লোকসভায় তৃণমূল নেত্রী মহুয়া মৈত্রর এমপি পদ খারিজ

লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী মহুয়া মৈত্রর সদস্য পদ (এমপি) বাতিল করা হয়েছে। অর্থের বিনিময়ে লোকসভায় প্রশ্ন উত্থাপনের অভিযোগে গতকাল শুক্রবার লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সভাপতিত্বে অধিবেশনে কণ্ঠভোটে তার এমপি পদ খারিজ হয়ে যায়। এর আগে লোকসভায় এথিক্স কমিটির প্রতিবেদন উপস্থাপিত হয়।

এমপি পদ খারিজ হওয়ার পর লোকসভা চত্বরে মহুয়া মৈত্র বলেন, এই ঘটনার শেষ দেখে ছাড়বেন তিনি। লোকসভার ভেতরে এবং বাইরে লড়াইয়ের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। মহুয়া বিতর্কে লোকসভার এথিক্স কমিটি স্পিকার বরাবর ৪৯৫ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন জমা দেয়। কংগ্রেস এবং অন্যান্য বিরোধী দলের  তরফেও স্পিকারের কাছে সময়ের জন্য অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু স্পিকার সময় দেননি।

লোকসভা থেকে বেরিয়ে মহুয়া বলেন, ‘লোকসভার এথিক্স কমিটিতে এথিক্স বলে কিছু অবশিষ্ট নেই। তারা সব নিয়ম ভেঙে ফেলেছে। এমন একটা কারণে আমাকে বহিষ্কার করা হলো, যা লোকসভার সব সদস্যের মধ্যে প্রচলিত একটি অভ্যাস। আমি কারও কাছ থেকে টাকা বা কোনো উপহার নিয়েছি, এর কোনো প্রমাণ নেই। নরেন্দ্র মোদির সরকার যদি ভেবে থাকে আমাকে এভাবে চুপ করিয়ে আদানি ইস্যু থেকে তারা মুক্তি পাবে, তবে ভুল ভাবছে।’

লোকসভা থেকে বহিষ্কারের পর এবার তার কাছেও সিবিআই, ইডির মতো কেন্দ্রীয় সংস্থা পাঠানো হবে, এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন মহুয়া। তিনি বলেন, ‘এবার আমার কাছে সিবিআই আসবে। ছয় মাস আমাকে সিবিআই দিয়ে হেনস্তা করা হবে।’

লোকসভায় তৃণমূল, জাতীয় কংগ্রেস এবং অন্যান্য বিরোধী দলের তরফে মহুয়াকে নিজের বক্তব্য জানানো এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছিল। সেই অনুরোধও রাখেননি স্পিকার। গতকাল মহুয়ার বহিষ্কারের দিনে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় প্রধান পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘মহুয়াকে আত্মপক্ষ সমর্থন করার সুযোগ দেওয়া হয়নি। একজন নারীকে বিজেপি রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য যেভাবে হেনস্তা করল, তাতে গণতন্ত্রকে হত্যা করা হলো। দল মহুয়ার পাশে ছিল, আছে। বিজেপির প্রতিহিংসাপরায়ণ রাজনীতি প্রমাণিত হয়েছে।’ তিনি জানান, লোকসভায় যা হলো তাতে তিনি স্তম্ভিত।