দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের জনগণ যাতে স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারে তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। সেই সঙ্গে সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচনে তারা পর্যবেক্ষক পাঠাবে না। গত বুধবার জাতিংঘের মহাসচিবের মুখপাত্রের কার্যালয়ের নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা জানানো হয়।
এর প্রতিক্রিয়ায় গতকাল বৃহস্পতিবার ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেছেন, পর্যবেক্ষক পাঠানো-না পাঠানো জাতিসংঘের বিষয়।
ব্রিফিংয়ে জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টেফান দেজারিককে প্রশ্ন করা হয়, হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশে বিরোধী দলের নেতাকর্মী ও সমালোচকদের ওপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চলমান দমন-পীড়ন একটি অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান অসম্ভব করে তুলেছে। ভয়েস অব আমেরিকা ইংলিশ সার্ভিসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ‘অন্যায্য’ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। দেশটির জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে জাতিসংঘ মহাসচিবের পক্ষ থেকে কী সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে?
জবাবে দেজারিক বলেন, ‘না আমাদের সেরকম কোনো পদক্ষেপ নেই। জাতিসংঘ এ নির্বাচনে কোনো পর্যবেক্ষক পাঠাচ্ছে না। সুনির্দিষ্ট বা বিশেষ কোনো কারণ না থাকলে আমরা এটা করিও না।’ তিনি বলেন, ‘আমরা মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং অন্যান্য সংস্থার প্রতিবেদন দেখেছি। আমরা আবারও সংশ্লিষ্ট সব দলের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি যাতে জনগণ অবাধে, স্বাধীনভাবে তাদের মতামত প্রকাশ করতে পারে, তা যেন হয়রানি মুক্ত হয়।
গতকাল ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের সাধারণ সম্পাদককে দেজারিকের বক্তব্যের বিষয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন। জবাবে তিনি বলেন, ‘এ নির্বাচন নিয়ে যত বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছে, যত অপবাদ ছাড়ানো হয়েছে... সেখানে কিন্তু অনেকে ভেবেছিল বিদেশি পর্যবেক্ষকরা সাড়া দেবেন না। কিন্তু ইতোমধ্যে শতাধিক পর্যবেক্ষক সাড়া দিয়েছেন। এ নিয়ে আমরা চিন্তিত না।’
তফসিল অনুযায়ী, আগামী ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। গতকাল ছিল মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। তবে বিএনপি ও সমমনা দল এবং বামপন্থি কয়েকটি দল তফসিল প্রত্যাখ্যান করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে।