নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর হোসেন বলেছেন, ‘আমাদের এই কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সব নির্বাচনেই ভোটের দিন ব্যালট বাক্স পাঠানো হয়েছে। অন্তত এ কথা কেউ বলার সুযোগ পাবে না যে আগের রাতেই ভোট হয়েছে। আপনারা বিনা দ্বিধায় ভোটকেন্দ্রে যাবেন, আপনার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেবেন। স্বাধীনভাবে ভোট দেবেন।’
গতকাল মঙ্গলবার দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘কোনো সন্ত্রাসীমূলক কাজ করে নির্বাচন বন্ধ করা যাবে না। আমাদের লাখ লাখ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঠে থাকবে। আমরা আশা করি এবার ভালো ভোটার উপস্থিতি হবে। এবার অনেক প্রার্থী রয়েছেন, তাদের মধ্যে ভালো প্রতিযোগিতা হবে। দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা বাদ দিলে, বাংলাদেশের নির্বাচনের অবস্থা ভালো আছে। নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দর হবে এবং জাতি অত্যন্ত উৎসবের সঙ্গে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে।’
নির্বাচন কমিশনার আরও বলেন, ‘আপনারা কোনো কেন্দ্রে কোনো অপ্রীতিকর কিছু দেখলে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠান, ওনারা ব্যবস্থা নেবেন। সব গণমাধ্যম সব সময় সঠিক খবর দেয়, তা-ও না। সোশ্যাল মিডিয়ায় যেটা হয়, বেশিরভাগ এডিটেড জিনিস থাকে। দেখা যাবে কোনো এক ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের দৃশ্য এডিট করে জাতীয় নির্বাচনে চালিয়ে দিছে। তবে আপনাদের পাঠানো তথ্যটা আমরা তদন্ত করব। যদি সত্য হয়, তখন দেখেন যে ব্যবস্থা নিই কি না।’
প্রচার-প্রচারণায় বাধা এবং ভোটার উপস্থিতির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আইন সবার জন্য সমান। সবাই সমানভাবে নিজ নিজ প্রচার করতে পারবেন। কেউ যাতে কাউকে কোনো রকমের বাধা না দেয়।’
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহমুদুল হক, জেলা পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা রাসেলসহ জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশের অন্য কর্মকর্তারা।
কর্মীদের ফেলে কাপুরুষের মতো চলে যাবেন না : নির্বাচন কমিশনার আনিছুর রহমান বলেছেন, সবার অভিযোগ যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। যারা স্বতন্ত্র প্রার্থী আছেন, তারাও শক্তি-সামর্থ্য কম নিয়ে মাঠে নামেননি। তাদের মাঠে থাকতে হবে নির্বাচন শেষ হওয়া পর্যন্ত। কর্মীদের ফেলে কাপুরুষের মতো চলে যাওয়া সমুচিত হবে না।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে চাঁদপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীসহ নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট সব পর্যায়ের কর্মকর্তা-ব্যক্তির সঙ্গে বিশেষ আইনশৃঙ্খলা ও মতবিনিময় সভার শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘আমরা দেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে চাই। সেই লক্ষ্যে সব নির্বাচন কমিশনার দেশের বিভিন্ন স্থানে কাজ করে যাচ্ছেন।
এর আগে বিশেষ আইনশৃঙ্খলা ও মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। এ সময় রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান, জেলার ৫ আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীসহ নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট সব পর্যায়ের কর্মকর্তা-ব্যক্তিরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
পরে বিকেলে লক্ষ্মীপুর টাউন হল মিলনায়তনে বিশেষ আইনশৃঙ্খলা ও মতবিনিময়ে প্রধান অতিথি হিসেবে নির্বাচন কমিশনার মো. আনিছুর রহমান বলেছেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে হবে। না হলে বিদেশিদের কাছে এই নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না। নির্বাচনে আচরণবিধি সব প্রার্থীকে মেনে চলতে হবে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি বাড়ানোর জন্য প্রার্থীদের কাজ করতে হবে। এমন কিছু করবেন না, যাতে করে কমিশনকে কঠোর হতে হয়।
বিএনপিকে নির্বাচনে আনতে তাদের পায়ে ধরতে বাকি ছিল : নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আহসান হাবিব খান বলেছেন, ‘আমরা বিএনপিকে নির্বাচনে আনতে তাদের পায়ে ধরা বাকি রেখে সব চেষ্টা করেছি। এয়ারপোর্টে দেখা হয়েছে অনেক বিএনপি নেতার সঙ্গে। আমি তাদের হাত ধরে অনেক অনুরোধ করেছি নির্বাচনে আসার জন্য। কিন্তু তারা তো আমাদেরই স্বীকার করে না। তাহলে আমাদের অধীনে নির্বাচনে আসবে কেন?’
গতকাল বিকেলে মেহেরপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এই মতবিনিময় সভা হয়।
আহসান হাবিব বলেন, ‘নির্বাচনকালে সরকার অর্থনৈতিকসহ বিভিন্নভাবে চাপে আছে কি না, সেটা সরকার জানে। তবে আমরা কোনো চাপে নেই। বিদেশি কূটনীতিকরা এসে নির্বাচন-সম্পর্কিত আমাদের ব্রিফ শুনে ভেরি গুড বলেছেন। তারা কখনো আপত্তি বা অভিযোগ প্রকাশ করেননি।’
আহসান হাবিব খান আরও বলেন, ‘অনেক চ্যালেঞ্জ নিয়ে আমরা এই নির্বাচন করছি। তাই বলছি, নির্বাচনে কোনো হট্টগোল বা জালিয়াতি করার সুযোগ নেই। যেখানেই গ-গোল হবে, সেই কেন্দ্রেরই ভোট বন্ধ হবে। স্থানীয় প্রশাসনকে এমন নির্দেশ দেওয়া আছে। ভোট গ্রহণের সঙ্গে জড়িত কেউ কেন্দ্রে প্রভাব বিস্তার করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. আহসান হাবিব খানের সঙ্গে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গা জেলার চারটি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের সঙ্গে মতবিনিময় সভা হয়েছে।
প্রতিবেদনে সহযোগিতা করেছেন চাঁদপুর, মেহেরপুর ও লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি।