সরকারের ‘নিপীড়ন-নির্যাতনের’ কারণে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী, সাংবাদিকÑ সবাই আতঙ্কের মধ্যে দিন পার করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে ভার্চুয়াল ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
রিজভী বলেন, ‘কিছুদিন আগে এক মহামান্য বিচারপতি বলেছিলেন দেশটাকে জাহান্নামে পরিণত করা হয়েছে। সেই জাহান্নামের পরিস্থিতি সকল দিক দিয়ে গত দেড় দশক সুস্পষ্ট। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ব্যবসায়ীরা, গণমাধ্যমকর্মীরা সবাই আজ আতঙ্কের মধ্যে দিন পার করছেন। এই অবৈধ সরকার অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনকে কবরস্থ করেছে, মাটিচাপা দিয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচন এরা বিশ্বাস করে না। এরা অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনকে তামাশা করে। এদের অধীনে কখনো অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না।’
বিশ্বের গণতন্ত্রকামী দেশগুলো বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন দেখতে চায় উল্লেখ করে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘এ সরকারের পদত্যাগ ছাড়া বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না। শুধু একজন নিরপেক্ষ যিনি কোনো রাজনীতি বা দলের সঙ্গে জড়িত নন, তার অধীনেই অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে।’
বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে তাদের মন্ত্রী-নেতাকর্মীরা এত কথা বলেন কিন্তু অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের কথা বললে তারা এত বিচলিত হন কেন? তারা অস্থির হয়ে যান। এক ভীতির মধ্যে পড়েন। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তাদের পরিণতি কী হয় এই ভয় থেকেই তারা অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে চান না।’
রিজভী বলেন, ‘রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গোয়েন্দা বাহিনী ব্যবহার করে প্রতিবেশী বন্ধুরাষ্ট্রের শক্তিকে ব্যবহার করছে, তা প্রতিদিন সুস্পষ্ট হয়ে উঠছে। অর্থাৎ বাংলাদেশের মানুষ এখন পরাধীন। আমরা এখন একক উপনিবেশ শাসনের অধীনে রয়েছি। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকার কোন শক্তির প্রতিনিধি হিসেবে এ দেশে কাজ করছে? গ্যারান্টি হচ্ছে তারা সেই সমস্ত দেশের স্বার্থ রক্ষা করবে। যেই সমস্ত দেশ গণতন্ত্র বিশ্বাস করে না।’