হামাসকে নির্মূল করতে কয়েক মাস পর্যন্ত গাজা যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারে ইসরায়েল। গাজায় আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত ১৯ হাজার ফিলিস্তিনিকে হত্যার পর ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ট গতকাল বৃহস্পতিবার এমন আভাস দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভানের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি ওই অভিমত ব্যক্ত করেন। বর্তমানে সুলিভান ইসরায়েল সফর করছেন। এর আগে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, হামাসকে নির্মূল না করা পর্যন্ত চলবে যুদ্ধ।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভানের সঙ্গে গতকাল ইসরায়েলে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে সুলিভানকে গ্যালান্ট জানান, হামাসকে ধ্বংস করতে যুদ্ধে কয়েক মাস লাগতে পারে। এ সময় তিনি ইসরায়েল সফরের জন্য মার্কিন কর্মকর্তাকে ধন্যবাদ জানান।
বৈঠকে গ্যালান্ট বলেন, ‘এতে সময় লাগবে। কয়েক মাসও লাগতে পারে। কিন্তু আমরা জিতব এবং আমরা তাদের (হামাস) ধ্বংস করতে সক্ষম হব।’
রাফাহ, জাবালিয়াসহ উপত্যকার নানা প্রান্তে চলছে মুহুর্মুহু আক্রমণ। হাসপাতালে ঢুকে আহত রোগীদের চিকিৎসা না দিতে চিকিৎসাকর্মীদের বাধ্য করছে ইসরায়েলি সেনারা। এদিকে গত বুধবার ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত আক্রমণ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
গাজা উপত্যকার শাসক হামাস জানায়, জাবালিয়ায় ইসরায়েলি বাহিনী হাসপাতাল ধ্বংস করেছে। সেখানে চিকিৎসা-সংশ্লিষ্ট কর্মীদের হয়রানি করেছে তারা। হাসপাতালে প্রবেশ করে তারা আহতদের চিকিৎসা দিতে বাধা দেয়। চিকিৎসা না পেয়ে দুজন মারা যান। নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) থাকা শিশুদের জীবন শঙ্কার মধ্যে রয়েছে; কারণ বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দিয়েছে সেনারা। তবে হাসপাতালে হামলা নিয়ে ইসরায়েল দাবি করেছে, হাসপাতালকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাসী আক্রমণের ঘাঁটি গড়ে তোলা হয়েছিল। হাসপাতালের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসা প্রায় ৭০ জন আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়েছে ইসরায়েলি সেনাদের কাছে।
গত মঙ্গলবার হামাসের পাল্টা হামলায় ১০ জন ইসরায়েলি সেনা প্রাণ হারায়। গাজা শহরের শেজাইয়া এলাকায় এ ঘটনার পর যেন ইসরায়েলি বাহিনীর প্রতিশোধের নেশায় উন্মত্ত হয়ে পড়েছে। গাজার ৫৩ বছর বয়সী এক নারী জানান, গত বুধবার রাতে ইসরায়েলি বাহিনী তীব্র আক্রমণ চালায়। মনে হচ্ছে তারা প্রতিশোধ নিতে মরিয়া হয়ে আক্রমণ চালাচ্ছে। বেসামরিক মানুষের বাড়িঘর বোমায় উড়িয়ে দিচ্ছে তারা।
ইসরায়েলি বাহিনী দাবি করেছে, শেজাইয়া এলাকায় একটি স্কুলে হামাস ঘাঁটি তৈরি করেছিল। সেখানে ওই ঘাঁটি এবং দুটি সুড়ঙ্গ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া খান ইউনিস শহরে রকেট উৎক্ষেপণের কেন্দ্র এবং অস্ত্রাগার ধ্বংস করা হয়েছে।
এ অবস্থায় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, হামাসের বিরুদ্ধে বিজয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েল যুদ্ধ চালিয়ে যাবে।
গাজায় চলমান যুদ্ধের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যে গত বুধবার ভিডিওবার্তায় তিনি এ কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এর শেষ দেখে ছাড়ব। এ নিয়ে কোনো প্রশ্ন রাখারই সুযোগ নেই। আন্তর্জাতিক চাপ রয়েছে, তবে অনেক যন্ত্রণাবোধ থেকে কথা বলছি। কোনো কিছুতেই আমাদের থামানো যাবে না। একদম শেষ পর্যন্ত, বিজয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমরা আমাদের কাজ চালিয়ে যাব।’