পাঁচ বছরের ব্যবধানে মির্জা আজমের অস্থাবর-স্থাবর সম্পদ বেড়ে ৬৫ কোটি ৭১ লাখ ৩০ হাজার ২৯২ টাকায় দাঁড়িয়েছে। এতে তার সম্পদ বেড়েছে ২৫ গুণ। একই সময়ে পাল্লা দিয়ে তার স্ত্রীর সম্পদ বেড়ে ২৯ কোটি ৪৮ লাখ ৭০ হাজার ৫০১ টাকায় দাঁড়িয়েছে। এতে তার স্ত্রীর সম্পদ বেড়েছে ১৬ গুণ। তাদের দুজনের সম্পদ বেড়ে ৯৫ কোটি ২০ লাখ ৮৪৩ টাকা হয়েছে। তবে নগদ টাকা ও ঋণ কমেলেও ২ গুণ আয় বেড়েছে মির্জা আজম এমপির। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণ করে এই তথ্য পাওয়া গেছে।
মির্জা আজম জামালপুর-৩ (মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ১৯৯১ সালে প্রথম সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। এরপর থেকে টানা ষষ্ঠবারের সংসদ সদস্য তিনি।
২০১৮ সালে মির্জা আজমের অস্থাবর-স্থাবর সম্পত্তি ছিল ৪০ কোটি ৯৬ লাখ ২৭ হাজার ১৩১ টাকা। অস্থাবর সম্পত্তি ২৭ কোটি ১৩ লাখ ৯৯ হাজার ৬৯ টাকা এবং স্থাবর সম্পত্তি ১৩ কোটি ৮২ লাখ ২৮ হাজার ৬২ টাকা ছিল। তার দুটি দালান ও একটি ফ্ল্যাট রয়েছে বলে হলফনামা থেকে জানা যায়। সেই সময় তার নগদ ৬ কোটি ৩ লাখ ৫৫ হাজার ৫৩১ টাকা ছিল।
সেই সম্পত্তি পাঁচ বছরে গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৬৫ কোটি ৭১ লাখ ৩০ হাজার ২৯২ টাকা। এতে তার সম্পত্তি বেড়েছে ২৫ গুণ। সে সময় তার বার্ষিক আয় ছিল ১ কোটি ২৮ লাখ ৯৯ হাজার ৩৪২ টাকা। ২০২৩ সালে তার বার্ষিক আয় বেড়ে ৩ কোটি ৬৬ লাখ ২ হাজার ৫৭ টাকায় দাঁড়িয়েছে। ২০১৮ সালে ৭ কোটি ৮৮ লাখ ১৩ হাজার ২৮১ টাকা ঋণ ছিল মির্জা আজমের। বর্তমানে তার ঋণ কমে ৩৭ লাখ ৪২ হাজার ৫০০ টাকা দাঁড়িয়েছে। গত পাঁচ বছরে তার নগদ টাকা ও ঋণ কমলেও আয় বেড়েছে ২ গুণ।
সেই সময় তার স্ত্রীর অস্থাবর-স্থাবর সম্পত্তি ১৩ কোটি ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৮ টাকা ছিল। তার মধ্যে অস্থাবর সম্পত্তি ৬ কোটি ৭২ লাখ ৭৪ হাজার ১ টাকা এবং স্থাবর সম্পত্তি ৬ কোটি ২৮ লাখ ৬৭ হাজার ৪৩৭ টাকা ছিল। মির্জা আজমের সম্পত্তির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সেই সম্পত্তি বেড়ে ২০২৩ সালে দাঁড়িয়েছে ২৯ কোটি ৪৮ লাখ ৭০ হাজার ৫৫১ টাকায়। এতে তার স্ত্রীর সম্পত্তি বেড়েছে ১৬ গুণ। সেই সময় তার স্ত্রীর ২০০ ভরি সোনা ছিল। যার কোনো মূল্য উল্লেখ করা হয়নি। হলফনামায় কোনো আয় ছিল না তার স্ত্রীর।
মির্জা আজম একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত টানা ছয়বার আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিনি ২০০১ সালে বিরোধী দলের হুইপ এবং ২০০৮ সালে সরকার দলীয় হুইপ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া ২০০৩ সালে তাকে কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২০১৪ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। পরে ২০১৯ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। মির্জা আজম এবার সপ্তমবারের মতো আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছেন।