শাহজাহান ওমরের জামিন, নির্বাচনে যাওয়ার গুঞ্জন

কিংস পার্টিতে যোগ দিতে চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠার এক দিন পর গতকাল বুধবার কারামুক্ত হয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর বীরউত্তম। বিকেলে জামিন হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কারাগার থেকে মুক্তি পান বাস পোড়ানোর মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া এই বিএনপি নেতা। সন্ধ্যা ৬টার দিকে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে শাহজাহান ওমরকে মুক্তি দেওয়া হয় বলে গণমাধ্যমকে জানান তার আইনজীবী মোহাম্মদ রমজান খান।

গত মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ‘গুম-খুন ও কারা নির্যাতিত’ নেতাদের স্বজনদের নিয়ে বিএনপি আয়োজিত মানববন্ধনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান অভিযোগ করে বলেন, ‘কিংস পার্টিতে যোগ দেওয়ার জন্য শাহজাহান ওমর ও তার পরিবারকে সরকার চাপ দিচ্ছে।’

গতকাল বিকেলে ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ ফয়সাল আতিক বিন কাদের শাহজাহান ওমরের জামিন মঞ্জুর করেন। এরপর দ্রুত বেল বন্ড পৌঁছে যায় কারাগারে। সন্ধ্যায় মুক্তি পান শাহজাহান ওমর।

গতকাল শাহজাহানপুর থানায় নাশকতা ও বিস্ফোরক আইনের মামলায় কারাগারে থাকা বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস এবং পল্টন থানার পিস্তল ছিনতাই ও পুলিশের মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ভাঙচুরের মামলার আসামি বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের জামিন আবেদনের ওপরও শুনানি হয়। শুনানি শেষে দুই আবেদনই নাকচ করে দেয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত। এ ছাড়া গত ২৮ অক্টোবর প্রধান বিচারপতির বাসভবনে হামলা, পুলিশের ওপর হামলা ও পুলিশ সদস্য হত্যার অভিযোগে হওয়া মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকা বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরীর মামলারও শুনানি হয় গতকাল বিকেলে। শুনানি শেষে ঢাকার সপ্তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ তেহ্সান ইফতেখারের আদালত তার জামিন আবেদন নাকচ করে দেয়।

বিএনপির অনেক জ্যেষ্ঠ নেতার জামিন না মিললেও জামিন আদেশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে শাহজাহান ওমরের কারামুক্তি নিয়ে শুরু হয়েছে নানা গুঞ্জন। কেউ কেউ বলছেন, নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার শর্তেই দ্রুত মুক্তি পেয়েছেন তিনি এবং ঝালকাঠি-১ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন। এই আসন থেকে ১৯৯১, ১৯৯৬ এবং ২০০১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন শাহজাহান ওমর। ২০০৩ সালের ৭ এপ্রিল থেকে ২০০৬ সালের ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত বিএনপি সরকারের আইন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

খেতাবপ্রাপ্ত এই মুক্তিযোদ্ধা বিএনপির শীর্ষ পদে থাকলেও দলটির জামায়াত তোষণের বিরুদ্ধে বারবার কথা বলে হাইকমান্ডের বিরাগভাজন হয়েছেন। বছর দুয়েক আগে দলের পক্ষ থেকে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিসও দেওয়া হয়েছিল।

বিএনপি নির্বাচনের তফসিল প্রত্যাখ্যান করে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে। নির্বাচনে অংশগ্রহণের গুঞ্জন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে শাহজাহান ওমর গতকাল রাতে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমাকে নিয়ে আলোচনা হতেই পারে, হোক। দেখি কোথায় কী হয়। আমার সিদ্ধান্ত তো আমার কাছে। আমি কী করব, না করব সেটা তো অন্যের কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে করব না।’ নির্বাচন প্রসঙ্গে শাহজাহান ওমরের এমন বক্তব্যের পর তার ভোটে অংশগ্রহণ নিয়ে গুঞ্জন আরও জোরালো হয়েছে।

এদিকে দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে পঞ্চগড় জেলা বিএনপির সদস্য আব্দুল আজিজকে দলের প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।