রিজভী বললেন

ভারত বাংলাদেশের জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে 

বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ভারতের অবস্থানের সমালোচনা করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। তিনি বলেন, ‘ভারত সরকার ও তাদের দেশের রাজনীতিবিদদের বোঝা উচিত, বাংলাদেশের জনগণ কেন তাদের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে। ভারতের উচিত জনগণের পক্ষে অবস্থান নেওয়া। একটি কর্তৃত্ববাদী সরকারকে সমর্থন দিয়ে তারা (ভারত) বাংলাদেশের জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।’

গতকাল রবিবার সকালে রাজধানীর বনানী এলাকায় অবরোধের সমর্থনে ঝটিকা মিছিল শেষে এক সমাবেশে এসব কথা বলেন রিজভী। সপ্তম দফা অবরোধ কর্মসূচির প্রথম দিনে এ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করে ঢাকা জেলা বিএনপি।

এরপর গতকাল বিকেলে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় নির্বাচন নিয়ে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে সম্প্রতি ৯০ দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেনের ‘বৈঠক’কে বিস্ময়কর বলে অ্যাখ্যা দেন বিএনপির মুখপাত্র রিজভী। তিনি বলেন, ‘পররাষ্ট্র সচিব দিল্লিতে ৯০টি দেশের কূটনৈতিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বাংলাদেশে কি সেই সব দেশের দূতাবাসগুলো নেই? দিল্লিতে গিয়ে বৈঠক করতে হলো কেন? ভারতই কেন বা আয়োজন করে দিল?’

বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, ‘ভারত যদি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হয়ে থাকে তাহলে তো তাদের বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী মানুষের পক্ষে থাকার কথা ছিল। আজকে তো ইউরোপ, আমেরিকা বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী মানুষের পক্ষে সোচ্চার। যে সরকারের একদলীয় দুঃশাসনে দেশের সাধারণ মানুষ সবাই পিষ্ট, সেই সরকারের পক্ষে কাজ করানোর জন্য দিল্লিতে ৯০টি দেশের কূটনীতিকদের বৈঠক আমার কাছে বিস্ময়কর মনে হয়েছে। আমি বিস্মিত হয়েছি।’

‘আগুনসন্ত্রাসীদের ছাড় দেওয়া হবে না প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় রিজভী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আগুনসন্ত্রাসীকে ছাড় দেওয়া হবে না। ছাড় তো ইতিমধ্যে আপনি দিয়েছেন আসল অপরাধীকে। এখন মিথ্যা অপবাদ দিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের ধরবেন, নির্যাতন করে অন্য নেতাদের নাম বলাবেন। প্রধানমন্ত্রী মনে করেছেন তিনি যা বলেন, অবলীলায় দেশের জনগণ তা বিশ্বাস করে। বাস্তবে তারা যা বলেন মানুষ তার উল্টোটা ভাবেন।’