স্বামীর সন্ধানে চুনারুঘাটে পাকিস্তানি নারী, এরপর...

স্বামীর সন্ধানে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় ছুটে এসেছেন মাহা বাজোয়ার (৩০) নামে এক পাকিস্তানী নারী। গত শুক্রবার (০৮ ডিসেম্বর) মাহা বাজোয়ার চুনারুঘাট আসার পর থেকে পৌর এলাকার ২ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর বড়াইল এলাকার একটি বাড়িতে উঠেছেন।

চুনারুঘাট আসার পর এই নারী নিজেকে পাকিস্তানের বাসিন্দা বলে পরিচয় দেন। তার স্বামীর খোঁজে হবিগঞ্জে এসেছেন বলেও জানান তিনি। জানা যায়, মাহা বাজোয়ারের বাড়ি পাকিস্তানের লাহোরে। তার বাবার নাম মকসুদ আহমেদ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশে  মাহা বাজোয়া সাজ্জাদ হোসেন মজুমদারকে স্বামী দাবি করে এবং স্পন্সরকারী হিসেবে বাংলাদেশ আসতে চান। এনিয়ে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ সংশ্লিষ্ট থানাকে তদন্তের দায়িত্ব দেন।

পরবর্তীতে থানার উপপরিদর্শক এসআই লিটন রায় সাজ্জাদের কাগজপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, মাহা বাজোয়া সাজ্জাদের তালাকপ্রাপ্ত। তাদের মধ্যে কোনো সম্পর্ক নেই। এ সংক্রান্ত ২০২২ সালের গত ১৪ জুলাই হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার বরাবরে প্রতিবেদন দাখিল করলে ঘটনা প্রকাশ পায় এবং মাহা বাজোয়া তখন বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেননি।

পাকিস্তানের এ নারী জানান, তার স্বামীর নাম সাজ্জাদ হোসেন মজুমদার (৩৫)। তিনি হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর বড়াইল এলাকার শফি উল্লা মজুমদারের ছেলে। স্বামীর খোঁজে এসে মাহা হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট পৌরসভায় স্বামী দাবি করা ব্যক্তির বাড়িতেই অবস্থান করছেন।

সাজ্জাদের ভাই স্বপন মজুমদার বলেন, ২০১৪ সালে পাকিস্তানের লাহোরে উক্ত পাকিস্তানি তরুণীকে বিয়ে করেন তার ভাই সাজ্জাদ। এরপর পর সাজ্জাদ তাকে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন এবং পরে পুনরায় পাকিস্তান চলে যান। সাজ্জাদ ১৭ নভেম্বর পুনরায় দেশে ফেরেন। একই দিনে বাংলাদেশে ফেরেন মাহাও।

তিনি আরও বলেন, দুবাইয়ের একটি নাইট ক্লাবে সাজ্জাদ চাকরি করতেন। সেখানেই মাহার সঙ্গে তার পরিচয়। পরে তারা বিয়ে করেন। একপর্যায়ে তাদের সংসারে ভাঙন ধরে। সাজ্জাদ দেশে ফিরলে মাহাও বাংলাদেশে এসে হাজির হয়েছেন। এ মুহূর্তে সাজ্জাদ উপস্থিত নেই বাড়িতে। সে এলে এলাকার গণ্যমান্যদের নিয়ে বসে বিষয়টির সুরাহা করা হবে।

আরও জানা যায়, ২০১৮ সালে মাহা ও সাজ্জাদের তালাক হয়। কিন্তু মাহা তা মেনে নিচ্ছেন না। তিনি স্বামীর সঙ্গে সংসার করতে চান। এদিকে পাকিস্তানি নারীকে মারধরের অভিযোগও উঠেছে। ইতোমধ্যে মামলাও হয়েছে।

এ বিষয়ে চুনারুঘাট থানার ওসি হিল্লোল রায় জানান, পাকিস্তানি নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে থানায় মামলা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে গুরুত্ব সহকারে আমরা কাজ করছি।

চুনারুঘাট থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিল্লোল রায় বলেন, মারধরের অভিযোগ এনে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন মাহা বাজোয়া। খবর পেয়ে চুনারুঘাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে বক্তব্য শুনেছে। আমার বিষয়টি তদন্ত করছি। 

মাহা বাজোয়াকে মারধরের প্রসঙ্গে তার আইনজীবী হবিগঞ্জ জজ কোর্টের অ্যাডভোকেট এমএ মজিদ বলেন, আজ সকালে তাকে মারধর করা হয়েছে। আমরা মামলাার প্রস্তুতি নিচ্ছি। 

তিনি আরও বলেন, গত বুধবার (১৩ ডিসেম্বর) মাহা বাজোয়া স্ত্রীর অধিকার ফিরে পেতে চুনারুঘাটে সাজ্জাদ হোসেন তালুকদারের বাড়িতে যান। তাকে মারধর করা হয়েছে। যেহেতু মাহা একজন বিদেশি নাগরিক। তাকে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে নিরাপত্তা দেওয়া প্রয়োজন।