পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক মন্ত্রী ইমরান আহমদ আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবারও বিজয়ী হচ্ছেন এটা প্রায় নিশ্চিত। আগামী ৭ জানুয়ারি ভোটগ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাদের বিজয়ী ঘোষণা সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সিলেট-১ (সিটি করপোরেশন ও সদর উপজেলা) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ড. এ কে আবদুল মোমেনের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আলোচনায় থাকা আওয়ামী লীগেরই স্বতন্ত্র প্রার্থী দলের সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ গতকাল রবিবার নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। এ আসনে জাতীয় পার্টিরও কোনো প্রার্থী নেই। ড. মোমেনের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আরও চারজন প্রার্থী থাকলেও তারা ভোটের মাঠে একেবারেই অচেনা। একই চিত্র সিলেট-৪ (জৈন্তাপুর-গোয়াইনঘাট-কোম্পানীগঞ্জ) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী, প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ইমরান আহমদের ক্ষেত্রেও। ওই আসনেও আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র কিংবা জাতীয় পার্টির প্রার্থী নেই। ড. মোমেন ও ইমরান আহমদের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি), ইসলামী ঐক্যজোট, বাংলাদেশ কংগ্রেস ও তৃণমূল বিএনপির মতো নাম সর্বস্ব দলের প্রার্থী রয়েছেন। নির্বাচনী এলাকায় এই রাজনৈতিক দলগুলোর সাংগঠনিক কোনো ভিত্তি নেই এবং এসব দল থেকে যারা প্রার্থী হয়েছেন তারাও জনগণের কাছে অচেনা। ফলে সিলেট-১ ও সিলেট-৪ আসনের নির্বাচন প্রতীক বরাদ্দের আগেই ভোটের আমেজ হারিয়েছে।
তবে জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে অন্য চারটিতে আওয়ামী লীগ, আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র, জাতীয় পার্টি, আনজুমানে আল ইসলাহ, তৃণমূল বিএনপির প্রার্থীর কারণে কিছুটা নির্বাচনী উত্তাপ ছড়াচ্ছে। এসব আসনে নৌকার প্রার্থীদের বেশ চ্যালেঞ্জের মুখেও পড়তে হতে পারে।
সিলেট-১ আসনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেনের প্রতিদ্বন্দ্বীরা হলেন বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের আবদুল বাছিত, এনপিপির ইউসুফ আহমদ, ইসলামী ঐক্যজোটের ফয়জুল হক ও বাংলাদেশ কংগ্রেসের সোহেল আহমদ চৌধুরী। একাধিক ভোটারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে ড. মোমেনের প্রতিদ্বন্দ্বী এই প্রার্থীদের তারা চেনেন না। এই দলগুলোর সাংগঠনিক কর্মকা-ও চোখে পড়েনি।
সিলেট-৪ আসনে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ইমরান আহমদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন, ইসলামী ঐক্যজোটের নাজিম উদ্দিন ও তৃণমূল বিএনপির আবুল হোসেন। মন্ত্রীর প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে এই দুই প্রার্থীকেই নামমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী বলে মনে করছেন সাধারণ ভোটাররা।
এ ছাড়া সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানী নগর) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শফিকুর রহমান চৌধুরীর সঙ্গে ভোটের লড়াইয়ে রয়েছেন এ আসনের বর্তমান এমপি গণফোরামের মোকাব্বির খান, জাতীয় পার্টির প্রার্থী সাবেক এমপি ইয়াহইয়া চৌধুরীসহ আট প্রার্থী। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরী ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ইলিয়াস আলীকে পরাজিত করে সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন। এরপর ২০১৪ ও ২০১৮ সালে জাপাকে ছাড় দেওয়ায় তিনি প্রার্থী হতে পারেননি। ১০ বছর পর তিনি আবার প্রার্থী হওয়ায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত। এ আসনে শফিক চৌধুরী, মোকাব্বির খান ও ইয়াহইয়া চৌধুরীর মধ্যে ভোটের লড়াই জমে উঠতে পারে।
সিলেট-৩ (দক্ষিণ সুরমা-ফেঞ্চুগঞ্জ-বালাগঞ্জ) আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী হাবিবুর রহমানকে চ্যালেঞ্জ করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন দলের আরেক নেতা, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব ডা. ইহতেশামুল হক চৌধুরী দুলাল। এখানে জাতীয় পার্টি থেকে প্রার্থী হয়েছেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য আতিকুর রহমান আতিক। এ আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস দেখছেন অনেকে।
সিলেট-৫ (কানাইঘাট-জকিগঞ্জ) আসনে আওয়ামী লীগের বর্তমান সাংসদ হাফিজ আহমদ মজুমদার এবার প্রার্থী হননি। এ আসনে এবার মনোনয়ন পেয়েছেন সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মাসুক উদ্দিন আহমদ। তার সঙ্গে ভোটের লড়াইয়ে নেমেছেন আওয়ামী লীগেরই আরেক নেতা ড. আহমদ আল কবির। পাশাপাশি বাংলাদেশ আনজুমানে আল ইসলাহর সভাপতি মাওলানা হুসামুদ্দীন চৌধুরী ও জাতীয় পার্টির শাব্বীর আহমদও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। রাজনৈতিক অবস্থান ও ব্যক্তি ইমেজে এই চারজন প্রার্থীই ভোটারদের মধ্যে জোর আলোচনায় রয়েছেন।
সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। আর স্বতন্ত্র হিসেবে প্রার্থী হয়েছেন কানাডা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি সারওয়ার হোসেন। পাশাপাশি তৃণমূল বিএনপির চেয়ারপারসন শমসের মবিন চৌধুরী ও জাতীয় পার্টির সেলিম উদ্দিন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ আসনে নুরুল ইসলাম নাহিদের সঙ্গে সারওয়ার, শমসের ও সেলিমের ভোটের লড়াই জমে উঠতে পারে।