ভুলে নিজেদের তিন হত্যার পর ইসরায়েলের ইউটার্ন

গাজা যুদ্ধ গতকাল শনিবার অনেকগুলো ঘটনাবহুল পরিস্থিতির সাক্ষী হয়েছে। ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের হাতে বন্দি থাকা তিন ইসরায়েলি সেনাকে গুলি করে নিজেরাই হত্যা করেছে ইসরায়েল, যা তেলআবিব স্বীকারও করে নিয়েছে। এরপর ইসরায়েলের রাজধানী তেলআবিবে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। আবার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যমের ফটোসাংবাদিক সামির আবুদাকা নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে শোনা যাচ্ছে, নতুন করে যুদ্ধবিরতির আলোচনা করতে নরওয়ের রাজধানী অসলোতে গেছেন ইসরায়েলি গোয়েন্দাপ্রধান। এদিকে গাজায় সর্বশেষ ২৫ জন যোদ্ধাকে হত্যা ও ৫০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ইসরায়েল।

সূত্রের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবর, যুদ্ধবিরতির পাশাপাশি জিম্মি ও বন্দিদের মুক্তি দেওয়ার প্রক্রিয়া আরও এক দফা এগিয়ে নিতে কাতারের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আবদুলরাহমান আল থানির সঙ্গে দেখা করতে নরওয়ের রাজধানী অসলোতে গেছেন ইসরায়েলি গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। দফায় দফায় যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব ও বন্দিবিনিময়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের পর অসলোর বৈঠকে যাওয়ার ঘটনাটিকে ইসরায়েলের ইউটার্ন হিসেবে দেখছেন অনেকে। অসলোর বৈঠকে ইসরায়েলি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে রয়েছেন দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের প্রধান দাভিদ বারনিয়া। এ সময় মোসাদপ্রধানের সঙ্গে মিসরের কর্মকর্তাদেরও বৈঠক হতে পারে। এর মধ্য দিয়ে হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে নতুন করে বন্দিবিনিময় হতে পারে।

আইডিএফ গতকাল জানিয়েছে, নিহত তিন জিম্মির নাম ইয়োতাম হাইম (২৮), সামির তালালকা (২২) ও অ্যালন শামরিজ (২৬)। এই তিন সেনাকে ‘হুমকি’ হিসেবে ধরে ‘ভুল করে’ হামলা চালানো হয়েছিল। উত্তর গাজার শেজাইয়ায় হামলার মুখে পড়েন তারা। গত শুক্রবারের এই ঘটনায় ‘অনুশোচনা’ প্রকাশ করে ইসরায়েলি বাহিনী।

ইসরায়েলি গণমাধ্যমের খবর, গুলি চালানোর আগে ওই তিন সেনা সাদা পতাকা দেখিয়েছিলেন। এ ঘটনাকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ‘অসহনীয় ট্র্যাজেডি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে নজিরবিহীন প্রাণঘাতী আক্রমণ চালানোর পর প্রায় ২৪০ জনকে বন্দি করে গাজায় নিয়ে জিম্মি করে হামাস। যুদ্ধবিরতির আওতায় গত মাসে শতাধিক জিম্মিকে ছেড়েও দেয় হামাস। এখনো কয়েক ডজন জিম্মি রয়েছে হামাসের হাতে।

আইডিএফ বিবৃতির মধ্য দিয়ে জানিয়েছে, তাদের লক্ষ্য, নিখোঁজ মানুষদের খুঁজে বের করা এবং সব জিম্মিকে বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে আসা।

ইসরায়েলি গুলিতে তিন সেনা নিহত হওয়ার খবর সামনে আসার পর শত শত মানুষ তেলআবিবের কেন্দ্রস্থলে জড়ো হয়। এ সময় তারা সমাবেশ করে বাকি জিম্মিদের মুক্তির দাবি জানাতে থাকে। মোমবাতি জ¦ালিয়ে ‘তাদের বাড়িতে নিয়ে আসো’ এবং ‘এখনই জিম্মি বিনিময় করো’ প্রভৃতি লেখা প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করে বিক্ষোভকারীরা।

এ সময় ইলানা জেফ্রেন নামের এক বিক্ষোভকারী বলেন, ‘আমি বলছি, যা কিছু ঘটেছে এবং এখনো যা ঘটছে তার জন্য দায়ী হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তার হাতে রক্ত লেগে রয়েছে। অনেক রক্ত। তার এখনই পদত্যাগ করা উচিত।’

আবার গাজায় অভিযান চালিয়ে ২৫ জন ফিলিস্তিনি যোদ্ধাকে হত্যার দাবি করেছে আইডিএফ। গতকাল এই অভিযানের সময় আরও ৫০ যোদ্ধাকে গ্রেপ্তার করেছে ইসরায়েল। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, গ্রেপ্তার ফিলিস্তিনিদের জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য ইসরায়েলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

এদিকে ইসরায়েলের হামলায় পড়ে আলজাজিরার ফটোসাংবাদিক সামের আবুদাকা নিহত হয়েছেন। গত শুক্রবার দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে প্রাণ হারান তিনি। এ সময় তিনি অঞ্চলটির ফারহানা স্কুল থেকে ইসরায়েলি হামলার ভিডিও ধারণ করছিলেন। আলজাজিরা জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে কার্যক্রম চালাতে গিয়ে প্রতিষ্ঠানটি ১৩ সাংবাদিককে হারিয়েছে।