বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করে বলেছেন, ‘গত দেড় মাসে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে বিএনপির ৫৮২ জন নেতাকর্মীকে প্রহসনের বিচারে দণ্ডিত ঘোষণা করা হয়েছে। এসব করে কোনো লাভ হবে না। পতনই সরকারের করুণ ভবিতব্য। দণ্ড দেওয়ার ঘটনা এক দফার আন্দোলন আরও বিস্তৃত, বেগবান ও তেজদীপ্ত হবে।’ গতকাল শনিবার বিকেলে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, ‘প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ৩২৫ জনের অধিক নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হয়েছেন। মামলা হয়েছে ১৩টি, আসামি করা হয়েছে ১ হাজার ৪৩৫ জনের অধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে (এজাহার নামীয়সহ অজ্ঞাত) এবং আহত হয়েছেন ৩৫ জনের অধিক নেতাকর্মী।’
বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, ‘সরকার এক দিকে বলছে নির্বাচনে আসুন অন্যদিকে বিএনপিসহ বিরোধী দলের নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীসহ আন্দোলনে সক্রিয় ও সাহসী নেতাদের টার্গেট করে বেছে বেছে তাদেরই কারাদণ্ড দেওয়া হচ্ছে। পুরনো মামলায় সাজা দেওয়ার হিড়িক শুরু হয়েছে। নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করতে দুই বছরের নিচে কারওর সাজা হচ্ছে না। কারণ দুই বছরের সাজা নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার প্রতিবন্ধক।’ তিনি বলেন, ‘নেতাদের কারাদণ্ড দেওয়া হচ্ছে ‘আজব আদালত’ থেকে। এ আদালত থেকে মৃত ও গুম হওয়া নেতাদেরও রেহাই নেই। আসামিদের অনুপস্থিতিতে চার্জ গ্রহণ ও কারাগারে বন্দি অবস্থায় আসামিকে সাক্ষীর জবানবন্দি ও জেরা শোনার সুযোগ না দিয়ে দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি করে দণ্ড ঘোষণা করা হচ্ছে। সমস্ত মামলার বাদী পুলিশ। রাত-দিন আদালত খুলে আওয়ামী দলদাসরাই সাক্ষী-তারাই বিচারক।’
রিজভী বলেন, ‘ফরমায়েশি রায়ও দেওয়া হচ্ছে প্রহসনের নির্বাচনের মতো। আপনারা জানেন, বিরোধী নেতাদের সাজা ও তাদের আটক করা স্বৈরাচারী ফ্যাসিস্ট শাসকদের পুরনো প্র্যাকটিস।’ জোর করে অনেক কিছু করতে চায় তারা। কিন্তু স্বৈরাচারীদের আখেরে কোনো লাভ হয় না।’ তিনি বলেন, নির্বাচনে অংশ নিতে যেসব নেতা গণভবন-বঙ্গভবনে ছুটোছুটি করছেন তাদের প্রতি বিএনপিসহ গণতন্ত্রের পক্ষের রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে আমার আহ্বান, অবৈধ ক্ষমতার দাপটের চেয়ে জনগণের ভালোবাসায় ধন্য হওয়া অনেক বেশি সম্মানের। নিজেদের অসম্মানিত করবেন না। ১২ কোটি ভোটারের লুণ্ঠিত ভোটের অধিকার আদায়ের দাবির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করবেন না। কৃষক শ্রমিক, দিনমজুর, স্বল্প আয়ের মানুষ, নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর চাওয়া পাওয়ার সঙ্গে বেইমানি করবেন না। যারা সাময়িক লোভ-লাভের আশায় ভাগবাটোয়ারার নির্বাচনে অংশ নিয়ে জনগণের আন্দোলনের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করবেন তাদের নামও রাষ্ট্রীয়ভাবে বেইমানদের তালিকায় চিহ্নিত থাকবে।’