ঘোষণা দিলেই হয় অমুক এমপি তমুক মন্ত্রী : নজরুল

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজধানী ঢাকায় র‌্যালি করেছে বিএনপি। গতকাল দুপুর ২টা ২২ মিনিটে কার্যালয়ের সামনে খোলা ট্রাকে দাঁড়িয়ে র‌্যালিপূর্ব সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান সরকারকে উদ্দেশ্যে করে বলেন, ‘দেশের মানুষ এত কষ্টে আছে, সাধারণ মানুষ দুই বেলা খেতে পারছে না সেখানে ২ হাজার কোটি টাকা খরচ করে এই নির্বাচন করার কী অর্থ আছে? ঘোষণা করে দিলেই হয় অমুক এমপি, তমুক মন্ত্রী।’

সমাবেশে অংশ নিতে গতকাল সকাল ১১টার পর থেকে নয়াপল্টনে কার্যালয়ের সামনে এসে জড়ো হন নেতাকর্মীরা। তারা পোস্টার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে সরকারবিরোধী সেøাগান দিতে দিতে সমাবেশস্থলে আসেন। সমাবেশের আগে নাইটিঙ্গেল মোড় থেকে ফকিরাপুল মোড় পর্যন্ত দলীয় কর্মী-সমর্থকদের অবস্থান করতে দেখা যায়। সমাবেশস্থল ও এর আশপাশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য বাড়ানো হয়। বিজয় র‌্যালিতে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি ঢাকা জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরাও অংশ নেন। সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে বেলা ২টা ৪৪ মিনিটের দিকে কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয় শোভাযাত্রা। নয়াপল্টন থেকে নাইটিঙ্গেল মোড়, কাকরাইল মোড় হয়ে শান্তিনগর মোড় ঘুরে আবারও কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয় এই শোভাযাত্রা। শোভাযাত্রার আগে সমাবেশে নজরুল ইসলাম খান ছাড়া বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খানসহ আরও অনেকে। সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, বাংলাদেশের কোনো বিরোধী দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে না। যারা এই নির্বাচনের খেলায় যোগ দিয়েছে তারা সবাই ক্ষমতাসীন দলের প্রধানকে পা ছুঁয়ে সালাম করে, তার দোয়া নিয়ে নির্বাচনে নামছে। সবাই জানে, পত্রপত্রিকায় ছাপা হচ্ছে কারা, কোন দল কয়টা আসন পাবে, কোন নেতা কোন এলাকা থেকে নির্বাচন করবে। এটা কোনো নির্বাচন, ভাবতে পারেন? মানুষ বলছে, একবার নির্বাচন হলো প্রার্থী ছিল না, আরেকবার নির্বাচন হলো রাতের বেলায় ভোট হয়ে গেল আর এবারের নির্বাচন হলো ডামি নির্বাচন।’

নজরুল ইসলাম খান বলেন, নির্বাচনের নামে রসিকতা হচ্ছে। রসিকতার জন্য আমরা দেশ স্বাধীন করিনি। আমরা চাই বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হোক। নির্বাচনে সবাই অংশগ্রহণ করবে। প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। জনগণ যাকে পছন্দ করবে তারা নির্বাচিত হবে। আমরা সেই নির্বাচন আদায়ের জন্য লড়াই করছি। এই লড়াইয়ে আমাদের অনেক সাথী জীবন দিয়েছে, অনেকে কষ্ট করেছে এখনো করছে আমরা তাদের রক্তের সঙ্গে, কষ্টের সঙ্গে বেইমানি করব না। এই লড়াই চলবে ততদিন পর্যন্ত যতদিন না জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা হয়।

সরকারকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছি সরকারের যদি সৎ সাহস থাকে, সরকার যদি মনে করে তারা উন্নয়ন করে বাংলাদেশকে জোয়ারে ভাসিয়ে দিয়েছে তাহলে ক্ষমতা ছুড়ে ফেলে দিয়ে একটি সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনে আসুক। জনগণ তাদের ইচ্ছামতো ভোট দিক। দেখা যাবে, কে জেতে।

তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন না করে সরকার টাকা-পয়সা আদান-প্রদান, সিট ভাগাভাগি করে একটি ভুয়া সংসদ নির্বাচন করার পথে যাচ্ছে। এটা কোনো নির্বাচন হতে পারে না। পৃথিবীর কোনো দেশে এ ধরনের নির্বাচন হয় না। এমনকি বাংলাদেশের মতো প্রকাশ্যে বাহাদুরি করে পৃথিবীর যেসব দেশ গণতন্ত্রের বিশ্বাস করে না তারাও ভোটচুরি করে না।

শোভাযাত্রায় বিএনপি নেতাদের মধ্যে অংশ নেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, বিএনপি নেতা কামরুজ্জামান রতন, তাইফুল ইসলাম টিপু, কাদের গণি চৌধুরী, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, বজলুল করিম চৌধুরী আবেদ, হাসান মামুন প্রমুখ। পেশাজীবীদের মধ্যে অংশ নেন প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম রিজু, প্রকৌশলী আশরাফ উদ্দিন বকুল, ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. লুৎফর রহমান, অধ্যাপক ড. ছিদ্দিকুর রহমান খান, অধ্যাপক শামসুল আলম সেলিম, অধ্যাপক নূরুল ইসলাম, অধ্যাপক কামরুল আহসান, প্রকৌশলী মাহবুব আলম প্রমুখ।

এর আগে সকালে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহীদ বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান বিএনপির নেতাকর্মীরা। সেখান থেকে ফিরে শেরেবাংলা নগরে দলের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান এবং তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করেন নেতাকর্মীরা।