রাজনীতিবিদদের সহনশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান। তিনি বলেছেন, ‘আপনারা যারা রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত আছেন তারা যদি একে অপরকে শ্রদ্ধা করতে না পারেন, কোনটা মানবাধিকারের লঙ্ঘন বুঝতে না পারেন, তাহলে এই দেশের মানুষের আরও অনেক কষ্টকর ভবিষ্যৎ জীবন পার করতে হবে।’ জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আয়োজিত ‘মানবাধিকার সুরক্ষায় প্যানেল আইনজীবীগণের ভূমিকা’ শীর্ষক কর্মশালায় এসব কথা বলেন তিনি। গতকাল শনিবার রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
রাজনীতিকদের উদ্দেশ্যে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘রাজনীতিতে মতভেদ থাকতে পারে, কিন্তু মানুষ হিসেবে একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল না হলে কোনোদিন সুন্দর সমাজ হবে না। আমরা চাই সব ধর্ম ও সব মানুষের মতের মিলের মধ্য দিয়ে এই দেশের মানুষ বসবাস করবে। সেজন্য সবাইকে অত্যন্ত সহনশীল হওয়া প্রয়োজন। সব রাজনীতিবিদের প্রতি আহ্বান থাকবে, আপনারা একে অপরের প্রতি সহনশীল হবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘রাজনৈতিক নেতা, রাজনৈতিক কর্মী, রাস্তায় যারা আন্দোলন করেন তাদের মানবাধিকার আছে, সংবিধান তাদের সেই নিশ্চয়তা দিয়েছে, মিটিং-মিছিল সবই করবেন। তেমনি পুলিশেরও মানবাধিকার রয়েছে। তবে তিনি (রাজনৈতিক নেতাকর্মী) যদি পুলিশের প্রতি অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেন আর পুলিশও যদি অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করে দুটোই অপরাধ।’
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের প্যানেল আইনজীবীদের উদ্দেশ্যে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘মানবাধিকারের সঙ্গে আইনজীবীদের সম্পর্ক আষ্টেপৃষ্ঠে বাঁধা। বিচারপ্রার্থীদের পাশে দাঁড়ালে মনে রাখবেন আপনি মানবাধিকারকর্মী। নিজ পেশার প্রতি, মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ হোন।’
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে কর্মশালায় আরও বক্তব্য রাখেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন।