মানবাধিকার দিবসে দেশের পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চক্রান্ত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেছেন, ‘মানবাধিকার একটি ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। মানবাধিকারের কথা বলে কোনো কোনো দেশকে দমন করে রাখার চেষ্টা করা হয়। দেশে পেট্রোলবামা নিক্ষেপ করে মানুষ হত্যা করা হচ্ছে, অথচ বিবৃতিজীবীরা হারিয়ে গেছে।’
গতকাল শুক্রবার দুপুরে চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন-সিইউজে আয়োজিত বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। আগামীকাল ১০ ডিসেম্বর বিশ্ব মানবাধিকার দিবস।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘পৃথিবীতে কিছু মানবাধিকার সংগঠন আছে, যেগুলো মূলত মানবাধিকারের ব্যবসা করে। যেসব বিশ্ববেনিয়া মানবাধিকারের কথা বলে এবং বাংলাদেশেও যারা মানবাধিকার নিয়ে কথা বলে, ফিলিস্তিনে পাখি শিকার করার মতো মানুষ শিকার করা হচ্ছে এ নিয়ে বড় বড় সংগঠনের কোনো কথা ও বিবৃতি নেই। অথচ তারা বরিশালে একজন আরেকজনকে ঘুসি মারল এবং কোথায় কিছু মানুষ একজনকে ধাওয়া করল সেজন্য বিবৃতি দিল।’
ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়েছে ১৯৭৫ সালে, বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বেই ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ এবং সেটিকে আইনে পরিণত করে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকা-ের বিচার বন্ধ করা। দ্বিতীয় সবচেয়ে বড় মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে ১৯৭৭ সালে, নির্বিচারে সেনা অফিসার ও বিমানবাহিনীর অফিসারদের বিনা বিচারে হত্যা করা। তারপর ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা। ২০১৩, ’১৪ ও ’১৫ সালে মানুষ পোড়ানোর মহোৎসব। এগুলো চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা।
তিনি বলেন, ‘কিছু বিবৃতিজীবী আছেন, বিবৃতি দেওয়ায় তাদের পেশা। বাংলাদেশেও কিছু বিবৃতিজীবী আছেন। ইদানীং অবশ্য তাদের দেখা যাচ্ছে না, বিবৃতিজীবীরা বেশিরভাগ হারিয়ে গেছেন। দেশে যখন পেট্রোলবোমা নিক্ষেপ করে মানুষ হত্যা করা হচ্ছে, তাদের বিবৃতি এখন দেখতে পাচ্ছি না। এ বিবৃতিজীবীরা কই? জনগণ তাদের খুঁজছে, আমিও তাদের খুঁজছি। আমি একটু উদ্বিগ্ন তাদের জন্য। তারা জ¦র কিংবা ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলো কি না, তা নিয়ে মানুষ চিন্তায় আছে।’
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, ‘ফিলিস্তিনে হামলা চালিয়ে একই হাসপাতালে একসঙ্গে ৫০০ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। আরেকটি হাসপাতালে হামলা চালিয়ে হাসপাতালকে অকেজো করে দেওয়ার পর সেখানে আইসিইউতে থাকা সব মানুষ মৃত্যুবরণ করেছে। এ ধরনের চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন বিশ্ববেনিয়ারা তাকিয়ে তাকিয়ে দেখেছে। আবার ইসরায়েলি বাহিনী যাতে ভালোমতো বোমাবর্ষণ করতে পারে সেজন্য সহায়তাও করছে।’
তিনি বলেন, ‘বিশ্ব প্রেক্ষাপটে এই মানবাধিকার লঙ্ঘন, এতে আমরা চুপ থাকতে পারি না। আমি প্রথম থেকেই এটার বিরুদ্ধে সোচ্চার আছি এবং থাকব। আমাদের সরকার এবং প্রধানমন্ত্রীও আছেন। আমাদের প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘে গিয়ে এটার বিরুদ্ধে বক্তব্য রেখেছেন। আরব রাষ্ট্রগুলোর সব রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বসে এ ব্যাপারে করণীয় নির্ধারণ করার জন্য তাদের অনুরোধ জানিয়েছেন।’
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘কেউ হরতাল-অবরোধের ডাক দিতে পারে, সরকার পতনের ডাক দিতে পারে, সরকারের বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখতে পারে, এটিই গণতান্ত্রিক ও বহুমাত্রিক সমাজের রীতি। কিন্তু ঘরে বসে সেই ডাক দিয়ে গাড়ির মধ্যে পেট্রোলবোমা নিক্ষেপ করা, মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করা, সেটি তো কোনো রাজনৈতিক কর্মকা- নয়। এগুলো একদিকে যেমন সন্ত্রাসী কর্মকা-, অন্যদিকে মানুষের অধিকার এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন করা। আমি আশা করব, সাংবাদিকরা এগুলোর বিরুদ্ধে কলম ধরবেন।’
শ্রমিক অধিকারের নামে বছরে ১২ বার বিদেশ সফরকারী দুয়েকজন শ্রমিক নেতা কারও এজেন্ট হিসেবে কাজ করছে কি না, প্রশ্ন রেখে ড. হাছান বলেন, ‘দেখা গেল, আল্পনা আক্তার, কল্পনা আক্তার, জল্পনা আক্তাররা বছরে ১২ বার বিদেশ গেছে, ১৮-২০ লাখ টাকা বিমান ভাড়া দিয়েছে। তাদের কারও কারও আবার গাড়ি আছে, ঢাকা শহরে বড় বড় ফ্ল্যাট আছে। শ্রমিক সমাবেশে যাওয়ার সময় কিছুদূর গাড়ি রেখে হেঁটে কিংবা রিকশায় যায়, যদি শ্রমিকরা গাড়ি দেখে ফেলে। তারা কীভাবে এবং কারও এজেন্ট হিসেবে কাজ করে সেটি আজকে স্পষ্ট। এসব এজেন্টের ব্যাপারেও আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।’
চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের এস রহমান হলে সিইউজে সভাপতি তপন চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বিএফইউজেসহ সভাপতি শহীদ উল আলম, বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের সদস্য কলিম সরওয়ার, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি আলী আব্বাস, সিইউজের সাধারণ সম্পাদক ম. শামসুল ইসলাম, প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক দেবদুলাল ভৌমিক, সিইউজের সিনিয়র সহসভাপতি রুবেল খান, সহসভাপতি অনিন্দ্য টিটো প্রমুখ। সিইউজে যুগ্ম সম্পাদক সাইদুল ইসলাম অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন।