গাজায় স্কুলে হামলায় ৫০ জন নিহত

অবরুদ্ধ গাজার উত্তরাঞ্চলে জাতিসংঘ পরিচালিত আল-ফাখুরা স্কুলে ইসরায়েলের বিমান হামলায় অন্তত ৫০ জন নিহত হয়েছে। গাজায় হামাসনিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিহতের সংখ্যা কমপক্ষে ৫০ জন। জাবালিয়া শরণার্থীশিবিরে অবস্থিত এই স্কুলে গতকাল শনিবার ভোরের দিকে হামলায় শতাধিক মানুষ আহত হয়েছে। নিহতের সংখ্যা বাড়তে পারে। এদিকে হামাসের দিক থেকে দাবি করা হয়েছে, ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা ১২ হাজার স্পর্শ করেছে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের কারণে ঘরবাড়িহারা কয়েকশ ফিলিস্তিনি স্কুলটিতে আশ্রয় নিয়েছিল। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত স্কুলটির সবখানে লাশ দেখা গেছে। চিকিৎসাকর্মীরা আহতদের সরানোর চেষ্টা করছেন। উত্তর গাজাজুড়ে ইসরায়েলের ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ থেকে প্রাণ বাঁচাতে এখানে একটি ইন্দোনেশিয়ার পরিচালিত হাসপাতালের কাছের এই স্কুলটিতে আশ্রয় নিয়েছিল ফিলিস্তিনিরা। ইসরায়েলি বাহিনী স্কুল এবং জাতিসংঘের স্থাপনাগুলোতে অনবরত আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে। গত ৭ অক্টোবর হামাস নিধনের নামে শুরু আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত ১২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিন নিহত হয়েছে, যাদের বড় একটি অংশই শিশু।

এদিকে দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস এলাকায় রাতভর গোলাবর্ষণে কমপক্ষে ২৮ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছে। নিহতদের বেশিরভাগই ছিল শিশু। ইসরায়েলি বাহিনী কয়েক দিন থেকে বলছে, ফিলিস্তিনিরা যেন দক্ষিণ থেকে উত্তর গাজার দিকে যায়। অথচ হামলার শুরুতে তারা মানুষকে দক্ষিণের দিকে সরতে বলেছিল।

হামাসের প্রতিনিধি ওসামা হামদান বলেন, আল-ফাখোরা স্কুলে হামলা প্রমাণ করেছে, গাজায় কোনো জায়গাই নিরাপদ নয়। ইসরায়েল বলেছিল, দক্ষিণ গাজা নিরাপদ। কিন্তু দেখা গেল, তাদের কাছে কোনো জায়গাই নিরাপদ নয়। তাদের কাছে উত্তর আর দক্ষিণের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ নেই।

গাজা নিয়ে বাইডেনের সঙ্গে কাতারের আমিরের কথোপকথনযুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে গত শুক্রবার কাতারের আমি  শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির আলোচনা হয়েছে। হোয়াইট হাউজের এক বিবৃতিতে বলা হয়, টেলিফোনে এই দুই নেতা আলাপ করেন। সূত্র জানায়, আলাপকালে হামাসের হাতে বন্দি থাকা জিম্মিদের মুক্তির ওপর জোর দিয়েছেন জো বাইডেন।

হোয়াইট হাউজের বিবৃতিতে বলা হয়, দুই নেতাই মনে করেন, হামাসের হাতে জিম্মি থাকা মানুষদের অবিলম্বে মুক্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। আলাপকালে বাইডেন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধে সাড়া দিয়ে গাজা উপত্যকায় প্রতিদিন দুই ট্যাংকার করে ডিজেল সরবরাহের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসরায়েল। গাজায় জরুরি মানবিক সহায়তা সরবরাহের পরিমাণ বাড়াতে কথা হয়েছে।