বিদেশি ঋণ পরিশোধের চাপ আরও বাড়ছে

বিভিন্ন প্রকল্পে বিদেশি ঋণ প্রাপ্তির চেয়ে পরিশোধের চাপ প্রতি মাসেই বাড়ছে। চলতি বছরের প্রথম চার মাসে বিভিন্ন ঋণদাতা সংস্থাকে ঋণ ও সুদ পরিশোধ করেছে আগের বছরের চেয়ে ৫২ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে দেশে বিভিন্ন প্রকল্পে ঠিক সময়ে কাজ শেষ করতে না পারায় অর্থছাড়ও কমেছে ১৭ শতাংশ। গতকাল বুধবার অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) প্রকাশিত মাসিক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

ইআরডির প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের অক্টোবর পর্যন্ত বিদেশি ঋণের অর্থছাড় হয়েছে ১৬২ কোটি ৬২ লাখ ডলার। গত বছরের একই সময়ে অর্থছাড় হয়েছিল ১৯৭ কোটি কোটি ডলার। অর্থাৎ গত বছরের একই সময়ে বাংলাদেশের প্রকল্পগুলোতে বিদেশি ঋণের অর্থছাড়ে যে পরিমাণ দক্ষতা ছিল এ বছরের একই সময়ে তা কমেছে ১৭ শতাংশের বেশি।

বাংলাদেশের এ মুহূর্তে ডলার সংকট বেশি। দেশের বিদেশি মুদ্রা আয়ের বড় দুটি খাত প্রবাসী আয় ও রপ্তানি আয়ে কিছুটা বিঘœ ঘটেছে। বিদেশি মুদ্রার আয় কমলেও বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য নেওয়া বিদেশি ঋণ পরিশোধ করতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। এটি আগামী দুবছরের মধ্যে আরও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অক্টোবর শেষে সুদসহ ঋণ পরিশোধ করতে হয়েছে ১১০ কোটি ১৫ লাখ ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ দাঁড়ায় ১২ হাজার ৮৬ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ে বাংলাদেশ সুদসহ ঋণ পরিশোধ করতে হয়েছিল ৭২ কোটি ৪২ লাখ ৮০ হাজার ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় ৬ হাজার ৯০৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ঋণ পরিশোধ বেড়েছে ৫২ দশমিক ০৮ শতাংশ।

তবে আশার কথা হলো অর্থছাড় কমলেও এ বছর বিদেশি প্রতিশ্রুতি  আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে। অক্টোবর শেষে বিদেশি ঋণের প্রতিশ্রুতি এসেছে ৩৬২ কোটি ৮৫ লাখ ডলারের। গত বছরের একই সময়ে বিভিন্ন দাতা সংস্থাগুলো ঋণ ও অনুদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল মাত্র ৪১ কোটি ৩৮ লাখ ডলারের।

চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে নেওয়া বিদেশি ঋণ পরিশোধের প্রাক্কলন করা হয়েছে প্রায় ৩৫৬ কোটি ডলার। আগামী ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এর পরিমাণ ৪২১ কোটি ডলারের ঘর ছাড়িয়ে যাবে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও মেট্রোরেলসহ কয়েকটা মেগা প্রকল্পের ঋণ পরিশোধ শুরু হলে চাপ আরও বাড়বে, যেখানে বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ নিয়ে এখনই কিছুটা বেকায়দায় আছে সরকার। নানামুখী চাপের মধ্যে রিজার্ভ ইতিমধ্যে ২০ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে এসেছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৮-০৯ অর্থবছর শেষে বিদেশি ঋণের স্থিতি যেখানে ছিল ২১ বিলিয়ন ডলার, গত জুন মাস পর্যন্ত তা বেড়ে ৬২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

২০০৮-০৯ অর্থবছরে বিদেশি ঋণের কিস্তিবাবদ বাংলাদেশকে পরিশোধ করতে হয়েছিল ৮৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার। ঋণ পরিশোধের পরিমাণ ক্রমান্বয়ে বেড়ে ২০১২-১৩ অর্থবছরে তা প্রথমবারের মতো এক বিলিয়ন ডলারের ঘর পেরিয়ে যায়।