দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়ায় দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির দুই সদস্যকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি। দলটির এ দুই নেতা নতুন জোট ‘স্বতন্ত্র গণতন্ত্র মঞ্চ’ গঠনের ঘোষণা দিয়ে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবেন বলে গতকাল বুধবার বিকেলে জানান। ওই ঘোষণার পর সন্ধ্যায় বিএনপি তাদের বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের কথা জানাল। বিএনপির এ দুই নেতা হলেন অ্যাডভোকেট খন্দকার আহসান হাবিব ও ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলাম।
দলের সহ-দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানিয়ে বলা হয়, ‘দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট খন্দকার আহসান হাবিব এবং বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলামকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।’
এর আগে বিকেলে মালিবাগের স্কাই সিটি হোটেল লাউঞ্জে সংবাদ সম্মেলন এ দুই নেতা দলের চলমান আন্দোলনে দ্বিমত পোষণ করে নির্বাচনে অংশ নিতে বিএনপিকে আহ্বান জানান। তারা বলেন, ‘নির্বাচনে আসার বিকল্প নেই। সংঘাত এড়িয়ে সংলাপ করে সংকট নিরসন করতে হবে।’
‘স্বতন্ত্র গণতন্ত্র মঞ্চে’র ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তারা আরও দাবি করেন, তাদের সঙ্গে বিএনপির ১২৫ নেতা আছেন। তারা আগামী দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেবেন। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী খন্দকার আহসান হাবিব টাঙ্গাইল-৫ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দেন। আর ব্যারিস্টার এ কে এম ফখরুল ইসলাম ঝালকাঠি-২ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে জানান।
লিখিত বক্তব্যে আরও জানানো হয়, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ২০০১-০৪ মেয়াদের সাবেক ট্রাস্টি স্বপন সরকার রাজবাড়ী-১ আসন থেকে, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাবেক সহসভাপতি টাঙ্গাইল সাদত কলেজের সাবেক ভিপি মনিরুল ইসলাম মিন্টু টাঙ্গাইল-৮ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আহসান হাবিব বিএনপি মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মুক্তির দাবি জানান। বিএনপির অন্যতম নেতা হয়েও নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার ঘোষণায় শৃঙ্খলাভঙ্গের কোনো বিষয় আছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিএনপির গঠনতন্ত্রে এমন কোনো দিকনির্দেশনা আছে বলে আমার জানা নেই। নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলেও কোনো নিবন্ধিত দল বা জোটের সঙ্গে তারা অংশীদার হবেন না।’