মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ি উপজেলার হাসাইল এলাকায় পদ্মার শাখা নদীতে বাল্কহেডের ধাক্কায় ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শনিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। রাত ১০টা পর্যন্ত দুজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছে আরও বেশ কয়েকজন।
নিহত দুজন হলো টঙ্গীবাড়ি উপজেলার মান্দ্রা গ্রামের নজরুল ব্যাপারীর মেয়ে সিফা আক্তার (১৫) ও নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার ফারুক হোসেনের মেয়ে ফাইজার (৬)।
উপজেলার হাসাইল-বানারী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য বাবু হালদার জানান, সন্ধ্যায় হাসাইলের চর থেকে খেয়া পারাপারের একটি ট্রলার ২০-২২ জন যাত্রীবোঝাই করে হাসাইল বাজারের গুদারাঘাটের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। ট্রলারটি গুদারাঘাটের কাছাকাছি এলে বালুবাহী বাল্কহেড ধাক্কা দেয়। এতে ট্রলারটি ডুবে যায়।
টঙ্গীবাড়ি থানার ওসি মো. রাজিব খান জানান, খবর পেয়ে টঙ্গীবাড়ি ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা উদ্ধার অভিযানে নেমেছে। স্থানীয়রা দুজনের লাশ উদ্ধার করে। দক্ষিণ দশআনি নামে বাল্কহেডটি আটক করেছে স্থানীয়রা। তবে বাল্কহেডের চালক ও কর্মচারীরা পালিয়েছে।
ওসি জানান, ট্রলারডুবিতে অধিকাংশ যাত্রীই সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হয়েছেন। স্থানীয়রা বলছেন, তিন থেকে চারজন নিখোঁজ আছেন। তবে নিখোঁজের প্রকৃত সংখ্যা জানা যায়নি।
বেপরোয়া বাল্কহেড চলাচলের কারণে মুন্সীগঞ্জের পদ্মা ও মেঘনায় একের পর এক নৌ-দুর্ঘটনা ঘটে চলেছে। চলতি বছরের ৬ অক্টোবর জেলার গজারিয়া লঞ্চঘাটের অদূরে বালুবাহী বাল্কহেডের ধাক্কায় পিকনিকের ট্রলার ডুবে ছয়জনের প্রাণহানি ঘটে। এ বছরের ৫ আগস্ট জেলার লৌহজং উপজেলার রসকাটি গ্রামসংলগ্ন তালতলা-ডহরী খালে বাল্কহেডের ধাক্কায় লঞ্চ ডুবে ১০ জন নিহত হয়। এ ছাড়া ছয় মাস আগে টঙ্গীবাড়ি উপজেলার হাসাইল গ্রামসংলগ্ন পদ্মা নদীতে বাল্কহেডের ধাক্কা নৌকা ডুবে এক জেলের মৃত্যু হয়।