ফুলের গাছ খেয়েছিল ছাগল, টাকা খেলেন ওসি

ফুলের গাছ খেয়েছিল কয়েকটি ছাগল। এই ‘অপরাধে’ ছাগলগুলো থানার একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। এরপর টাকার বিনিময়ে সেগুলো ছাড়িয়ে নেন মালিকরা। গত শুক্রবার এ ঘটনা ঘটেছে বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার রেলওয়ে থানায়। ওই থানার ওসি মোক্তার হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি টাকার বিনিময়ে আটক ছাগলগুলো মালিকদের জিম্মায় ছাড়েন।

জানা গেছে, সান্তাহার রেলওয়ে জংশন স্টেশন থানার সৌন্দর্য্যবর্ধনের জন্য থানার পাশে খোলা জায়গায় কিছু ফুলের গাছ লাগানোর পরিকল্পনা করেন ওসি মোক্তার হোসেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী তিনি কিছু গাছ কিনে আনেন। কিন্তু সেই গাছগুলো ছাগল খেয়ে ফেলে। আর তাতেই রেগে যান ওসি মোক্তার। এরপর তিনি একে একে সব ছাগল ধরে নিয়ে আসেন পুলিশ সদস্যদের দিয়ে। গত শুক্রবার সকাল থেকে দিনব্যাপী সান্তাহার রেলওয়ে জংশন স্টেশনের বিভিন্ন এলাকা থেকে ১৪টি ছাগল থানায় নিয়ে আটকে রাখেন পুলিশ সদস্যরা। আটক রাখা হয় থানা এলাকায় আলামতের ঘরে। অন্যদিকে ছাগল মালিকরা তাদের ছাগলগুলোর খোঁজ করতে থাকেন। একপর্যায়ে জানতে পারেন ফুলের গাছ খাওয়ার অপরাধে রেলওয়ে থানায় আটকে রাখা হয়েছে ছাগলগুলো।

ছাগল মালিকরা থানায় গেলে ওসি বলেন, রেলপথের ভেতরে ছাগল এসেছে কেন? ফুলের গাছ খাওয়ায় ছাগলগুলো ফেরত দেওয়া হবে না। এমন পরিস্থিতিতে বিপাকে পড়েন দরিদ্র ছাগল মালিকরা। পুলিশের দাবি করা টাকা দিতে না পারলেও বাধ্য হয়ে তারা ছাগলপ্রতি ১০০-৩০০ টাকা করে দিয়ে নিজ নিজ প্রাণী নিয়ে যান।

ছাগল নিতে আসা শহরের চা-বাগান এলাকার সিয়াম নামে এক স্কুলছাত্র বলে, ‘আমার খালার ৪টি ছাগল আটকে রাখা হয়েছিল রেলওয়ে থানায়। আমি নিতে গেলে প্রথমে ৭০০ টাকা চাওয়া হয়। আমার সঙ্গে একজন ছিলেন। অনেক অনুরোধের পর ৩০০ টাকা দিয়ে ছাগলগুলো নিয়ে আসতে হয়েছে। পুলিশের পোশাক পরে একজন টাকা নিয়েছে। ফুলের গাছ খাওয়ার অপরাধে ছাগলগুলো আটক রাখা হয়েছিল। তাই টাকা দিয়ে ছাড়াতে হয়েছে।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ওসি মোক্তার হোসেন মোবাইল ফোনে বলেন, ‘রেলওয়ে আইন অনুযায়ী ছাগল ঢোকার কথা না, তার ওপর আবার আমার বাগানে এসে ফুলের গাছ খেয়েছে। থানার পুলিশ সদস্যরা দেখতে পেয়ে ছাগলগুলো আটক করে নিয়ে আসে।’

আটক করা ছাগলের সংখ্যা মনে নেই জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘পরে ছাগলগুলো মালিকদের হাতে দিয়ে দেওয়া হয়েছে। আর কেউ যদি বলে টাকা নেওয়া হয়েছে তাকে থানায় নিয়ে আসেন, আমি তার সামনে পুলিশ সদস্যদের হাজির করব, জানব কে নিয়েছে।’