কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ন্ত্রণে আইন ইইউর

বিশ্বের প্রায় সব প্রান্তে দ্রুত ছড়িয়ে গেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি। আর এই প্রযুক্তির বিস্তারের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে নিরাপত্তার বিষয়টি। সাইবার অপরাধ প্রতিরোধের পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য এবং চাকরি ক্ষেত্রে নিরাপত্তা বজায় রাখতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ন্ত্রণের জন্য যুগান্তকারী আইনের ব্যাপারে সম্মত হয়েছেন ইউরোপীয় নীতিনির্ধারকরা। গতকাল শনিবার আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোতে বলা হয়, বিশে^ প্রথম কোনো পক্ষ এআই নিয়ন্ত্রণের আইনপ্রণয়নের বিষয়টি আমলে নিল।

গত শুক্রবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার, ওপেনএআই ও চ্যাটজিপিটির মতো কৃত্রিম প্রযুক্তিগুলো নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘ আলোচনা হয়। এরপর ইউরোপীয় আইনসভা এবং সদস্যরাষ্ট্রগুলো একটি অস্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছায়। চূড়ান্ত আইন হবে এই অস্থায়ী চুক্তির ভিত্তিতেই। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রধান উরসুলা ভন ডার লিয়ন বলেন, ‘এটি বিশ্বের প্রথম এইআই অ্যাক্ট। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিকাশের পাশাপাশি নিয়ন্ত্রণের জন্য এটি একটি অন্যান্য আইনি কাঠামো। এই আইন মানুষ এবং ব্যবসার নিরাপত্তা এবং মৌলিক অধিকারের জন্য।’

এক সংবাদ সম্মেলনে ইউরোপীয় কমিশনার থিয়েরি ব্রেটন বলেন, ‘ইউরোপ বিশ্বব্যাপী মান নির্ধারণকারী হিসেবে তার ভূমিকার গুরুত্ব বুঝতে পেরে নিজেকে অগ্রগামী হিসেবে উপস্থাপন করছে। আমি বিশ্বাস করি, এটি একটি ঐতিহাসিক দিন।’ নতুন আইন অনুযায়ী ওপেনএআই ও চ্যাটজিপিটির মতো প্রযুক্তি বাজারে আনার আগে কিছু বাধ্যবাধকতা মেনে চলতে হবে। যার মধ্যে রয়েছে নথিপত্র প্রদান, ইইউ কপিরাইট আইন মেনে চলা এবং বিষয়বস্তু সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো। এ ছাড়া আসার পথে থাকা প্রযুক্তিগুলোতে কী পরিমাণ ঝুঁকি রয়েছে, তা মূল্যায়ন করার পাশাপাশি সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া এবং গুরুতর কোনো বিষয়ে ইউরোপীয় কমিশনে রিপোর্ট করার বিষয়টিও উঠে এসেছে নতুন এই আইনে।

এ ছাড়া ইইউতে ব্যবসারত প্রযুক্তি সংস্থাগুলোকে এআই বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি তাদের পরীক্ষা চালানোর জন্য ব্যবহৃত ডেটা প্রকাশ করতে হবে। বিশেষ করে স্ব-চালিত যানবাহন এবং স্বাস্থ্যসেবার মতো উচ্চঝুঁকিপূর্ণ খাতে এআই ব্যবহৃত হলে তা বাধ্যতামূলক হবে। আইন লঙ্ঘনকারী সংস্থাগুলোকে কোম্পানির আকারের ওপর নির্ভর করে বৈশ্বিক রাজস্বের ৭ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা করা হবে। ইউরোপের এআই আইন এমন একসময়ে প্রবর্তন হলো, যখন ওপেনএআই, মাইক্রোসফটের মতো কোম্পানিগুলো একের পর এক প্রযুক্তি নিয়ে আসছে।