গাজার ২৩ লাখ বাসিন্দার ১৮ লাখই বাস্তুচ্যুত

গতকাল বৃহস্পতিবার গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের দুই মাস পূর্ণ হয়েছে। দীর্ঘ আগ্রাসনে গাজার ৮০ শতাংশেরও বেশি মানুষ অর্থাৎ ১৯ লক্ষাধিক জনগোষ্ঠী অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছে। জাতিসংঘ এই তথ্য জানিয়েছে। আবার হামাস জানিয়েছে, গতকাল পর্যন্ত নিহত হয়েছে ১৭ হাজার ১৭৭ জনের মতো যার মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় নিহত হয় ৩৫০ জনের মতো ফিলিস্তিনি। শুরুর দিকে ইসরায়েল গাজার উত্তরকে হামলার মূল কেন্দ্রবিন্দু করলেও এখন তারা দক্ষিণে তাদের মনোযোগ সরিয়েছে।

জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা কার্যক্রম সমন্বয়কারী দপ্তর (ওসিএইচএ) জানায়, গাজায় ২৩ লক্ষাধিক মানুষের ১৮ লাখেরও বেশি অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত। গাজায় সর্বশেষ গণহারে বাস্তুচ্যুতি ঘটনা দেখা গেছে দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস শহরে। গত কয়েকদিন থেকে শহরটিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েলিরা। আবার গতকাল আরও একবার জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরে হামলা হয়েছে। যুদ্ধের শুরুতে মানুষ যেসব জায়গায় আশ্রয় নেয়, এবার সেখান থেকেই তাদের চলে যেতে বলা হচ্ছে। তবে গাজায় এমন কোনো জায়গা নেই যা নিরাপদ। গাজার মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণের ব্যবস্থা খুবই সংকটজনক হয়ে পড়েছে। সহায়তা কার্যক্রমও ভেঙে পড়ার উপক্রম।

গাজার খান ইউনিস শহরে যুদ্ধের আগে এক লাখ ১৭ হাজার মানুষ বসবাস করত। এ ছাড়া এখানে ২১টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৫০ হাজার মানুষ আশ্রয় নিতে এসেছিল। এখন পুরো শহরই ইসরায়েলের ট্যাংকের আওতায়। গাজার বাসিন্দা ইয়ারা বলেন, ‘আমি এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যাচ্ছি। যুদ্ধের পর আমি ছয়বার আশ্রয় বদল করেছি। আমি আমার সন্তানদের মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করছি যা সর্বত্রই তাড়া করে বেড়াচ্ছে।’ তিনি বলেন, ইসরায়েলিরা বলেছিল, দক্ষিণ নিরাপদ। কিন্তু এখানেও গোলা এসে পড়ছে।  

এদিকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি বোমা হামলায় কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা অ্যারাবিকের এক সাংবাদিকের পরিবারের ২২ সদস্য নিহত হয়েছেন। ওই সাংবাদিকের নাম মোয়ামেন আল শরাফি। গত ৭ অক্টোবর গাজায় ইসরায়েলের আগ্রাসন শুরুর পর তার পরিবার জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছিল। সেখানেই গত বুধবার ইসরায়েলের বোমা হামলায় তারা নিহত হন। এদিকে লেবাননে ইসরায়েলের ছোড়া গোলার আঘাতে রয়টার্সের এক সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। 

গাজার জন্য সর্বোচ্চ ক্ষমতা প্রয়োগ করলেন গুতেরেস এদিকে, গাজার জন্য নিজের সীমিত ক্ষমতার মধ্যে সর্বোচ্চটা ব্যবহার করলেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। নজিরবিহীনভাবে জাতিসংঘ সনদের ‘আর্টিকেল ৯৯’ প্রয়োগ করেছেন তিনি। এর মাধ্যমে নিরাপত্তা পরিষদকে গাজায় সহিংসতা বন্ধে কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানালেন জাতিসংঘ মহাসচিব।

আর্টিকেল ৯৯ জাতিসংঘ মহাসচিবকে এই বিশেষ ক্ষমতা দিয়েছে। এই ধারা অনুযায়ী,  কোনো বিষয় বিশ্বের শান্তি ও নিরাপত্তাকে হুমকির সম্মুখীন করছে, যদি জাতিসংঘ মহাসচিব এমনটা মনে করেন তাহলে তিনি এ বিষয়ে নিরাপত্তা পরিষদকে পদক্ষেপ  নেওয়ার আহ্বান জানাতে পারেন।

১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির কাছে নিজের ক্ষমতা প্রয়োগ করে (আর্টিকেল ৯৯) চিঠি দিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। এতে তিনি বলেছেন, ইসরায়েল ও দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে এখন যে পরিস্থিতি তাতে বিশ্বের শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার বিরুদ্ধে থাকা হুমকিকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে কোনো এলাকাই এখন আর নিরাপদ নয়।