গাজা যুদ্ধ বন্ধে নিরাপত্তা পরিষদের অধিবেশন

ইসরায়েলের হামলায় অবরুদ্ধ গাজায় নিহতের সংখ্যা ইতিমধ্যে ১৭ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। এ পরিস্থিতিতে গাজায় যুদ্ধবিরতি ইস্যুতে একটি খসড়া প্রস্তাব নিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে গতকাল শুক্রবার ভোটাভুটি হওয়ার কথা। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের আহ্বান এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। জাতিসংঘের সনদের ৯৯ অনুচ্ছেদ অনুসারে গত বুধবার গুতেরেস নিরাপত্তা পরিষদকে যুদ্ধবিরতির জন্য বৈঠকের আহ্বান জানান। এদিকে হামাস বলছে, ইসরায়েলি আগ্রাসনের কারণে উত্তর গাজায় এখন দুর্ভিক্ষ অবস্থা বিরাজ করছে।

তবে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ যাই থাকুক না কেন, ইসরায়েল তার বর্বরতা থামাচ্ছে না। গাজায় নির্বিচারে হামলা চালিয়ে অগুনতি মানুষ হত্যার পাশাপাশি পশ্চিম তীরেও ছয় ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে তেলআবিব। এদিকে খান ইউনিসে অভিযান আরও জোরদার করার কথা জানান ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

আর্টিকেল ৯৯ অনুসারে, বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত যেকোনো বিষয়ে মহাসচিব নিরাপত্তা পরিষদকে বৈঠকের আহ্বান জানাতে পারেন। জাতিসংঘের ইতিহাসে এটি একটি বিরল ঘটনা। কারণ গত কয়েক দশকের মধ্যে কোনো মহাসচিব এমন পদক্ষেপ নেয়নি। জাতিসংঘের মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক আশা প্রকাশ করে বলেন, তিনি মনে করেন নিরাপত্তা পরিষদ গুতেরেসের আহ্বানকে গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করবে এবং ভোটের মাধ্যমে যুদ্ধবিরতিতে একমত হবে।

গত ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের হামলায় পর থেকে এ পর্যন্ত ১৭ হাজার ১৭০ জন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করা হয়েছে। আহত হয়েছেন ৪৬ হাজার মানুষ। যার অধিকাংশই নারী ও শিশু। হামাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উত্তর গাজায় এখন দুর্ভিক্ষ অবস্থা বিরাজ করছে। সেখানে গত ১ ডিসেম্বরের পর কোনো ত্রাণ পৌঁছায়নি।

চলতি মাসের শুরু থেকে গাজার দক্ষিণের খান ইউনিস শহরকে কেন্দ্র করে আক্রমণ চালাচ্ছে ইসরায়েল। ট্যাংক, বুলডোজার ও ভারী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে নারকীয় হামলায় মেতে রয়েছে তারা। নেতানিয়াহু বলেন, ‘গাজায় হামাসের প্রধান ইয়াহিয়া সিনওয়ারের বাড়ির খুব কাছে ইসরায়েলি বাহিনী। তাকে ধরা সময়ের অপেক্ষা মাত্র।’ এদিকে গতকাল একটি ভিডিও সামনে এসেছে যেখানে দেখা যাচ্ছে, ফিলিস্তিনিদের বন্দি করে চোখ বেঁধে অন্তর্বাস পরিয়ে নির্যাতন করা হচ্ছে। অবশ্য এ নিয়ে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ কোনো মন্তব্য করেনি।

আবার গতকাল নেতানিয়াহু হিজবুল্লাহকে আরও একবার সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘হিজবুল্লাহ যদি বৈশি^ক যুদ্ধ শুরু করতে চায়, তাহলে তারা বৈরুত ও দক্ষিণ লেবাননকে নিজ হাতে গাজা ও খান ইউনিস বানাতে যাচ্ছে।’