সাবেক খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম সংসদীয় আসন ঢাকা-২ থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন। ২০০৮ সাল থেকেই তিনি এই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়ে আসছেন। একাদশ জাতীয় নির্বাচনে তিনি খাদ্যমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকার সময় বাড়িভাড়া, মন্ত্রী হিসেবে সম্মানী, মুক্তিযোদ্ধা ভাতা, ব্যাংক সুদ ও টক শো থেকে তার আয় হতো ২৮ লাখ ৬৯ হাজার ১৬৮ টাকা। আর মন্ত্রিত্ব যাওয়ার পরে তার বার্ষিক আয় বেড়েছে। এবার নির্বাচনী হলফনামায় তার বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ১ কোটি ৩১ লাখ ৫৫ হাজার ৭১৬ টাকা। ২০১৮ সালে মন্ত্রী থাকার সময় পেশা থেকে কোনো আয় না হলেও এবারের হলফনামায় দেখা গেছে তার পেশা থেকেও বড় একটা আয় আসছে। তার পেশা শিক্ষাকতা, চিকিৎসা, আইন, পরামর্শক হিসেবে তার বার্ষিক আয় ৯৫ লাখ ২ হাজার ৬৬৭ টাকা দেখানো হয়েছে। এবারের হলফনামা অনুযায়ী তার বার্ষিক আয় বেড়েছে কোটি টাকার বেশি। কামরুল ইসলাম বর্তমানে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য।
কামরুল ইসলামের অস্থাবর সম্পদে দেখা যায় নগদ টাকা আছে ৩ লাখ ৭৬ হাজার ৮৮১ টাকা। মন্ত্রী থাকাকালে তার নগদ ছিল ১১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এবারের হলফনামায় তার ব্যাংকে আছে ২ কোটি ১০ লাখ ৭৫ হাজার ৭৫৬ টাকা। মন্ত্রী থাকাকালে তার ব্যাংকে ছিল ৪১ লাখ টাকা। এ ছাড়া এবারের হলফনামায় ৩৫ লাখ ১৩ হাজার ৬৪৫ টাকা এফডিআর, ২টি গাড়ি, যার মূল্য প্রায় দেড় কোটি টাকা। ১০ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার, ইলকট্রনিকস ও আসবাব ৪ লাখ ১০ হাজার এবং অন্যান্য খাতে ৫৭ লাখ ১০ হাজার ৬৬৭ টাকা দেখানো হয়েছে।
একাদশ নির্বাচনে মন্ত্রী থাকাকালে তার অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৩১ লাখ ৫২ হাজার ১০৯ টাকা। এবারের হলফনামায় তার অস্থাবর সম্পদ ৪ কোটি ৫৯ লাখ ৪৭ হাজার ৪১১। গতবারের চেয়ে কামরুল ইসলামের অস্থাবর সম্পদ বেড়েছে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা।
হলফনামায় স্থাবর সম্পদ থেকে দেখা যায় কামরুল ইসলামের মিরপুর হাউজিং এস্টেটে ৪ কাঠা জমি, যার মূল্য ৩ লাখ ৬১ হাজার ৬০০ টাকা, পূর্বাচলে ১০ কাঠা জমি, যার মূল্য প্রায় ৪০ লাখ টাকা দেখানো হয়েছে। লালবাগে পৈতৃক বাড়ির ৯৬৬ বর্গফুটের মূল্য ১২ লাখ ৬৫ হাজার ৮৯১ টাকা। এ ছাড়া পৌনে ২ কাঠায় মিরপুরে দুটি ফ্ল্যাট হলফনামায় দেখানো হয়েছে, যার মূল্য দেখানো হয়েছে ৪ লাখ ৩৬ হাজার ৭০৭ টাকা।