গাজায় যুদ্ধবিরতির আহ্বান তিন পশ্চিমা দেশের

গাজায় দীর্ঘমেয়াদি টেকসই যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছে জার্মানি, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স। আন্তর্জাতিক পরিম-লে ইসরায়েলকে রক্ষায় ও সমর্থনে সামনের সারিতে থাকা এই তিন দেশ এমন সময় এই আহ্বান জানাল, যখন নরওয়ের রাজধানী অসলোতে যুদ্ধবিরতি ও জিম্মিদের মুক্তি নিয়ে কাতারেরর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করছে ইসরায়েল।

এদিকে গতকাল রবিবার বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, হামাসের ৮০ যোদ্ধাকে গ্রেপ্তার করেছে ইসরায়েল এবং পশ্চিম তীর থেকেও ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গাজায় দুই মাসের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধে প্রায় ১৯ হাজার প্রাণহানির পর জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমে ‘সানডে টাইমস’-এ লেখা নিবন্ধে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়। এতে বার্লিনের মন্ত্রী আন্নালেনা বেয়ারবক এবং ব্রিটিশ মন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন লেখেন, ‘আমাদের লক্ষ্য, কেবল আজ লড়াইয়ের অবসান ঘটানো না; বরং দিনের পর দিন বছরের পর বছর কিংবা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে চলা লড়াইয়ের অবসান ঘটানো।’

আবার ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্যাথেরিন কোলোনা বলেছেন, ‘গাজার পরিস্থিতি নিয়ে তারা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। কারণ এতে অনেক বেশি বেসামরিক মানুষ নিহত হচ্ছে। গাজার যুদ্ধে অবিলম্বে একটি যুদ্ধবিরতি হওয়া জরুরি। তাহলে জিম্মিদের মুক্ত করার জন্য একটি যুদ্ধবিরতির দিকে যাওয়া সম্ভব।’

কাতারের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ও জিম্মিদের উদ্ধার নিয়ে আলোচনায় লিপ্ত রয়েছে ইসরায়েলের গোয়েন্দা বাহিনী মোসাদ। কাতারের পক্ষ থেকে তা নিশ্চিত করা হয়েছে। এ অবস্থায় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ‘গভীর দুঃখের সঙ্গে আমি জানাতে চাই, অপহৃত ব্যক্তিদের ফিরিয়ে আনতে ও যুদ্ধে জয়ী হতে সামরিক চাপ প্রয়োজন রয়েছে।’

এ অবস্থায় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানায়, তারা গাজা উপত্যকার একটি হাসপাতাল থেকে অস্ত্রশস্ত্রসহ প্রায় ৮০ হামাস সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে।

জাতিসংঘের মানবিক সহায়তাবিষয়ক সংস্থা (ওসিএইচএ) দাবি করেছে, হাসপাতালের বাইরের অজ্ঞাত স্থান থেকে হাসপাতালের পরিচালক এবং আরও প্রায় ৭০ চিকিৎসাকর্মীকে আটক করেছে ইসরায়েলি বাহিনী।

এদিকে, ফিলিস্তিনের গাজা নগরীতে একমাত্র ক্যাথলিক গির্জা প্রাঙ্গণে গতকাল শনিবার ইসরায়েলি সেনার গুলিতে দুজন নারী নিহত হয়েছেন। তারা ধর্মে খ্রিস্টান এবং সম্পর্কে  মা-মেয়ে। ক্যাথলিক সম্প্রদায়ের হলি ফ্যামিলি ধর্মপল্লির ভেতর ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর এক সেনা দুই খ্রিস্টান নারীকে হত্যা করে। গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েল-ফিলিস্তিন যুদ্ধ শুরুর পর ওই গির্জা প্রাঙ্গণে খ্রিস্টান পরিবারগুলো আশ্রয় নিয়েছিল।