ফিরিয়ে আনতে হবে বেনামের ঋণগুলো

রাষ্ট্রায়ত্ত একটি ব্যাংক থেকে এক গ্রুপ ৫ হাজার কোটি টাকা নিয়েছে। আরেকজন উদ্যোক্তার ২৯টা প্রতিষ্ঠান ৪ বছরে ২২ হাজার কোটি টাকা নিয়ে গেছে। এগুলোকে আপনি বলছেন ঋণখেলাপি? এগুলো সরকার স্বেচ্ছায় ঋণ দিয়েছে। জনতা ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক থেকে শুরু করে অনেক ব্যাংকে বহু ঋণ আছে। যে ঋণগুলো সরকার স্বেচ্ছায় দিয়েছে। এ দায় আমরা ব্যবসায়ীরা কেন নেব?

আমি ইন্ডাস্ট্রি চালাচ্ছি, এক সময় লাভে ছিলাম। কিন্তু এখন নানা কারণে রপ্তানি করতে পারি না। গত বছর একটা পত্রিকায় দেখলাম একটা কোম্পানি ৯০০ কোটি টাকা নিয়ে গেছে, যারা ঋণ নেওয়ার ১৫ থেকে ২০ দিন আগে ট্রেড লাইসেন্স করেছে। কিন্তু যে টাকার অস্তিত্ব খুঁজে পাবেন না, সেটিকে আপনি উদ্যোক্তা ঋণ বলবেন? এই ঋণের বোঝাগুলো ব্যবসায়ীদের কাঁধে দায় চাপানো হয়। এসব বেনামী ঋণ ফিরিয়ে আনতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকে সুশাসন নেই এটি বাস্তব কথা। কিন্তু আপনি যখন ইন্ডিয়া থেকে সুতা, কাপড় আমদানি করবেন, পণ্য জাহাজে থাকা অবস্থায় আপনার পেমেন্ট পরিশোধ করতে হবে।

কিছুদিন আগে আমরা দেখেছি একটি রুট থেকে ব্যাক টু ব্যাক এলসি দিয়ে বিদেশি প্রতারক চক্র হাজার হাজার কোটি টাকা নিয়ে গেছে। বায়াররা কী করে ঠিক করে দেন, কাপড় নিতে হবে চায়না থেকে, সুতা নিতে হবে অমুক দেশ থেকে। এখন তাদের কারণেই অনেক ক্ষেত্রে টাকা ফেরত আসছে না।

এখন দেশে ডলারের সংকট, এখন কেন গার্মেন্টসগুলোকে বলা হচ্ছে না দেশীয় যেসব শিল্প যেসব পণ্য উৎপাদনে সক্ষম সেগুলো বিদেশ থেকে আনা যাবে না। এখন কেন সেই আইন করা হচ্ছে না? আমরা এ বিষয়ে চিঠি দিয়েছি এনবিআরকে। সে কাজগুলো হচ্ছে না। ব্যাকওয়ার্ড ইন্ডাস্ট্রি বাংলাদেশের ব্লাড লাইন। আজ যারা গার্মেন্টসে কাপড় বানাচ্ছে তারা টোটাল শেয়ারের ২০ টাকার মালিক মাত্র। এখন আমি যদি বছরে ১২টা শিপমেন্ট ডেলিভারি দিই এবং এর মধ্যে যদি কোনো কারণে দুটিতে ব্যর্থ হই তাহলে আমার সেই ২০ টাকাও থাকে না।