের বন্দিদের ভেতর থেকে নারী ও শিশুদের মুক্তি দেওয়ার একটি প্রচেষ্টা চালায়। এর বিনিময়ে শত্রুর হাতে বন্দি ফিলিস্তিনিদের মধ্যে ২০০ শিশু ও ৭৫ জন নারীকে ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই সমঝোতার জন্য একটি পরিপূর্ণ যুদ্ধবিরতি ও মানবিক ত্রাণ পৌঁছানোর অনুমতি থাকা উচিত।

তিনি জানান, কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের বলা হয়েছে, পাঁচ দিনের যুদ্ধবিরতি হলে ৫০ জনকে মুক্তি  দেওয়া যেতে পারে এবং সংখ্যাটি ৭০ জনেও পৌঁছতে পারে।