সুড়ঙ্গে কাটল ১৭ দিন! এরপর মুক্তি! উত্তরাখ-ের উত্তরকাশীতে নির্মাণাধীন সুড়ঙ্গ ভেঙে আটকা পড়া শ্রমিকরা শেষ পর্যন্ত গতকাল জীবন ফিরে পাওয়ার হাসি হেসেছেন। সুড়ঙ্গ থেকে বের হয়ে আসার পর তাদের চোখে-মুখে ছিল পরম আরাধ্য কিছু ফিরে পাওয়ার ঝিলিক। কৃতিত্ব উদ্ধারকারীদের। তারা ৪১ শ্রমিককে গতকাল মঙ্গলবার সুস্থ শরীরে বের করে এনেছেন। প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে ভারতসহ বিশে^র গণমাধ্যমের দৃষ্টি ছিল উত্তরকাশীর ওপর। প্রতি পদে পদে বিপত্তি, নতুন চ্যালেঞ্জ আর বারবার অনিশ্চয়তার মধ্যেও আশায় বুক বেঁধেছিলেন স্বজনরা। ঘটনাস্থলেই ছিল সবার পরিবার। উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামী।
গত ১২ নভেম্বর সকালের দিকে উত্তরকাশীর সিল্কিয়ারা সুড়ঙ্গের মধ্যে ধস নামে। আটকে পড়েন ৪১ শ্রমিক। বারবার চেষ্টার পরও ধ্বংসস্তূপ থেকে বের করে আনা যাচ্ছিল না। গত শুক্রবার খননযন্ত্রের সামনে বড় বাধা আসে। ধ্বংসস্তূপের ভেতর লোহার কাঠামোয় ধাক্কা খেয়ে ভেঙে যায় সুবিশাল খননযন্ত্র। এতে উদ্ধারকাজ থমকে যায়। এ নিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রীও খোঁজখবর নেন। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গেও তার কথা হয়। সফল উদ্ধারকাজের পর মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং বলেন, ‘ধৈর্য, পরিশ্রম আর বিশ্বাসের জয় হয়েছে।’ সবাইকে বের করে আনার পর চিকিৎসকরা জানান, সব শ্রমিক সুস্থ রয়েছেন।
আটকে পড়া শ্রমিকদের সঙ্গে সর্বক্ষণ যোগাযোগ রক্ষা করে গেছেন উদ্ধারকর্মীরা। পাইপের মাধ্যমে তাদের সঙ্গে কথা চলছিল। নিয়মিত তাদের খাদ্য, পানি ও অন্যান্য জিনিস পৌঁছে দেওয়া হচ্ছিল। এমনকি তাদের উৎফুল্ল রাখতে ঘরোয়া খেলার সামগ্রী দেওয়া হয়েছিল। সুড়ঙ্গে থাকাকালে শ্রমিকদের ভিডিও সামনে আনা হয় গত মঙ্গলবার। পাইপের মাধ্যমে ক্যামেরা পাঠানো হয়।
আটকা পড়া জায়গা থেকে ১০-১২ মিটার দূরত্বে ভেঙে যায় যন্ত্রটি। সেটিকে সরিয়ে সাধারণ প্রক্রিয়ায় খনন শুরু হয়। ইঁদুরের গর্ত খোঁড়ার প্রক্রিয়ার মতো করে শুরু হয় খনন। শেষ পর্যন্ত আসে সাফল্য। উদ্ধারকাজের জন্য নানা ধাপে মহড়া দেওয়া হয়। পর্যাপ্ত অ্যাম্বুলেন্স, ওষুধপত্র আগে থেকেই ঘটনাস্থলে মজুদ করা হয়েছিল। তৈরি করা হয় অস্থায়ী চিকিৎসাকেন্দ্রও।
বিশে^ নানা সময় এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছিল। এর মধ্যে উত্তরকাশীর মতো ঘটনা ঘটে ২০১৮ সালের জুন মাসে থাইল্যান্ডে। দেশটির একটি গুহা বন্যার পানিতে ভেসে যাওয়ার ফলে আটকে পড়েন ১২ জন খুদে ফুটবলার এবং তাদের কোচ। তাদের উদ্ধার করে এনে সারা বিশ্বে প্রশংসিত হন থাইল্যান্ডের উদ্ধারকারীরা। উত্তরকাশীর ঘটনায় থাইল্যান্ডের সেই সংস্থাকেও ডেকে পাঠায় উত্তরাখণ্ড সরকার। ডাকা হয় নরওয়ের এক সংস্থাকেও।