অর্থমন্ত্রী ছাড়া আর কেউ নেই নির্বাচনী প্রচারণায়

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনী প্রচারণার চতুর্থ দিনেও মাঠে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল (লোটাস কামাল) ছাড়া কুমিল্লা ১০ (নাঙ্গলকোট, সদর দক্ষিণ ও লালমাই উপজেলা) আসনে কোনো প্রার্থীকে দেখা যায়নি। হচ্ছে না স্ব স্ব প্রার্থীর মাইকিং।

এদিকে গত ১৮ ডিসেম্বর বিকেলে প্রতীক হাতে পাওয়ার পর কুমিল্লা ১০ আসনের আ.লীগের মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আ হ ম মুস্তফা কামালের এর পক্ষে নাঙ্গলকোট, সদর দক্ষিণ ও লালমাই উপজেলার প্রতি ইউনিয়ন আনন্দ মিছিল করে দলীয় নেতা-কর্মীরা। পরের দিন ১৯ ডিসেম্বর থেকে মুস্তফা কামাল নিজ উপজেলা লালমাইয়ের গৌয়ের ভাঙা বাজার থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন। ২০ ডিসেম্বর নাঙ্গলকোট উপজেলা ভোলাইন বাজারের, মান্দ্রা বাজার ও মুরগাঁওতে পথসভা করে নৌকার জন্য ভোট চান। প্রতিদিন এ তিন উপজেলার তিনটি করে ইউনিয়নে নির্বাচনীয় প্রচারণা চালাবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। 
জানা যায়, ২০০৮ সালের কুমিল্লা ১০ সংসদীয় আসনের গেজেট প্রকাশ হলে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে আ হ ম মুস্তফা কামাল নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে জয় লাভ করেন। ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নৌকা প্রতীক নিয়ে জয় লাভ করেন। 

চলমান দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আ.লীগের মনোনীত নৌকা প্রতীক প্রার্থী অর্থমন্ত্রীর আ হ ম মুস্তফা কামালের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জাতীয় পাটির মিসেস জোনাকির হুমায়ুন (নাঙ্গল), বাংলাদেশ কংগ্রেস থেকে মোহাম্মদ কামরুজ্জামান (ডাব), গণফোরাম থেকে মো. শহিদুল ইসলাম ভূইয়া (উদীয়মান সূর্য) ও বাংলাদেশ সুপ্রিম পাটি থেকে এম অহিদুর রহমান (একতারা) এ পাঁচ প্রার্থী। এ তিন উপজেলার কোথাও নৌকা মার্কার প্রচারণা ছাড়া বাঁকি প্রার্থীদের মাইকিং, ব্যানার পোস্টারসহ কোনো ধরনের প্রচারণা দেখা যায়নি। 

সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আ হ ম মুস্তফা কামালের মাইকিং ছাড়া আর কোনো প্রার্থীর মাইকিং দেখতেছি না। কামাল ছাড়া এ নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছে তাদের একজনকেও চিনি না। কোনোদিন এলাকায়ও তাদেরকে আসতে দেখিনি। এ প্রথম তাদের নাম লোক মুখে শুনেছি।

এ বিষয়ে নাঙ্গলকোট উপজেলা জাতীয় পাটির সভাপতি কাজি জামাল উদ্দিন বলেন, আমাদের পক্ষে থেকে বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে গণসংযোগ করা হচ্ছে। মাইকিংয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কয়েক দিনের মধ্যে মাইক দিয়ে প্রচারণা শুরু করব। 

এ বিষয়ে নাঙ্গলকোট উপজেলা চেয়ারম্যান সামছুউদ্দিন কালু বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। আমরা তার পক্ষে নাঙ্গলকোট উপজেলার প্রতিটি ওয়ার্ডে উঠান বৈঠক ও পথসভা করছি। সেই সঙ্গে আগামী ৭ জানুয়ারি কেন্দ্রে গিয়ে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করার জন্য ভোটারদের আহবান করছি। ইনশাআল্লাহ নৌকাকে জয়লাভ করিয়ে এ আসনটি বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে উপহার দিব। 

গণফোরামের (উদীয়মান সূর্য) প্রার্থী মো. শহিদুল ইসলাম ভূইয়া বলেন, আমাদের এখনও পোস্টার করা হয়নি। পোস্টার করে দল থেকে সিন্ধান্ত নিয়ে প্রচারণার কাজ শুরু করব। 

বাংলাদেশ সুপ্রিম পাটির (একতারা) প্রতীক প্রার্থী এম অহিদুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, তিনি এখনও নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেননি। তবে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। নির্বাচনী প্রচারণা কোনো বাঁধা নেই। 

এ বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেন বলেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, প্রতীক পাওয়ার পর থেকে সকল প্রার্থী আচারবিধি মেনে নির্বাচনী প্রচারণা চালাবেন। কোনো প্রার্থীর প্রচারণায় বাঁধা দিলে বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে আমাদের কাছে লিখিত বা মৌখিকভাবে অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।