জাফর উল্লাহ সমর্থকদের খিচুড়ি মাটিতে ফেলল নিক্সন সমর্থকরা

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় বিজয় দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আলোচনা সভায় আপ্যায়নের জন্য রান্না করা দুই ডেকচি খিচুড়ি মাটিতে ফেলে নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে। গত শুক্রবার সন্ধ্যার পর উপজেলার ঘারুয়া ইউনিয়নের রশিবপুরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-৪ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী কাজী জাফর উল্লাহর সমর্থক ও দলের ওয়ার্ড কমিটির সাবেক সভাপতি ফিরোজ মাতুব্বর গণমাধ্যমকে বলেন, বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে তার বাড়ির উঠানে আলোচনা সভার আয়োজন করেন নেতাকর্মীরা। নেতাকর্মীদের আপ্যায়নের জন্য দুই হাঁড়ি খিচুড়ি রান্না করা হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ১০-১৫টি মোটরসাইকেলে করে ঘারুয়া ইউপি চেয়ারম্যান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী নিক্সন চৌধুরীর সমর্থক মুনসুর মুন্সী, বাহার হাওলাদার, মনির হাওলাদার, মজিবুর মুন্সী, কবির মুন্সীসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ২০ জন সেখানে উপস্থিত হন।

ফিরোজ মাতুব্বর বলেন, ‘তারা আমাদের ভয়ভীতি দেখায় এবং গালিগালাজ করে। একপর্যায়ে রান্না করা খিচুড়ি মাটিতে ফেলে নষ্ট করে চেয়ারম্যানের লোকজন। তারা আমাদের সেখান থেকে চলে যেতে বলে। না হলে সবাইকে খুন-জখমের হুমকি দেন ইউপি চেয়ারম্যান ও তার সহযোগীরা। এ সময় ভয়ে নেতাকর্মী ও সাধারণ নারী-পুরুষ ছোটাছুটি করে সভাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়।’ এ ঘটনায় রাত সাড়ে ১১টার দিকে থানায় অভিযোগ দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য অ্যাডভোকেট কামাল উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ফিরোজ মাতুব্বরের বাড়ির উঠানে সভা করছিলাম। এ সময় অনেকগুলো মোটরসাইকেলে করে এসে ইউপি চেয়ারম্যান মুনসুর মুন্সী ও তার সহযোগীরা গালিগালাজ করতে করতে সভাস্থল থেকে দ্রুত সরে যেতে বলে। তা না হলে উপস্থিত সবাইকে মেরে ফেলা হবে বলে হুমকি দেয় তারা। এরপর চেয়ারম্যানের লোকজন নেতাকর্মীদের আপ্যায়নের জন্য রান্না করা দুই হাঁড়ি খিচুড়ি মাটিতে ফেলে নষ্ট করে দেয়।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি চেয়ারম্যান মুনসুর মুন্সী সাংবাদিকদের বলেন, ‘এ ধরনের কোনো ঘটনা আমার এলাকায় ঘটেনি। আমার বিরুদ্ধে নৌকার সমর্থক কাজী জাফর উল্যাহর নেতাকর্মীরা অপপ্রচার চালাচ্ছেন। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।’

ভাঙ্গা থানার ওসি এমএ জলিল জানান, এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছেন। তদন্ত করে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্বতন্ত্র সমর্থকদের ওপর নৌকার কর্মীদের হামলা : চাঁদপুর-২ (মতলব উত্তর-দক্ষিণ) আসনে নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর সমর্থকদের হামলায় এক স্বতন্ত্র প্রার্থীর ১৫ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। গত শুক্রবার ও গতকাল শনিবার মতলব উত্তরে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় ৪টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মতলব উত্তর থানার ওসি মোহাম্মদ রাশেদ মোবারক সাংবাদিকদের বলেন, হামলা-সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এই ঘটনায় কোনো অভিযোগ পাননি তারা।

চাঁদপুর-২ আসনে নৌকার প্রার্থী আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া। সেখানে আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী এম ইসফাক আহসান।

গতকাল দুপুরে মতলব উত্তরে নিজ বাসায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ইসফাক আহসান বলেন, প্রার্থিতা ঘোষণার পর থেকেই তার লোকজনকে হুমকি-ধমকি দেওয়া ও মারধর করে আসছেন মায়া চৌধুরীর লোকজন। এ নিয়ে লিখিত ও মৌখিকভাবে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এরপরও থামেনি হামলা ও নির্যাতন। শুক্র ও শনিবার নেতাকর্মীরা তার বাসায় আসার পথে নৌকার প্রার্থীর লোকজন তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি ফাহিম, মতলব উত্তর পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তামিম, ছাত্রলীগ নেতা রাব্বি হাসান শান্ত, আরাফাত হোসেন নিপু, রিহান, তাহসিন, মুরাদ ও শান্ত সরকারসহ ১৫-২০ জন নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের চাঁদপুর সদর হাসপাতাল ও মতলব দক্ষিণ উপজেলা  হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ইসফাক অভিযোগ করেন, নৌকা সমর্থক সোবহান সরকার শুভ, মেহেদী হাসান কাজল, কামরুল, খোরশেদ আলম অপু, হোসেন প্রামাণিক, বাবু প্রামাণিকসহ ২৫-৩০ জন এই হামলা চালায়।

তিনি বলেন, তার নেতাকর্মীদের ওপর  এমন হামলার ঘটনায় সাধারণ ভোটাররা সন্ত্রস্ত। এভাবে চলতে থাকলে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করা সম্ভব হবে না।

আবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ জানাবেন বলে এই স্বতন্ত্র প্রার্থী জানান। তিনি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিতের জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে নৌকার প্রার্থী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার কাছে গত ৪ ডিসেম্বর ব্যাখ্যা চায় নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির চেয়ারম্যান ও চাঁদপুরের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ সাইয়েদ মাহবুবুল ইসলাম। এর পরিপ্রেক্ষিতে মায়ার পক্ষের আইনজীবী লিখিত ব্যাখ্যা জমা দিয়েছেন।

হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘আমরা কোনো অভিযোগ পাইনি। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’