তিন দশক পর আবারও বৃহত্তম হিমশৈলীর সরণ

বদলে যাওয়া জলবায়ু বদলে দিচ্ছে বিশ্ব প্রকৃতি। বদলে যাচ্ছে ভূগোলও। উষ্ণায়নের ফলে গলে যাচ্ছে পৃথিবীর শীতলতম মহাদেশ অ্যান্টার্কটিকার বরফ। শুধু গলছেই না, বিশাল বিশাল সব বরফের চাঁই যেগুলোকে আইসবার্গ বা হিমশৈলী নামে ডাকা হয় সেগুলোও বদলাচ্ছে স্থান। সম্প্রতি জানা গেলে, পৃথিবীর সবচেয়ে বড় হিমশৈলী যেটা প্রায় তিন যুগ আগে অ্যান্টার্কটিকার মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ওয়েডেল সাগরে বরফ দ্বীপে পরিণত হয়েছিল সেটি আবার আবার নড়াচড়া শুরু করেছে।

বিবিসি বলছে, ‘এ২৩এ’ নামের ওই বিশালকার বরফখণ্ডকে বলা হয় পৃথিবীর বৃহত্তম হিমশৈলী। এর আয়তন ৪ হাজার বর্গকিলোমিটার, যা আকারে গ্রেটার লন্ডনের দ্বিগুণেরও বেশি। হিমশৈলীটি কেবল চওড়াতেই বিশাল নয়; এর পুরুত্ব ৪০০ মিটার বা ১ হাজার ৩২০ ফুট। যেখানে ইউরোপের সব থেকে উঁচু টাওয়ার লন্ডন শার্ডের উচ্চতা ৩১০ মিটার।

বিবিসি জানাচ্ছে, এ দফায় ২০২০ সালে আইসবার্গটিকে প্রথম সরে যেতে দেখা যায়। ২০২২ সালে এটিকে বেশ গতিতেই সরে যেতে দেখা গেছে। আর এখন এর বরফ গলতেও শুরু করেছে।

‘এ২৩এ’ হোয়াইট কন্টিনেন্টের ফিলচার আইস শেলফের অংশ ছিল। ওই সময়ে সোভিয়েত ঘাঁটি দ্রুজনায়া-১ ছিল সেখানে। এটি একসময় হারিয়ে যাবে ভেবে মস্কো সেখান থেকে সরঞ্জাম অপসারণের অভিযানও চালিয়েছিল। কিন্তু ওপরে সমতল ও চারপাশে খাড়া ঢাল আকৃতির এই হিমশৈলীর তলা ওয়েডেল সাগরের তলদেশের সঙ্গে শক্তভাবে লেগে থাকার কারণে সেটি সরে যায়নি।

কিন্তু এতদিন সরে না গেলেও প্রায় তিন যুগ পর কেন হিমশৈলীটি সরে যাচ্ছে, সেটিই এখন চিন্তার কারণ বিজ্ঞানীদের।

ব্রিটিশ গবেষক অ্যান্ড্রু ফ্লেমিং বলেন, আমি কয়েকজন সহকর্মীকে এই বিষয়টি নিয়ে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। ভাবছিলাম সেখানে পানিতে তাপমাত্রার কোনো পরিবর্তন এর নড়াচড়ার কারণ হতে পারে কি না। সবার মতামতও তাই। তারা বলছেন, সেই সময়টি চলে এসেছে।

অ্যান্ড্রু ফ্লেমিংয়ের ভাষ্য, ১৯৮৬ সালে এটি জায়গা বদল করে। কিন্তু এর আয়তন কমতে শুরু করেছে। ফলে সাগরের তলদেশের সঙ্গে আর পোক্তভাবে আটকে থাকছে না। নড়তে শুরু করেছে। এটা উষ্ণায়নের সতর্কবার্তা।