বাংলাদেশে মাত্র ৫২ বছর বয়সে যে পরিমাণ শিল্প তৈরি হয়েছে এখানে ব্যাংকগুলো বেশ কিছু টাকা-পয়সা হিসাব-নিকাশ না করেই দিয়ে দিয়েছে। তবে এখানে একটা কাজ হয়েছে, বহু কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। হয়তো ব্যাংকগুলো সেই টাকা ফিরে পায়নি। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের একটা কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। দেশে কেউ তো না খেয়ে নেই।
আমরা সবসময়ই যে কথা বলি, তা হচ্ছে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে এখান থেকে টাকা-পয়সা বেরিয়ে গেছে। এখন গিয়ে কী হয়েছে সে কথাগুলোকে আমরা আমাদের আমলে নিইনি। ব্যবসায়ীদের আমরা ‘খারাপ’ ট্যাগ লাগিয়ে রেখেছি, তারা টাকা-পয়সা নিয়ে যায় ব্যাংক থেকে।
ব্যবসায়ীদের তিন ভাগে ভাগ করি। প্রথমত একেবারে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, দ্বিতীয়ত একদম বড় এবং তৃতীয়ত মধ্যবিত্ত। হাসপাতালগুলোতে ওরা এসে আমাদের হুমকি-ধমকি দেয় না। চিকিৎসা বিল হলে তারা খুব ভয়ে থাকে কীভাবে তারা তাদের বিল পরিশোধ করবে। কিন্তু বড়রা এসে তাদের রাজনৈতিক পরিচয় দিয়ে বিল পরিশোধ না করে চলে যায়। এর মধ্যে একদম ছোটরা এসব পারে না।
বড় ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান হচ্ছে, কর্মসংস্থান হচ্ছে। ছোটরা তাদের মতো। ওরা পারে না, তাদের জন্য আমরা সবাই কথা বলি। এসএমইদের জন্য কিছু করতে হবে। তাদের আমরা আটকে রাখি এবং তাদের আমরা বড় হতে দিই না।
ব্যাংকের মধ্যেও এসব ছোট ব্যবসয়ীদের জন্য তেমন কোনো সুযোগ থাকে না। ব্যাংকগুলো বলে, এরা আমদানির কী বোঝে? এদের টাকা দিলে এরা পারবে তো! এ জায়গায় আমাদের থাকলে চলবে না। বাংলাদেশি জনসংখ্যার অর্ধেক হচ্ছে নারীসমাজ। সে ক্ষেত্রে একসময় দুই থেকে পাঁচ হাজার নারী উদ্যোক্তা ছিল। আজকে ২০ হাজারের ওপর। তারা অল্প অল্প যে কাজ করে যাচ্ছে তাদের সহযোগিতা করলে তারা একটা ভালো জায়গায় চলে যেতে পারবে।