হলফনামায় প্রার্থী বিশ্লেষণ

৫ বছরে লাখপতি থেকে কোটিপতি প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন ৫ বছরে লাখপতি থেকে কোটিপতি হয়েছেন। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় তার ৬ লাখ এবং স্ত্রীর ১০ লাখ টাকা ছিল। আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় তার ১ কোটি ৩৬ লাখ ৬০ হাজার ৬৯৬ এবং স্ত্রী মোনালিসা ইসলামের ৪৭ লাখ টাকা আছে বলে উল্লেখ আছে। আগের হলফনামায় ব্যবসা, সম্পদ, অর্থ, সঞ্চয় ও কৃষি ছিল না। কিন্তু ৫ বছরের ব্যবধানে বর্তমান হলফনামায় ফরহাদ হোসেন ও তার স্ত্রীর স্বর্ণ, ব্যবসা, কৃষি, গাড়ি, বাড়ি, সম্পদে বিপুল বিত্তবৈভবের তথ্য উঠে এসেছে।

২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের বার্ষিক আয় ছিল ৬ লাখ ১২ হাজার ৩৪০ টাকা। স্থানীয় ও দলীয় একাধিক সূত্র জানায়, রাজনৈতিক পরিবারে বেড়ে ওঠা ফরহাদ হোসেনের বাবা ছহিউদ্দিন বিশ্বাস একজন সৎ রাজনীতিক এবং ৭১-পরবর্তী সংসদ সদস্য (এমএনএ) ছিলেন। ফরহাদ হোসেন ২০১৪ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত শহরের অর্ধভগ্ন একটি বাড়ি এবং বইয়ের ব্যবসা ছাড়া তাদের কিছুই ছিল না।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় কৃষিতে আয় ছিল ৪ লাখ টাকা। তার বার্ষিক আয় এখন দাঁড়িয়েছে ২৫ লাখ ১৮ হাজার টাকা। আগে ব্যবসা ছিল না, এখন ব্যবসায় আয় ১৭ লাখ ৭৯ হাজার ৩৭৪ টাকা। আগে শেয়ার থেকে আয় ছিল ১৫ হাজার ৩৫৩ টাকা। বর্তমানে সেই আয় ৪ লাখ ২৮ হাজার ২১০ টাকা। ২০১৮ সালের হলফনামায় ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কোনো অর্থ জমা না থাকলেও এবারের হলফনামায় ২৯ লাখ ১ হাজার ৮৫৮ এবং স্ত্রীর নামে দেড় লাখ টাকা দেখানো আছে। আগে বন্ড ঋণপত্র ছিল না। এবার বন্ড ঋণপত্র খাতে ৬ লাখ ৩৩ হাজার টাকা উল্লেখ রয়েছে। পোস্টাল সেভিংস সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ নিজের ৪০ লাখ এবং স্ত্রীর ২০ লাখ টাকা দেখানো আছে। যদিও ২০১৮ সালের হলফনামায় এর কিছুই ছিল না। একইভাবে আগে ব্যবসায় কোনো বিনিয়োগ না থাকলেও এবারের হলফনামায় ব্যবসায় নিজের ৩১ লাখ ৩৩ হাজার ৩৭৩ এবং স্ত্রীর নামে ৪০ লাখ টাকা উল্লেখ আছে। স্বর্ণ আছে নিজের ২৫ ভরি এবং স্ত্রীর রয়েছে ২০০ ভরি।

জমি শূন্য পরিমাণ থেকে বেড়ে ৫ বছরে নিজের ২৭৪ দশমিক ৪৫ শতক এবং স্ত্রীর ২ বিঘা ৫ কাঠা হয়েছে। বহু মূল্যমান আসবাবপত্র ছাড়াও মেহেরপুর শহরে নিজের পৈতৃক জমিতে বিশাল দোতলা বাড়ির পাশাপাশি ঢাকায় ৩১ দশমিক ৪৩ শতক জমি আছে। সেই সঙ্গে উত্তরায় ১ হাজার ৬৫৪ বর্গফুট আয়তনের বাড়িটি ৫৩ লাখ টাকায় কিনেছেন বলে উল্লেখ আছে।

হলফনামায় নিজের বৈধ একটি পিস্তল এবং একটি শটগান আছে। এ ছাড়া বন্ধকবিহীন ব্যক্তিগত ঋণ আছে ৫৮ লাখ টাকা। ৭৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা দামের নিজের একটি জিপ এবং সাড়ে ৭ লাখ টাকা দামে স্ত্রীর একটি মাইক্রোবাস আছে বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।

১৮ সালের হলফনামায় নিজের বার্ষিক আয় ১০ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ছিল। এবার সেই আয় ৪৭ লাখ ২৫ হাজার ৫৭৫ টাকা বলে উল্লেখ করেছেন। ২০১০-১১ সালে ফরহাদ হোসেনের বিরুদ্ধে আদালতে দ-বিধির ৩৭৯ ধারায় দুটি চুরির মামলা ছিল। ২০১৩ সালে সেই দুটি মামলা থেকে তিনি খালাস পেয়েছেন।

হলফনামা অনুযায়ী আয়ের সবচেয়ে বড় অংশ হিসেবে কৃষি ও ব্যবসা খাত উল্লেখ করা আছে। এই প্রশ্নে দলের একাধিক নেতাকর্মী এবং সংসদ সদস্যের ঘনিষ্ঠজনদের দাবি মেহেরপুর-১ (সদর-মুজিবনগর) আসনের এমপি জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের পরিবার কখনই গবাদি পশু এমনকি হাঁস-মুরগিও পালন করেননি। চাষাবাদও নেই। কোথাও কোনো কৃষি খামার বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেরও সন্ধান তারা জানেন না। তাই হলফনামা অনুযায়ী, ফরহাদ হোসেনের আয়ের উৎস সম্পর্কে স্থানীয়রা কিছুই জানেন না বলে দাবি করেন।