কারাবন্দি মায়ের নোবেল পুরস্কার সন্তানদের হাতে

ইরানে কারাবন্দি বিশিষ্ট মানবাধিকার ব্যক্তিত্ব নার্গিস মোহাম্মদির (৫১) পক্ষে নোবেল পুরস্কার গ্রহণ করেছে তার দুই সন্তান। গত রবিবার নরওয়ের অসলোতে এক অনুষ্ঠানে তাদের হাতে এ পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। ইরানে নারী নিপীড়নের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের স্বীকৃতি হিসেবে এ বছর নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত হয়েছিলেন নার্গিস।

বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, নার্গিস ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত। বর্তমানে তেহরানের একটি কারাগারে রয়েছেন। কারাগার থেকেই একটি বক্তব্য পাঠিয়েছেন তিনি। নোবেল প্রদান অনুষ্ঠানে কারাবন্দি মায়ের লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনায় নার্গিসের ১৭ বছর বয়সী দুই যমজ সন্তান কিয়ানা রহমানি ও আলী রহমানি। ইরানের কুখ্যাত এভিন কারাগার থেকে নার্গিসের লেখা ওই বক্তব্যে বলা হয়, কারাগারের চরম পরিবেশ থেকে তিনি

কথাগুলো তুলে ধরেছেন। তার মতো ইরানের অনেক মানবাধিকারকর্মী বেঁচে থাকার জন্য নিরন্তর সংগ্রাম করে যাচ্ছেন। জনসমর্থন ও বৈধতা হারানো ইরান সরকার দেশটিতে যে কর্র্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থা চাপিয়ে দিয়েছে, তা পরাস্ত করবে ইরানের জনগণ।

নার্গিসকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়া হলো ইরানি তরুণী মাশা  আমিনির মৃত্যুর এক বছর পর। পোশাকবিধি না মানার অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর ইরানের নীতি পুলিশের হেফাজতে মৃত্যু হয় তার। এ ঘটনায় ইরান জুড়ে তুমুল বিক্ষোভ শুরু হয়। ওই বিক্ষোভ পশ্চিমাদের ছড়ির ইশারায় হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছিল ইরান সরকার। এমনকি নোবেল কমিটির বিরুদ্ধে মানবাধিকার নিয়ে রাজনীতি করার অভিযোগও আনা হয়।

মাসা আমিনির মৃত্যু ঘিরে বিক্ষোভ ইরান সরকারের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধের পরিসর বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করেন নার্গিস মোহাম্মদি। আজ অসলোতে দেওয়া লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ইরানের নাগরিক সমাজের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আন্তর্জাতিক নাগরিক সমাজের কাছে এটিই উপযুক্ত সময়। এ কাজে আমি সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাব।

নার্গিস ২০১০ সাল থেকে প্রায় অবিচ্ছিন্নভাবে কারাগারে রয়েছেন। তিনি ১৩ বার গ্রেপ্তার হয়েছেন, পাঁচবার দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন এবং ৩১ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি কারাভোগ করছেন প্রোপাগা-া ছড়ানোর দায়ে।

নার্গিসের স্বামী তাঘি রহমানি একজন রাজনৈতিক কর্মী। তিনি নির্বাসিত হয়ে দুই সন্তান নিয়ে প্যারিসে রয়েছেন। নার্গিসের সঙ্গে তাদের কয়েক বছর ধরে দেখা নেই।