৫ বছরে পৌনে ৮ গুণ আয় বেড়েছে ডা. মুরাদের

পাঁচ বছরের ব্যবধানে ডা. মুরাদ হাসানের অস্থাবর-স্থাবর সম্পত্তি বেড়ে ৩ কোটি ৭৪ লাখ ১৮ হাজার ৭১৭ টাকায় দাঁড়িয়েছে। একাদশ সংসদ নির্বাচনে দাখিল করা মনোনয়নের সম্পদের চেয়ে বেড়েছে পৌনে ২ গুণ। পাঁচ বছরে তার আয় বেড়ে ১ কোটি ৭ লাখ ৮ হাজার ৬৪৪ টাকা দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ আয় বেড়েছে পৌনে ৮ গুণ। তবে সম্পত্তি কমেছে তার স্ত্রীর। টাকা ও ঋণ নেই ডা. মুরাদ হাসানের। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণ করে এই তথ্য পাওয়া গেছে।

ডা. মুরাদ হাসান জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ী) আসনের সংসদ সদস্য। তিনি ২০০৮ সালে প্রথম এবং ২০১৮ সালে দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

২০১৮ সালে তার অস্থাবর-স্থাবর সম্পত্তি ছিল ২ কোটি ৪ লাখ ৫১ হাজার ৯১৬ টাকা। এর মধ্যে অস্থাবর সম্পত্তি ১ কোটি ৫৪ লাখ ৩ হাজার ৯৬৬ টাকা এবং স্থাবর সম্পত্তি ৫০ লাখ ৪৭ হাজার ৯৫০ টাকা। ওই সময় তার ঋণ ছিল ৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা। তবে নগদ কোনো টাকা ছিল না তার।

সম্পত্তি পাঁচ বছরে বেড়ে ৩ কোটি ৭৪ লাখ ১৮ হাজার ৭১৭ টাকায় দাঁড়িয়েছে। এতে তার সম্পত্তি বেড়েছে পৌনে ২ গুণ। ওই সময় তার বার্ষিক আয় ছিল ১৩ লাখ ৮৩ হাজার ২৮৩ টাকা। তার ঋণ ও টাকা না থাকলেও আয় বেড়েছে পৌনে ৮ গুণ। তবে ওই সময় তার একটি শটগান ও একটি পিস্তল থাকলেও এবারের হলফনামায় তার উল্লেখ নেই।

ওই সময় তার স্ত্রীর অস্থাবর সম্পত্তি ৪০ লাখ টাকা ও ১৫০ ভরি স্বর্ণ থাকলেও যার দাম উল্লেখ ছিল না। স্থাবর সম্পত্তির মধ্যে একটি ফ্ল্যাট দান সূত্রে প্রাপ্ত ছিল। এবার ২৫ তোলা স্বর্ণ, যার দাম ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তার স্ত্রীর কোনো স্থাবর সম্পত্তি নেই।

ডা. মুরাদ হাসান একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দ্বিতীয়বার আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ২০১৮ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এবং পরে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। ওই সময় একজন চিত্রনায়িকার সঙ্গে কুরুচিপূর্ণ ও অশ্লীল ফোনালাপের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। একজন প্রতিমন্ত্রীর মুখে এ ধরনের ভাষায় বিব্রত হন সংশ্লিষ্টরা। আবার বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নাতনিকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করা নিয়েও সমালোচনায় পড়েন তিনি। এসব বিতর্কিত কর্মকান্ডে প্রতিমন্ত্রীর পদসহ দলীয় সব পদ হারিয়েছেন। বিতর্কিত কর্মকা-ের জন্য ডা. মুরাদ হাসান এবার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাননি। তবে তিনি স্বতন্ত্র হয়ে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছেন।