উচ্চ আদালতের আদেশ অনুযায়ী সমঝোতার ভিত্তিতে ‘ডিএনসিসি ইউনিক কমপ্লেক্সে’ (হোটেল শেরাটন) নিজেদের হিস্যা বুঝে নিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এবং বোরাক রিয়েল এস্টেট লিমিটেড। এর ফলে হোটেল শেরাটন বাণিজ্যিকভাবে পূর্ণাঙ্গরূপে চালু হতে আর কোনো বাধা নেই।
গত সোমবার ডিএনসিসি কার্যালয়ে ডিএনসিসির পক্ষে মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম ও বোরাক রিয়েল এস্টেটের পক্ষে সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নূর আলী সমঝোতা চুক্তিতে সই করেন। চুক্তি অনুযায়ী ডিএনসিসি তার ন্যায্য হিস্যা বুঝে নিয়েছে। অন্যদিকে বোরাক রিয়েল এস্টেটও নিজ অংশ বুঝে পেয়ে হোটেল শেরাটনের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু করেছে।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী বনানী ডিএনসিসি-ইউনিক কমপ্লেক্সের ২০ তলা বা ২০১ ফুট পর্যন্ত ডিএনসিসি ও বোরাক রিয়েল এস্টেট লিমিটেডের অংশ বুঝে নিয়ে এ চুক্তি হয়। গত ৯ অক্টোবর দুপক্ষের উপস্থিতিতে আদালত বিষয়টি নিষ্পত্তির আদেশ দেয়। সেই আদেশে বলা হয়েছে, সিভিল অ্যাভিয়েশন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ভবনটির ২০১ ফুট উচ্চতা অনুমোদন হয়েছে। তার পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট বিভাগ ভবনের ২১ থেকে ২৮ তলা পর্যন্ত স্থিতাবস্থার আদেশ দেয় এবং ইতিপূর্বে ২০২৩ সালের ১২ জুন এবং ২৯ আগস্টে দেওয়া আদেশ প্রতিপালনপূর্বক শেয়ার স্পেস বুঝে নিয়ে চুক্তি সম্পাদন করতে নির্দেশ দেয়। সেই আদেশের ভিত্তিতেই এ শেয়ার বণ্টন চুক্তি করা হয়। বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াতের হাইকোর্ট বেঞ্চ দীর্ঘ শুনানির পর গত ৯ অক্টোবর এ আদেশ দেয়।
আদালতে বোরাক রিয়েল এস্টেটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও সাবেক বিচারপতি এবিএম আলতাফ হোসেন। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মো. আবু তালেব, শেখ মোসফেক কবির, আবুল কাশেম ও এনামুল হক তুহিন। অন্যদিকে ডিএনসিসির পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ইমতিয়াজ মইনুল ইসলাম নীলিম। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ইমাম হাসান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সাইফুদ্দিন খালেদ।
২৮ তলা পর্যন্ত ভবনের উচ্চতার ক্ষেত্রে আইনগত কোনো বাধা নেই; কারণ তেজগাঁও বিমানবন্দরের উড্ডয়ন কার্যক্রম বন্ধ হওয়ায় ২০০৯ সাল পর্যন্ত বহুতল ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে বনানী এলাকায় উচ্চতার কোনো ঊর্ধ্বসীমা নির্ধারিত ছিল না, এর আগেই হোটেল শেরাটনের ২৮ তলা ভবনটি নির্মিত হয়। ২৮ তলা ভবনটি ২০১৪ সালের মধ্যেই নির্মাণ সম্পন্ন হয়। এমতাবস্থায় কোনো অবস্থাতেই বর্তমান উচ্চতার ঊর্ধ্বসীমা আলোচ্য ভবনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। পরবর্তী সময়ে ২০১ ফুটের ঊর্ধ্ব থেকে ২৮ তলা পর্যন্ত উচ্চতার বিষয়টি আদালতে নিষ্পত্তি হওয়া সাপেক্ষে এর ফ্লোরগুলোর হিস্যা বণ্টনের বিষয়ে কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।
বহুতল এ ভবনটি নির্মাণের পর বোরাক রিয়েল এস্টেটের পক্ষ থেকে স্পেস বণ্টনসংক্রান্ত একটি প্রস্তাবনা ডিএনসিসিকে দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে সেই প্রস্তাবনা ডিএনসিসির করপোরেশন সভায় উপস্থাপন করে সংস্থাটির প্রকৌশল বিভাগ। করপোরেশন সভার আলোকে ২০২২ সালের ২৭ নভেম্বর এবং ২০২৩ সালের ৭ জানুয়ারি ডিএনসিসির দ্বিতীয় পরিষদের ১৮ ও ১৯তম সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক বোরাক রিয়েল এস্টেট কর্তৃক পেশকৃত প্রস্তাবনা অনুযায়ী ডিএনসিসি বর্ধিত ১৫ থেকে ২৮ তলা পর্যন্ত ভবনের ৩০ শতাংশের পরিবর্তে ৪০ শতাংশ হিস্যা লাভ করবে। আর নকশা অনুসারে ১৪ তলা পর্যন্ত চুক্তি অনুযায়ী ডিএনসিসি পাবে ৩০ শতাংশ, বোরাক রিয়েল এস্টেট পাবে ৭০ শতাংশ। ১৫ থেকে ২৮ তলা পর্যন্ত ডিএনসিসি পাবে ৪০ শতাংশ আর বোরাক পাবে ৬০ শতাংশ।
এর আগে ২০০৭ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি বুয়েট কর্তৃক ৩০ তলার স্ট্র্যাকচারাল নকশা ভেটিংসাপেক্ষে একই বছরের ২৫ জুন ঢাকা সিটি করপোরেশনের তৎকালীন অথরাইজড অফিসার (প্রধান প্রকৌশলী) কর্তৃক ৩০ তলা ভবনের নকশা অনুমোদন দেওয়া হয়। ২০০৭ সালেই সিটি করপোরেশন কর্তৃক বিভিন্ন সংস্থা থেকে ৩০ তলার ছাড়পত্র গ্রহণ করা হয়। বুয়েটের ভেটিংয়ের পর বিধি অনুযায়ী প্রযোজ্য সব সংস্থার অনাপত্তি প্রাপ্তি সাপেক্ষে সিটি করপোরেশন কর্তৃক ৩০ তলা ভবনের নকশা অনুমোদনের পর ২৮ তলা ডিএনসিসি ইউনিক কমপ্লেক্সটি নির্মিত হয়।